ঢাকা, সোমবার, ৩১ ভাদ্র ১৪২৬, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

জিয়া ঝড়ে ফাইনালে শেখ জামাল

ইয়াসিন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৩-০১ ৫:৫৮:২৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৩-০১ ৭:০৯:০৪ পিএম
জিয়া ঝড়ে ফাইনালে শেখ জামাল
Walton E-plaza

ক্রীড়া প্রতিবেদক, মিরপুর থেকে : হামিদুলের লেন্থ বল সুইপ করলেন সোহান। বল গিয়ে পড়ল সোজা বাউন্ডারি রোপের ওপর। আম্পায়ার মুকুল ছক্কার ইঙ্গিত দিলেও সোহান বুঝতে পারছিলেন না দল জিতেছে কিনা!

১৭৬ থেকে দলের রান তখন ১৮২। জয়ের জন্য ওই রানটাই করতে হতো শেখ জামালকে। জয় নিশ্চিত হওয়ার পর ব্যাট উঁচিয়ে উদযাপন করলেন সোহান। সঙ্গে থাকা জিয়াউর রহমানও উঠালেন ব্যাট। দুজন জড়িয়ে ধরলেন দুজনকে। শাইনপুকুরকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ওয়ালটন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টির ফাইনালে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব।

আকাশছোঁয়া লক্ষ্য ছিল। তাতে শুরুতেই হোঁচট। ৬৫ রান তুলতেই টপ অর্ডারের ৫ ব্যাটসম্যান সাজঘরে। তান্না (১১) রান আউট হওয়ার পর ফারদীন (২২) ও নাসির হোসেন (১৬) সাজঘরে ফিরেন সোহরাওয়ার্দী শুভর বলে। হতাশ করেন হাসানুজ্জামান ও তানবীর হায়দার।

সেখান থেকে জিয়াউর ও সোহানের অবিচ্ছিন্ন ১১৭ রানের জুটিতে জয় পায় শেখ জামাল। সেটাও ১৪ বল আগে, ৫ উইকেট হাতে রেখে। শুরুর ধাক্কা সামলে নিয়ে সোহান ও জিয়াউর যেভাবে ব্যাটিং করে তাতে মুগ্ধ মাঠে উপস্থিত হওয়া প্রায় পাঁচ হাজার দর্শক। আগ্রাসী ব্যাটিং করেন জিয়াউর। ২৯ বলে ৪ চার ও ৭ ছক্কায় ৭২ রান করেন ম্যাচসেরা নির্বাচিত হওয়া জিয়াউর। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন সোহান। ৩১ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ৪৩ রান করেন শেখ জামালের অধিনায়ক।

ম্যাচের মোড় শেখ জামালের পক্ষে আসতে শুরু করে ১২তম ওভার থেকে। টিপু সুলতানের ওভার থেকে এক চার-ছক্কায় ১২ রান তোলেন জিয়াউর। শরীফুলের করা পরের ওভার থেকে শেখ জামাল পায় ২৪ রান। দুই নো বল, দুই ছক্কা, এক চারে শরীফুল ছিলেন বেহিসেবি। পরের দুই ওভারে আসে আরও ১৮ ও ১৪ রান। সেখান থেকে শেখ জামালকে আর ফেরানো যায়নি। দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান জয় নিয়ে ফেরেন।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো ছিল না শাইনপুকুরের। সালাউদ্দিন শাকিলের করা প্রথম ওভারে কোনো রান তুলতে পারেননি মোহাম্মদ রাকিব। উল্টো শেষ বলে সাজঘরের পথ ধরেন কভারে তান্নার হাতে ক্যাচ দিয়ে।

দ্বিতীয় উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন আফিফ হোসেন ও সাব্বির হোসেন। ৭১ বলে ১১৩ রানের জুটি গড়েন এ দুই ব্যাটসম্যান। শুরুটা নড়বড়ে হলেও ইনিংসের মাঝপথে ব্যাটিং দ্যুতি ছড়িয়ে স্কোরবোর্ডে দ্রুত রান তোলেন তারা। দ্বিতীয় ওভারে নাসিরকে চার মেরে রানের খাতা খুলেন আফিফ। তবে আরও ৪ রান যোগ করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ তুলেন এ ব্যাটসম্যান। কিন্তু উইকেটের পেছনে ক্যাচ নিতে পারেননি সোহান। পাওয়ার প্লে’তে শাইনপুকুরের রান ৩৭।

অষ্টম ওভার থেকে উইকেটের দুইপ্রান্ত থেকে আক্রমণ চালানো শুরু করেন আফিফ, সাব্বির। নাসিরকে স্লগ সুইপে ডিপ মিড উইকেট দিয়ে ছক্কা মেরে শুরু সাব্বিরের। ওই ওভারের চতুর্থ বলে আফিফও হাঁকান ছক্কা। নবম ওভারে জিয়াউর রহমানকে চার-ছক্কা হাঁকান সাব্বির। দশম ওভারে ডানহাতি ব্যাটসম্যানের ব্যাট থেকে আসে আরও একটি চার। ৩ ওভারে ৩৪ রান তুলে শুরুর ধাক্কা সামলে নেয় শাইনপুকুর। ১০ ওভারে তাদের রান ৭৭।

১৪তম ওভারে ঝড় যায় সালাউদ্দিন শাকিলের ওপর দিয়ে। নিজের প্রথম স্পেলে ২ ওভারে ৫ রান দেওয়া সালাউদ্দিন তৃতীয় ওভারে দেন ১৬ রান। প্রথম বলে ২ রান নিয়ে আফিফ ৩৭ বলে ছুঁয়ে ফেলেন পঞ্চাশ। দ্বিতীয় ওভারে কভারের ওপর দিয়ে ছক্কা মারেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। দারুণ ফ্লিকে তৃতীয় বলে চার। চতুর্থ বলে পয়েন্টের ওপর দিয়ে আবার চার। পঞ্চম বলে প্রতিশোধ নেন সালাউদ্দিন। টাইমিংয়ে গড়বড় করে আফিফ বোল্ড হন ৬৫ রানে। ৪১ বলে ৭ চার ও ৩ ছক্কায় শাইনপুকুরের অধিনায়ক সাজান নিজের ইনিসংটি।

সঙ্গী হারানোর পর সাব্বির বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। বাঁহাতি স্পিনার ইলিয়াস সানীর বলে সুইপ করতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন ৪৭ রানে। ৩২ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৭ করেন সাব্বির। এরপর শুভাগতর ১৭ বলে ৩১ ও তৌহিদ হৃদয়ের ১৭ বলে ২৪ রানের ইনিংসে মনে হচ্ছিল শাইনপুকুরের রান দুই’শ ছাড়িয়ে যাবে। কিন্তু পরপর দুই বলে এ দুই ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে শেখ জামালকে ম্যাচে ফেরান পেসার শহীদুল। এরপর শাইনপুকুরের রান বেশিদূর এগোয়নি। ৭ উইকেট হারিয়ে ১৮১ রান তুলে শাইনপুকুর।

শেখ জামালের সেরা বোলার সালাউদ্দিন শাকিল। বাঁহাতি পেসার ২৮ রানে নেন ৪ উইকেট। ২টি উইকেট নেন শহীদুল।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১ মার্চ ২০১৯/ইয়াসিন/আমিনুল

Walton AC
ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন
       
Walton AC
Marcel Fridge