ঢাকা, বুধবার, ২৫ চৈত্র ১৪২৬, ০৮ এপ্রিল ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:
করোনাভাইরাস

দক্ষিণ কোরিয়ায় কোনো মসজিদেই জুমার নামাজ হয়নি

মোহাম্মদ হানিফ, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৩-০২ ১২:৪৬:৩২ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৩-০২ ১২:৪৭:২৭ এএম

বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য শুক্রবার পবিত্র দিন। এ দিনে বিশ্বে প্রতিটি মসজিদ থেকে বাতাসের সূরে ভেসে আসা ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনিতে মুসল্লিরা ছুটে যায় মসজিদের দিকে।

কিন্তু এখন এই দিনে আজানের কোনো ধ্বনি শোনা যাচ্ছে না দক্ষিণ কোরিয়াতে সিউলে কেন্দ্রীয় মসজিদসহ কোনো মসজিদেই। জুমার নামাজ আদায় হয়নি। হচ্ছে না নিয়মিত পাচঁ ওয়াক্ত নামাজও। দক্ষিণ কোরিয়ার ভয়াবহ করোনাভাইরাসই তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কোরিয়াতে করোনাভাইরাসের প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ২৪ ঘন্টার মধ্যে নতুন করে ৫৯৪ জন সংক্রমিত হওয়ার কথা জানিয়েছে। এ নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৩৬ জনে। মারা গেছে ১৮ জন।

দক্ষিণ কোরিয়া মুসলিম ফেডারেশন সকল মসজিদে এক জরুরি নোটিশ জারি করে দিয়েছে। যেখানে লোকদের সমাগম না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছ। এবং মসজিদে ধর্মের সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দক্ষিণ আনসান মসজিদের খতিব মাওলানা মুমতাজুল হক বলেন, ‘আজ আমাদের এখানে জুমার নামাজ হয়নি। মসজিদের মেইন গেট বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ জানিয়েছিলো কোরিয়ার প্রশাসনসহ মুসলিম ফেডারেশন। সরকার থেকেও বারবার নির্দেশ আসতেছে জনবল নিয়ে কোনো ধরনের প্রার্থনা বা যে কোনো অনুষ্ঠান না করার জন্য। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজেও মুসল্লিগণ আসতে পারছে না। আমাদের আনসান মসজিদে প্রতি সপ্তাহে জুমার নামাজে প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০জন মুসল্লি নামাজ পড়তে আসে’।

এদিকে জুমার নামাজ বন্ধের বিষয়ে আনিয়াং মসজিদের খতিব হাফেজ আব্দুর রহমান বলেন, গত বুধবার বিকেলে কোরিয়ার মুসলিম ফেডারেশনের একটি নোটিশ হাতে পেয়েছি। সেখানে জুমার নামাজসহ মসজিদের সকল কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছিলো। কোরিয়ার মুসলিম ফেডারেশন জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতে এ ধরনের অনুষ্ঠান না করলে দেশ ও জাতি সবাই উপকৃত হবে। এই অবস্থার পরির্বতন ঘটলে আবার জুমার নামাজসহ সকল মসজিদ ভিত্তিক সকল কার্যক্রম চালু করার জন্য নোটিশ দিয়ে দেয়া হবে। কোনো মুসল্লিও মসজিদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতিও ছিলো না তাই আজ জুমার নামাজ হয়নি।

দেশটিতে মুসলমানের সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজার। সেই সঙ্গে দেঢ় লাখ বিদেশি মুসলিম কর্মজীবী রয়েছেন। কোরিয়াতে গত ৫০ বছরে মুসলমানদের সংখ্যা প্রায় ৫৪ গুণ বেড়েছে। ১৯৬৫ সালে যখন কোরিয়া মুসলিম ফেডারেশন স্থাপিত হয়, তখন মুসলমানের সংখ্যা ছিল মাত্র ৩ হাজার ৭০০। বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে ২ লাখের কাছাকাছি।

রাজধানী সিউলে বসবাস করা মুসলমানদের ১ লাখ ৫০ হাজারেরই বসবাস ইতেওয়ানে, যাদের এক-তৃতীয়াংশই নৃত্বাত্ত্বিক দিক থেকে কোরীয়। রাজধানী সিউলের এটি একটি ব্যস্ততম জেলা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম কেন্দ্রীয় মসজিদের অবস্থান এই জেলায়। এই মসজিদটি প্রথম নামাজের জন্য খুলে দেওয়া হয় ১৯৭৬ সালে। বর্তমানে কোরিয়াতে বিভিন্ন শহরে বড় মসজিদের সংখ্যা ২৭ টি এবং ছোট ছোট নামাজের ঘর রয়েছে প্রায় ১৮০টি।

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান ড. টেড্রস অ্যাডহানম গেব্রেইয়েসুস এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীন ও অলাভজনক গবেষণা প্রতিষ্ঠান জনস হপকিন্স সেন্টার ফর হেলথ সিকিউরিটির তথ্য অনুযায়ী, করোনাভাইরাসের সংক্রমণে বিশ্বে এপর্যন্ত ৮৫ হাজার ২৮৭ জন শনাক্ত হয়েছে এবং মারা গেছে ২ হাজার ৯২৮ জন। চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে সংক্রমিত হয়েছে ৩ হাজার ৬০০ জন এবং মারা গেছে অন্তত ৫০ জন।ভাইরাসটির বিস্তার ঘটেছে ৪৫টিরও বেশি দেশে।


দক্ষিণ কোরিয়া/সাইফ/নাসিম