ঢাকা, সোমবার, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০১ জুন ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

আব্বু তুমি হারানো দিনের মতো হারিয়ে গেলে

মোহাম্মদ নুরুল্লাহ, যুক্তরাজ্য থেকে : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৪-১৫ ৯:২৭:২১ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৫-০২ ৯:৫৪:৩৩ এএম
ছবি প্রতীকী

মানুষকে আল্লাহ অফুরন্ত নিয়ামত দান করেছেন। সেই অসাধারণ সুন্দর নিয়ামতের একটি সন্তানের জন্য তার মা-বাবা। 

বাবা, সন্তানের মাথার ওপর যার স্নেহচ্ছায়া বটবৃক্ষের মতো, সন্তানের ভালোর জন্য জীবনের প্রায় সবকিছুই নির্দ্বিধায় ত্যাগ করতে হয় তাকে, আদর-শাসন আর বিশ্বস্ততার জায়গা হলো বাবা।  বাবার তুলনা বাবাই।  যার কল্যাণে এই পৃথিবীর রূপ, রঙ ও আলোর দর্শন।  বাবা শাশ্বত, চির আপন, চিরন্তন।  বাবাকেই আদর্শ মনে করে সন্তানরা।  বাবা সন্তানকে শেখান, কীভাবে মাথা উঁচু করে পৃথিবীতে টিকে থাকতে হয়।

আজ বাবা আমাদের মাঝে নেই (১৪ এপ্রিল, মৃত্যুবার্ষিকী)।  তিনি আর কখনও আমাদের মাঝে আসবেন না।  আজ ৩ বছর বাবা ছাড়া।  বাবা চলে যাওয়ার পর শিখেছি অনেক বাস্তবতা।

‘আমার আব্বু’—এই দুটি শব্দের মধ্যে নিহিত আছে বাবার জন্য আমার বলা না-বলা যত আবেগ, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, গর্ব।  তাকে হারানো আমার কাছে দুঃস্বপ্নের মতো মনে হয়।  তার মৃত্যুর খবরটা শোনার পরও বিশ্বাস করিনি, ভেবেছি কোথাও কোনও ভুল হচ্ছে।

জীবন বহমান।  সকল হারানো কিংবা শোক-তাপের ঊর্ধেও জীবন আপন গতিতে চলবে।  এটাই চিরন্তন সত্য।  স্মৃতি শুধুই স্মৃতি।  কিছু স্মৃতি বড়ই বেদনাদায়ক।  কিন্তু স্মৃতিকে যেমন ভুলে থাকা যায় না, তেমনি অস্বীকারও করা যায় না।  আমি জানি, আমি আমার বাবাকে কতোটা ভালোবাসি। কিন্তু আজ আমার সেই ভালোবাসা আমি কাকে প্রর্দশন করবো? কাকে আমি সেই প্রিয় ‘আব্বু’ বলে ডাকবো? আমার ভাগ্যবিড়ম্বিত এই আক্ষেপ অন্তরের। এই জ্বালা কী কোনদিন নিভবে?

আমি আব্বু ছাড়া অসহায়।  আমার পথের চারদিক তিমিরে ঘেরা। আমাকে আপন করে আর কেউ ভালোবাসে না।  আব্বুর মতো মমত্ব নিয়ে কেউ তো আর এলো না জীবনে।  কেউ আর আব্বুর মতো নিঃস্বার্থ ভালোবাসে না।  বাবা খুব আবেগি ছিলেন।  আমাকে শাসন করতেন।  আদর করতেন।  পৃথিবীতে এমন কোনো ভাষা নেই, এমন কোনো সাহিত্য নেই যা দিয়ে আমার মনের এ ক্ষতকে প্রকাশ করতে পারবো। এমন কোনো সান্ত্বনার বাণী নেই, যা শুনিয়ে আমার বুকের মাঝে পাথরচাপা কষ্টগুলোকে কমানো যাবে।

আমার বাবা নেই।  আমার বটবৃক্ষ নেই।  যে আমার জন্ম থেকে তার শীতল ছায়া দিয়ে বড় করেছে, আমি সে মহীরুহ ছাড়া শূন্য হলাম।  এখন গ্রীষ্মের তাপদাহে আমার গা পুড়ে ছারখার হবে।  কেউ আর বটবৃক্ষের ছায়া নিয়ে আমার পাশে দাঁড়ায় না।  কেউ না। আমি সূর্যের তেজে মোমের মতো গলে গলে নিঃশেষ হয়ে যাবো ধীরে ধীরে।

আমার আব্বু আদর্শবান ছিলেন।  তিনি এখনো আমাদের সঙ্গে প্রতি মুহূর্তে থাকেন, এটা আমার অনুভব, আমার বিশ্বাস।  আমার জন্ম ও শিক্ষাজীবনের প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত।  চলার পথে, পারিবারিক জীবন ক্ষেত্রে, চাকরি জীবন, নানা ক্ষেত্রে অনেক ঝড়ঝাপটার সম্মুখীন হয়েছি। আব্বু আমার, তার মেধা, প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা দিয়ে আমাকে তার প্রশস্তবুকে আগলে রেখেছিলেন। এখন কোনো বিপদে দিশাহারা হয়ে পড়ি।  অভিভাবকহীনতার কষ্টে ভুগি।  কারও পরামর্শ চাইলে শুনতে হয়- ‘দেখ, তুমি অনেক বড় হয়েছো , ইংল্যান্ডে থাকো, আমাদের চেয়ে ভালো বুঝ- যা ভালো মনে কর, তাই কর।’

আব্বু তুমি নেই।  তুমি ছিলে আমাদের প্রাণ, আর আমিও  ছিলাম তোমার প্রাণ।  আল্লাহ আমার আব্বুর সব পাপ মাফ করো, তার রূহের শান্তি দাও, তাকে জান্নাত দাও।

মোহাম্মদ নুরুল্লাহ: কেমিস্ট, যুক্তরাজ্য প্রবাসী

 

/সাইফ/