ঢাকা, মঙ্গলবার, ১ আশ্বিন ১৪২৬, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

আমরা গল্প করে নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করেছিলাম || সুচন্দা 

সুচন্দা  : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৭-০৮-২৩ ৫:৩৮:০১ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৯-১১ ৫:২৬:০০ পিএম
আমরা গল্প করে নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করেছিলাম || সুচন্দা 
Walton E-plaza

১৯৬৬ সালে ‘কাগজের নৌকা’ সিনেমার মাধ্যমে আমার চলচ্চিত্রে অভিষেক। এরপর ১৯৬৭ সালে ‘বেহুলা’ সিনেমায় কাজ করি। এ সিনেমায় আমার বিপরীতে ছিলেন রাজ্জাক। এটিই রাজ্জাকের প্রথম সিনেমা। আর এই সুযোগটি দিয়েছিলেন জহির রায়হান।

প্রথম দিকে কাজ করতে গিয়ে রাজ্জাকের একটু জড়তা ছিল বলে মনে হচ্ছিল। তারপর পরিচালক নির্দেশ দিলেন- আমরা যেন গল্প করে নিজেদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলি। যাতে করে সহজভাবে শুটিং করতে পারি। কোনোরকম জড়তা যেন না থাকে। এভাবেই আমরা গল্প করে নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করে নিয়েছিলাম।

আমি কখনো রাজ্জাকের মধ্যে অহংকার দেখিনি। আমাদের সময় ছিল অন্যরকম। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ প্রখর ছিল। লক্ষ্য করে দেখেছি, তিনি সেটের সবাইকে আপন করে নিয়ে কাজ করতেন। এরপর ১৯৭০ সালে জহির রায়হান পরিচালিত ‘জীবন থেকে নেয়া’ সিনেমায় আমরা পুনরায় জুটি বেঁধে অভিনয় করেছি। এছাড়া ‘আনোয়ারা’, ‘দুই ভাই’, ‘সুয়োরানী দুয়োরানী’, ‘জুলেখা’সহ বেশ কিছু সিনেমায় আমরা জুটি বেঁধে অভিনয় করেছি।

রাজ্জাক খুব মিশুক প্রকৃতির মানুষ। তিনি সবার সঙ্গে কাজ করতে পারতেন। শিল্পীদের মধ্যে সমঝোতার বিষয়টি জরুরি- তিনি একে গুরুত্ব দিতেন। যে কারণে প্রতিটি সহশিল্পীর সঙ্গে তার বোঝাপড়া ভালো ছিল।

যেহেতু জহির রায়হান তাকে প্রথম নায়ক হিসেবে কাজ করার সুযোগ দিলেন, এ কারণে তার ভেতরে একটা কৃতজ্ঞতাবোধ ছিল সবসময়। তারপর জহির রায়হানের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়, একটা সম্পর্ক হয়। এমন নয় যে, অভিনয় করলাম, এরপর আর কোনো যোগাযোগ হচ্ছে না- এমন নয়। আমাদের মধ্যে পারিবারিক সম্পর্ক ছিল। সবার মধ্যে একাত্মতা, সমঝোতা ছিল। ‘বেহুলা’ সিনেমার পর যে কোনো সিনেমায় কাজ করতে গিয়ে রাজ্জাক জহির রায়হানের পরামর্শ নিয়েছেন। চলচ্চিত্রের অভিভাবক হিসেবেই তিনি পরামর্শ নিতেন। তার সঙ্গে এমন সহজ সর্ম্পক সব সময়ই ছিল।

রাজ্জাকের সঙ্গে সম্প্রতি খুব একটা আমার দেখা হতো না। তারপরও কোনো অনুষ্ঠানে অথবা কোথাও দেখা হলে সেই পুরোনো দিনে চলে যেতাম। আমরা এখনো সেই স্মৃতিচারণ করি। রাজ্জাক সত্যিই সাকসেসফুল। চলচ্চিত্র ও বাস্তব জীবনেও সফল তিনি। আমার মনে আছে, আমাদের সময় এখনকার মতো জন্মদিন পালন করা হতো না। তখন আমরা উইশ করতাম। কোথাও থেকে একটা ফুল নিয়ে তাকে উইশ করতাম। ‘শুভ জন্মদিন’ বলতাম। হয়তো কোনো একটা জংলি ফুল দিয়ে রাজ্জাককে শুভেচ্ছা জানিয়েছি। তখন কেক কাটা, দাওয়াত করা, ছবি তোলা- এগুলো ছিল না।

গত ২১ আগস্ট টেলিভিশনে দুঃসংবাদটি জানলাম। রাজ্জাকের সঙ্গে অনেক স্মৃতি রয়েছে। রাজ্জাক আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন। তার মৃত্যুর খবর শুনে আমি হতবাক হয়ে গিয়েছি। বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছি।

অনুলিখন : রাহাত সাইফুল



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৩ আগস্ট ২০১৭/রাহাত/তারা

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন
       
Marcel Fridge