ঢাকা, শুক্রবার, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০৫ জুন ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

মেহেরপুরে ঘাসের চাষ জমজমাট

মহাসিন আলী : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৫-১১ ২:৫১:১১ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৫-১১ ২:৫১:১১ পিএম

মেহেরপুরে বাণিজ্যিক কারণে ঘাসের চাষ জমজমাট। একদিকে গো-খাদ্যের সংকট, অন্যদিকে ঘাস ব্যবসা লাভজনক হওয়ায় এখানের চাষিরা ঘাস চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

খুব সহজেই অল্প পুঁজিতে ঘাসের ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছেন মেহেরপুরের এক শ্রেণির মানুষ।

জেলায় বিভিন্ন মাঠে শত শত বিঘা জমিতে ঘাসের চাষ হচ্ছে। তবে মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে ঘাস চাষের সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।

বিভিন্ন প্রকারের ঘাস থাকলেও নেপিয়ার ঘাস চাষে অধিক লাভ করা যায় বলে ঘাস চাষিরা জানিয়েছেন। তাই তারা বেশি বেশি নেপিয়ার ঘাসের চাষ করেন। প্রতি বিঘা জমিতে ১০-১২ হাজার টাকা ব্যয় করে বছরে ৫০-৬০ হাজার টাকার ঘাস বিক্রি করা যায়।

ঘাস চাষিদের বক্তব্য- বর্তমানে খৈল, ভুসি আর বিচালির দাম আকাশ ছোঁয়া। বিচালির চেয়ে সবুজ ঘাসে পুষ্টি আর খাদ্যগুণ বেশি। ঘাস খেলে গাভী তুলনামূলক দুধ অনেক বেশি দেয়। তাই গো খাদ্যের জন্য ঘাসের প্রতি অধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন সৌখিন গোবাদি পশু পালনকারি ও খামার মালিকরা।

ঘাসের বিপুল চাহিদাকে কাজে লাগাচ্ছেন জেলার অনেক চাষি ও অল্প আয়ের মানুষ। জেলার শত শত বাগানওয়ালা ৮ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত বাগানের ভেতরে ঘাস লাগিয়ে সাথী ফসলের কাজটি সেরে নিচ্ছেন। এতে গাছে ফল আসার আগেই বাগান মালিকরা লাভবান হচ্ছে। মেহেরপুরে উৎপাদিত নেপিয়ার ঘাস জেলায় বিক্রির পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতেও যাচ্ছে।

মেহেরপুর বামনপাড়ার বাসিন্দা মেহের আমজাদ বলেন, ‘বাড়িতে ২ টি গরু পোষা হচ্ছে সখ করে। মাঠে ঘাসপাতা পাওয়ার উপায় নেই। তাই বাধ্য হয়ে ঘাস কিনতে হচ্ছে।'

মেহেরপুর সদর উপজেলার উজুলপুর গ্রামের জিল্লুর রহমান বলেন, ‘বাড়িতে গরুর ফার্ম করেছি। সেখানে ২৫ টি গরু আছে। ঘাস কেনা ছাড়াও নিজেই ৭/৮ বিঘা জমিতে ঘাস লাগিয়েছি।'

মেহেরপুর শহরের ঈদগাপাড়ার ঘাস চাষি আশরাফুল জানান, এবছর তিনি নিজেই ৭ বিঘা জমিতে নেপিয়ার ঘাস চাষ করেছেন। আর ব্যবসার জন্য আরও ২৫ বিঘা জমির ঘাস অন্য চাষির কাছ থেকে কিনেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রতি বিঘা জমিতে মাত্র ৩ হাজার টাকা খরচ করে ঘাস রোপন করে প্রতি ২ মাস অন্তর বছরে ৫-৬ বার ঘাস সংগ্রহ করা যায়।'

শহরের স্টেডিয়াম পাড়ার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘এবছর ১০ হাজার টাকা করে ৪০ হাজার টাকায় ৪ বিঘা জমি লিজ নিয়ে ঘাস চাষ করেছি। এতে আমি ২ লাখ টাকার ঘাস বিক্রি করতে পারব।'

মেহেরপুর শহরের উপকণ্ঠ দিঘীরপাড়ার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘৫/৬ বছর ধরে ঘাসের ব্যবসা করছি। দিনে দিনে মেহেরপুরে ঘাসের চাষ বেশি হচ্ছে। ঘাসের ব্যবসায়ীও বৃদ্ধি পাচ্ছে।'

তিনি বলেন, ‘শহরের উপকন্ঠের ক্ষেত থেকে ৪ টাকা আটি দরে ঘাস কিনে এনে বিক্রির জন্য শহরে বসি। ৫ টাকা আটি দরে ওই ঘাস বিক্রি করি। প্রতিদিন কম পক্ষে ৩ শত আটি ঘাস বিক্রি করি।'

ওয়াপদা পাড়ার ঘাস ব্যবসায়ি মুক্তি বলেন, ‘অন্যান্য ব্যবসায় পুঁজি বেশি লাগে। শারিরিক পরিশ্রমও করতে হয় অনেক বেশি। সেই তুলনায় ব্যবসায় কম পুঁজি ও কম পরিশ্রমে বেশি লাভ করা যায়। তাই ঘাসের ব্যবসা শুরু করেছি।'

 

মেহেরপুর/টিপু