ঢাকা, বুধবার, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৭ মে ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

লেবু চাষে সফল কানাইঘাটের শাহরিয়ার

আব্দুল্লাহ আল নোমান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৫-১২ ৮:০৩:৩৭ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৫-১২ ১১:৫৮:০৩ এএম

শাহরিয়ার মাহমুদ। সিলেটের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক করেছেন। তার বাড়ি জেলার সীমান্তবর্তী কানাইঘাট উপজেলার সুরইঘাটে। গ্রামে তিনি লেবুর বাগান করেছেন। আর তাতেই সফলতা মুখ দেখছেন। করোনা সংকটে যেখানে ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত; সেখানে তিনি সপ্তাহে লেবু বিক্রি করে ৫ হাজার টাকার ওপরে লাভ করছেন।

সুরইঘাট বাজারের পাশেই তার বাড়ি। বাড়ির পাশে পাঁচ বিঘা জমিতে চাষ করেছেন বিভিন্ন জাতের লেবু। প্রায় তিন বছর হয়েছে এ বাগানের বয়স। প্রথম বছর বেশি বিক্রি না করতে পারলেও দ্বিতীয় বছর থেকেই লাভের মুখ দেখতে থাকেন তিনি। এ বাগানে তিনি ছাড়াও তার বাবা এবং ভাইয়েরাও সময় দিচ্ছেন।

সম্প্রতি তার বাগান ঘুরে দেখা গেছে, থোকায় থোকায় ঝুলছে লেবু। আছে কাগজি, চায়না, এলাচি এবং সিলেটের বিখ্যাত জাড়া লেবুও। তবে অন্যসব লেবু বিক্রি শুরু করলেও জাড়া লেবু এখনও ছোট। সবেমাত্র ফুল এসেছে জাড়ার গাছে। তার কথায়, একটি জাড়া লেবুর গাছে প্রায় সহস্রাধিক লেবু ধরে। জুন-জুলাই মাসে জাড়া পরিপক্ক হয়। এসময় একেকটি জাড়া লেবু ২ থেকে ২৫০ টাকায় পাইকারি দরে বিক্রি করতে পারেন তারা।

তিনি বলেন, লেবু বাগানটি মূলত তার পারিবারিক বাগান। তিনি বাড়িতে আসলে বাগানেই সময় দেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারাও তাদের নানা পরামর্শ দিয়ে থাকেন। পরামর্শ নিয়েই তারা বাগানের পরিচর্যা করেন। প্রতি সিজনে লেবু বিক্রি করে দেড়-দুই লাখ টাকা আয় হয় বলেও জানালেন তিনি।

উপজেলা কৃষি অফিস বলছে, কানাইঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি লেবুর চাষ হয়। বর্তমানে এ ইউনিয়নের ১০ হেক্টর জমিতে ছোট-বড় লেবু বাগান রয়েছে। আর পাহাড়ি এলাকা হওয়ার কারণে ফলনও ভালো।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এ এম ওমর ফয়সল জানান, টিলা এলাকা হওয়ার কারণে এ ইউনিয়নে লেবু জাতীয় সাইট্রাস ফলের ফলন ভালো হয়। বড় বড় বেশ কটি লেবুর বাগানও রয়েছে। ভালো ফলন আর স্থায়ী আয়ের কারণে অনেকে নতুন করে বাগান করতে আগ্রহও প্রকাশ করছেন। কৃষি অফিস থেকে লেবু চাষিদের সব ধরনের পরামর্শ প্রদান এবং তাদের বাগানের তদারকি করা হয় বলেও জানান তিনি।


সিলেট/ নোমান/বকুল