ঢাকা, বুধবার, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৭ মে ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

এক টুকরো জমিতে দারিদ্র্য জয়ের চেষ্টা

মামুন চৌধুরী : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৫-১৮ ১০:৪৩:২৯ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৫-১৮ ১:১৩:৪৯ পিএম

হবিগঞ্জের বাহবলে রশিদপুর পাহাড়ে এক টুকরো জমিতে বাগান গড়ে দারিদ্র জয়ের চেষ্টা করছেন চাষি মর্তুজা আলী।

এ পাহাড়ে প্রায় ১৮০ শতক টিলা জমিতে কঠোর পরিশ্রম করছেন বাহুবল উপজেলার সুন্দ্রাটিকি গ্রামের এ বাসিন্দা।

পাহাড়ি এ জমিটি ঘিরে তার অনেক স্বপ্ন। এ জমির কিছু অংশে জঙ্গল আছে। কিছু অংশে রয়েছে লেবু, কাঁঠাল ও কলা গাছ।

লেবু গাছের নিচে তিনি নাগা মরিচের চারা রোপণ করেন। রোপণের মাসখানেকের মধ্যেই গাছে ফলন দেখা দেয়।

সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কড়া রোদে সন্তানদের সাথে নিয়ে শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন এই চাষি। তার এ শ্রম বিফলে যাচ্ছে না। প্রতিদিনই গাছ থেকে নাগা মরিচ বিক্রি করে অর্থ পাচ্ছেন। প্রতিটি মরিচ বিক্রি হচ্ছে এক/দুই টাকা করে। অর্থ আসছে  লেবু বিক্রি করেও।

কঠোর শ্রমে ছোট এ বাগানটিতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে তাদের পরিবারে। এই করোনা পরিস্থিতিতে অভাব মোচনে নাগা মরিচ বিক্রির অর্থ বেশ সাহায্য করছে তাদের।

এদিকে নাগা মরিচ উৎপাদনে ক্ষেতে পানি সরবরাহেই বেশি বেগ পেতে হচ্ছে মর্তুজা আলীকে। বৃষ্টি না হলে মরিচ গাছের গোড়ায় পানি দিতে হয়।তবে গাছে গাছে নাগার ফলনে তেমন কোন সার প্রয়োগ করতে হচ্ছে না।

সরেজমিনে আলাপকালে এই চাষি জানান, টাকার অভাবে তিনি বাগানটিকে সাজাতে পারছেন না। বিদ্যুৎ না থাকায় পাম্পের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা কঠিন হচ্ছে। এ বাগানটি তার একমাত্র সম্বল। বাগানের আয়েই তার পরিবারের ভরণপোষণ চলে।

তিনি জানান, সরকারের আর্থিক সহায়তা পেলে পুরো বাগানে লেবু গাছ রোপণ করে ও নাগার মরিচের আবাদ বাড়িয়ে তিনি দারিদ্র জয় করতে পারবেন।   

এ ব্যাপারে কথা হয়, হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ মোঃ জালাল উদ্দিন এর সাথে। তিনি বলেন, ‘চেষ্টায় এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। চাষি মর্তুজা আলী নিজ চেষ্টায় এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তার দারিদ্র জয়ের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হোক। কৃষি বিভাগ তার পাশে আছে।'

 

হবিগঞ্জ/টিপু