ঢাকা, সোমবার, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬, ১৪ অক্টোবর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

‘শাকিব আমাকে ধর্ম চেঞ্জ করার জন্য প্রেসার দেয়নি’

অপু বিশ্বাস : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৭-০৬-২৮ ৮:১৭:০৫ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৬-২৯ ১২:৫৭:৩৮ পিএম

নাচের সঙ্গে তার প্রথম প্রেম সেই প্রেমের প্রথম প্রাপ্তি সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ ২০০৫ সাল মুক্তি পেল আমজাদ হোসেনেরকাল সকালে কিন্তু  নায়িকাখ্যাতি সিনেমায় পেলেন না বছর ঘুরতেই মুক্তি পেলকোটি টাকার কাবিন তার বিপরীতে নায়ক শাকিব খান ব্যস, এই এক সিনেমাতেই খুলে গেল সিসেম দুয়ার চলচ্চিত্রে তখন ক্রান্তিকাল সেই কালে একের পর পর ব্যবসাসফল সিনেমায় অভিনয় করে রাতারাতি দর্শক মনে জায়গা করে নিলেন তিনি মান্না, নিরব, ইমন, অমিত, মারুফ, সম্রাটের বিপরীতে অভিনয় করলেও জুটি গড়ে উঠল একজনের সঙ্গেই তিনি শাকিব খান পর্দার ন্যায় অপু বিশ্বাসের ব্যক্তি জীবনের নায়কও এখন শাকিব খান এই দম্পতি বিয়ের সংবাদ গোপন রেখেছিলেন দীর্ঘ আট বছর প্রেম, ধর্মান্তরিত হওয়া, বিয়ে, মাতৃত্বের স্বাদ, সংসারের হাঁড়ির খবর নিয়ে অপু বিশ্বাসের বয়ানে রাহাত সাইফুলের অনুলিখনে পড়ুন এই আয়োজনের তৃতীয় কিস্তি।

প্রথম পর্ব পড়ুন :  ‘পুরোহিত শাকিবকে বললেন, তুমি অপুকে সিঁদুর পরিয়ে দাও’

দ্বিতীয় পর্ব পড়ুন :  ভয় পেয়ে স্বীকার করেছিলাম সব কথা : অপু বিশ্বাস

শাকিবের সঙ্গে আমার সম্পর্কের কথা পরিবারে জানাজানি হওয়ার পর মা’র কড়া নির্দেশ ছিল আমি যাতে বাইরে না যাই। কিন্তু আমি দিদাকে পটিয়ে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার কথা বলে বের হতাম। দিদাও শাকিবকে খুব ভালোবাসতো। আমি ঢাকায় থাকাকালে শাকিব শুটিং শেষ করে আমার বাসার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতো। আমি বেলকুনিতে গেলে দুজনের দেখা হতো। শাকিব ছাদ খোলা গাড়ি থেকে আমাকে দেখত। তো আমাদের প্রেম মা তখনও মেনে নিতে পারেনি। একদিন তো মা শাকিবকে ডেকে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, যেদিন তুমি ওকে বিয়ে করবে সেদিন থেকে আমি আমার মেয়েকে ত্যাজ্য করবো। শাকিব কিন্তু মা’র সামনে দাঁড়িয়ে বলেছিল, আমি আপনার মেয়েকে বিয়ে করতে চাই। যাই হোক, আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম বিয়ে করার। 

শাহ আলীর মাজারে গিয়ে আমরা বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করলাম। ঠিক হলো, ২০০৮ সালের ১৮ এপ্রিল আমাদের বিয়ে হবে। আমাদের মাঝখানে ছিলো প্রযোজক মামুন ভাই। তিনি আমাদের অনেক সাহায্য করেছেন। শাকিব আমাকে বললো, বিয়েতে তুমি কি নেবে? আমি বিয়েতে লেহেঙ্গা পরার ইচ্ছার কথা বলেছি। কারণ হলো, এর আগে কয়েকটা সিনেমায় বিয়েতে আমি শাড়ি পরেছি। শাকিব আমার জন্য আড়াই লাখ টাকা দিয়ে লেহেঙ্গা কিনে আনল। রংটা লাল-সবুজ মেলানো। এছাড়া ডায়মন্ডের একটা সেটও নিয়ে এলো। বিয়ের তারিখ অনুযায়ী আমার বোন আর জামাইবাবু ঢাকা এসেছিল।

আমাদের বিয়ের কথা শুনে জামাইবাবু প্রথমে একটু রেগে গিয়েছিলেন। আমি হিন্দু শাকিব মুসলিম- এ হয় না। পরে দিদি জামাইবাবুকে বুঝিয়ে রাজি করায়। দিদির তরফ থেকে শাকিবকে ডায়মন্ডের রিং আর একটা পাঞ্জাবি গিফট করেন। বিয়েটা হয়েছে শাকিবের বাসায়। ওর ফুপাতো ভাইয়ের মেয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠান থাকায় সেদিন বাসা খালি ছিল। ওদিকে তখন আমাদের ‘মনে প্রাণে আছো তুমি’ সিনেমার শুটিং চলছিল।

বিয়ে করার দুই মাস পরে শাকিব পরিবারকে বিয়ের কথা বলেছে। ওর পরিবারের লোকজনই পরে আমার পরিবারকে জানায়। এর পরের অবস্থা ভয়াবহ! শাকিবের বাসায় আমি দেড় বছর পর্যন্ত যেতে পারিনি। এদিকে আমার বাসায় অনেক কান্নাকাটি হয়েছে। ধর্মান্তরিত হয়েছি শুনে অনেকে খুব কষ্ট পেয়েছেন। আমার দিদি সবাইকে বুঝিয়েছে। আমার মা পাঁচ বছর শাকিবের সঙ্গে কথা বলেনি। 

আমাদের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক অদ্ভুত। আমাদের সংসার জীবনে এখন পর্যন্ত আমরা শ্বশুর-শাশুড়ির সামনে ঘুমাতে যাইনি। তারা ঘুমিয়েছেন, তারপর আমরা ঘুমাতে গিয়েছি। তাদের সামনে কখনও আমরা গল্পও করিনি। আজ পর্যন্ত শাকিবকে বলিনি, এসো সেলফি তুলি। এসব আমাদের ভীষণ লজ্জা লাগতো। জানটুস, বাবু এই টাইপের কিছু আমরা কখনও ডাকিনি। ও আমাকে ন্যাচারালি ‘অপু’ ডাকতো। তবে শাকিবকে বেশিরভাগ সময় আমি খাইয়ে দিতাম।

ধর্ম পরিবর্তন করে আমি নিজে নিজেই ইসলাম ধর্মের বিষয়গুলো শিখেছি। এছাড়া আমার সঙ্গে থাকেন শেলি আপু। তিনি খুব ধার্মিক। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন। তিনি আমাকে সহযোগিতা করেছেন। প্রথম এক-দুই বছর আমি কিছু বুঝতাম না। এরপর আস্তে আস্তে বুঝতে শিখেছি। একবার শাশুড়ি বললেন, সাতাশের রোজায় একটা নামাজ আছে। তুমি এ নামাজ মসজিদে গিয়ে পড়। তখন আমি সবাই যেমন করতো আমিও ঠিক তেমন করতাম। সবাই যখন বসতো তখন আমিও বসতাম। সবাই যখন উঠত তখন আমিও উঠতাম। এভাবে নামাজ পড়েছি। আমার মতে, একটা হিন্দু মেয়েকে বিয়ে করেছে যখন, তখন শাকিবেরই উচিত ছিলো লোক রেখে আমাকে ধর্ম শিক্ষা দেয়ার। তবে এটা ঠিক, শাকিব আমাকে ধর্ম চেঞ্জ করার জন্য কখনই প্রেসার দেয়নি।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৮ জুন ২০১৭/তারা

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন