ঢাকা, রবিবার, ৬ আশ্বিন ১৪২৬, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

ভাগ্যে শনির সাড়ে সাতির প্রভাব কাটাতে করণীয়

ফজলে আজিম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৭-১২-২১ ১১:৩৫:২৫ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৬-১৬ ১১:১৬:২৫ এএম
ভাগ্যে শনির সাড়ে সাতির প্রভাব কাটাতে করণীয়
প্রতীকী ছবি

ফজলে আজিম : প্রতিটি মানুষের জীবনে সময়ের পরিক্রমায় কখনো ভালো সময় আবার কখনো প্রতিকূল সময় অতিক্রম করতে হয়। এটাই স্বাভাবিক।

জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, প্রতিটি মানুষের জীবনে গ্রহ নক্ষত্রের প্রভাব রয়েছে। শুভ গ্রহের প্রভাবে জীবনে সুখ ও সাফল্য আসে। জীবন হয় আনন্দময়। আবার অশুভ গ্রহের প্রভাবে নানারকম প্রতিকূল পরিবেশ ও পরিস্থিতি অতিক্রম করতে হয়।

জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, শনি হচ্ছে কর্মকারক গ্রহ। প্রাচ্য জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, মকর ও কুম্ভ রাশির অধিপতি গ্রহ হচ্ছে শনি। শনিগ্রহে সূর্যের আলো পৌঁছায় না বলে এটি একটি অন্ধকার গ্রহ। প্রতিটি রাশি অতিক্রম করতে শনি গ্রহের আড়াই বছর সময় লাগে।

কারো রাশিচক্রে শনির অশুভ প্রভাব থাকলে কর্মে বাধা, বিয়ে ও সন্তানলাভে বিলম্ব, ব্যবসায়ে ক্ষতি, দাম্পত্য অসুবিধা ছাড়াও নানারকম অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয়। অনেক পরিশ্রম করলেও কর্ম অনুসারে ফল পেতে বিলম্ব হয়।

শনির সাড়ে সাতি মানেই কর্মে বাধা, পেশাগত, পারিবারিক ও দাম্পত্য জীবনে ভুলবোঝাবুঝি কিংবা আর্থিক সমস্যাই নয়, এ সময়ে অনেকে ধাপে ধাপে সাফল্যের শিখরে ওঠেন। জীবনে নতুন মোড় নেয়। নানারকম প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলার মাধ্যমে সাফল্য ও প্রাচুর্যের পথে অগ্রসর হন।

অনেকে শনির সাড়ে সাতি কথাটি শুনলে ভয় পান। কারণ আমরা জানি শনি বাধাকারক গ্রহ। কাজে বিলম্ব, সম্পর্কে অবনতি, ব্যবসায়ে ক্ষতি, অপবাদ, দুর্ঘটনা এমন আরো অনেক কিছু শনির সাড়ে সাতির সময় দেখা যায়। এর ভালোমন্দ অনেক কিছুই রয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক।

শনির সাড়ে সাতি কী?

শনি গ্রহ যখন জন্মকালীন চন্দ্ররাশির দ্বাদশ, প্রথম ও দ্বিতীয় ঘর অতিক্রম করে এ সময়কালকে শনির সাড়ে সাতি বলা হয়। রাশিচক্রে শনি একেক রাশি অতিক্রম করতে সময় লাগে আড়া্ই বছর। তিনটি রাশি অতিক্রম করতে সময় লাগে মোট সাড়ে সাত বছর। এই সাড়ে সাত বছরকে বলা হয় শনির সাড়ে সাতি।

প্রতিকার

প্রতিকার দুই ধরনের। প্রথমত প্রার্থনা ও অভ্যাস বদল। দ্বিতীয়ত রত্মধারণ, গ্রহশান্তি, মূল বা ধাতু ধারণ।

প্রার্থনা ও অভ্যাস বদল

জ্যোতিষের কাছে এলে অধিকাংশ মানুষ অশুভ গ্রহ প্রতিকারের জন্য রত্ম ব্যবহারের কথা বলেন। অনেকক্ষেত্রে তারা ভুলেই যান সব সমস্যার সমাধান রত্মে হয় না। কিছু কিছু সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে লালিত কিছু অভ্যাসচক্র থেকে বেরিয়ে আসতে হয়। সব কিছুর আগে দরকার সচেতনতা। তারপর প্রতিকার। আপনি সচেতন না হয়ে যতই প্রতিকারমূলক রত্ম, ধাতু বা মূল ব্যবহার করেন না কেন তেমন লাভ হবে না। প্রথমেই আপনাকে কিছু অভ্যাস চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে হবে যেগুলো আপনার জন্য ক্ষতিকর। তাহলেই আপনি অনেক সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন। অশুভ শনির প্রভাবে অনেকে আলস্য ও নেতিবাচকতার চক্রে ঘুরপাক খান। এ থেকে বের হওয়ার জন্য নিজের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে কর্মব্যস্ততার বিকল্প নেই। আলস্য যে কোনো মানুষের এগিয়ে চলার পথে সবচেয়ে বড় বাধা। এ কথাটি কমবেশি সবাই জানে।

রত্মপাথর ব্যবহারে উপকার আছে কথাটি সত্য। তবে নকল রত্ম ধারণ করে কোনো লাভ নেই। এখনকার সময়ে ভালোমানের রত্ম পাথর পাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য। আর তাই জীবনের যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলায় নিয়মিত প্রার্থনা ও শৃঙ্খলার সঙ্গে কাজে লেগে থাকার বিকল্প নেই।

শনির সাড়ে সাতির সময় বেশ কিছু বিষয়ে সচেতন থাকতে হয়। প্রথমেই আপনাকে সময় সচেতন হতে হবে। আপনি যদি কাজকর্মে শিথিলতা প্রদর্শন করেন তবে ক্ষতিটা আপনারই হবে। কারো দোষ দিয়ে লাভ নেই। অধিকাংশ মানুষ এ সময়ে শৃঙ্খলা ও সময়ানুবর্তীতার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে পারে না। তাই নানারকম প্রতিবন্ধকতার শিকার হন। প্রতিটি কাজ গুরুত্ব অনুসারে ধারাবাহিকভাবে শৃঙ্খলার সঙ্গে করুন। দেখবেন আপনার কর্মে বাধা কেটে যাবে।

আপনি যেই ধর্মের অনুসারী হোন না কেন গভীর বিশ্বাসের সঙ্গে প্রার্থনা করুন। স্রষ্টা সচেতনতা পারে আপনাকে যেকোনো সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে।

তর্ক এড়িয়ে চলুন। এ সময় আপনজনদের সঙ্গে কোনো রকমের ভুলবোঝাবুঝি যাতে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। কেউ আপনাকে কিছু করে দেবে এমন আশা না করে নিজের দক্ষতা, যোগ্যতা ও সামর্থকে কাজে লাগিয়ে সবসময় কোনো না কোনো কাজে ব্যস্ত থাকুন।

বিনয়ী হোন, ভুল হলে বিনয়ের সঙ্গে স্বীকার করে নিন। কেননা কেউ ইচ্ছা করে ভুল করে না। আমরা ভুলকে অস্বীকার করার জন্য মিথ্যা ও ছলনার আশ্রয় নিয়ে তার চেয়ে বড় ভুল করে সম্পর্ককে অশান্ত করে ফেলি।

রত্ম প্রতিকার

রত্ম নির্বাচনের সময় জাতক/জাতিকার মহাদশা-অন্তর্দশা ও অন্যান্য গ্রহাবস্থান বিবেচনা করে রত্মপাথর ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। অশুভ শনির প্রতিকারের জন্য সাধারণত নীলা পাথর ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে অভিজ্ঞ অ্যাস্ট্রোলজারের পরামর্শ ছাড়া কোনো রত্মপাথর ব্যবহার করা ঠিক নয়। রত্মপাথর ব্যবহারের যেমন উপকার রয়েছে তেমনি তা কারো কারো ক্ষেত্রে ক্ষতির কারণ হতে পারে।

জ্যোতিষশাস্ত্র সম্পর্কিত কোনো তথ্য বা পরামর্শের জন্য যোগাযোগ: fazleazim09@gmail.com।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২১ ডিসেম্বর ২০১৭/ফিরোজ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন