ঢাকা, সোমবার, ১ আশ্বিন ১৪২৬, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

পুরান ঢাকায় হালখাতার হালচাল

আসাদ আল মাহমুদ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৪-১৩ ৪:৫৬:২৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৪-১৩ ৪:৫৬:২৯ পিএম
পুরান ঢাকায় হালখাতার হালচাল
Walton E-plaza

আসাদ আল মাহমুদ : রোববার পয়লা বৈশাখ। বাংলা বর্ষপঞ্জির প্রথম মাসের প্রথম দিন। বাঙালি জাতি পয়লা বৈশাখ উদযাপনের মাধ্যমে বাংলা নববর্ষকে (১৪২৬) বরণ করে নেবে।

প্রতিবছরেই এ দিনটিকে একটু আলাদাভাবে বরণ করেন রাজধানীর পুরান ঢাকার ব্যবসায়ীরা। হালখাতার মাধ্যমে এবারো খুচরা ও পাইকারি ক্রেতাদের নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পয়লা বৈশাখকে বরণ করতে প্রস্তুত তারা।

রাজধানী ঢাকার অন্যান্য এলাকার ব্যবসায়ীরাও হালখাতা করেন। তবে পুরান ঢাকার হালখাতা একটু ব্যতিক্রমী। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনেই তারা লালসালু কাপড়ে মোড়ানো নতুন খাতা খুলবেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুরান ঢাকার শ্যামবাজার, বাংলাবাজার, তাঁতীবাজার, শাঁখারীবাজার, নয়াবাজার, বংশাল, কাপ্তানবাজার, মৌলভীবাজার, মিডফোর্ড, লক্ষ্মীবাজার, ইসলামপুরের কাপড়ের দোকানে বেশি হালখাতা হয়। চৈত্র মাসের শুরু থেকে নিমন্ত্রণপত্র ছাপিয়ে ব্যবসায়ীরা তাদের ক্রেতাদের নিমন্ত্রণ জানিয়েছেন। অনেক ব্যবসায়ী নিমন্ত্রণপত্র দেওয়ার পাশাপাশি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নিমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

পয়লা বৈশাখের দিন সনাতন ধর্মের (হিন্দু) ব্যবসায়ীরা গণেশ পুজা দিয়ে, সোনা-রুপার পানি ও গোলাপ জল ছিটিয়ে হালখাতা শুরু করবেন। বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা এসে বকেয়া টাকা পরিশোধ করবেন। তাদেরকে মিষ্টিসহ বিভিন্ন রকমের খাবার খাওয়ানো হবে। এরপর তারা নতুন করে লেনদেন শুরু করবেন।

মুসলিম ব্যবসায়ীরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দোয়া মাহফিল ও গোলাপ জল ছিটিয়ে শুরু করবেন বছরের প্রথম দিনের কাজ। অতিথি আপ্যায়নে ব্যবসায়ীরা নামকরা মিষ্টির দোকানে অর্ডার দিয়েছেন। পাশাপাশি থাকছে পুরান ঢাকার ঐতিহ্য বাকরখানি, রুটি, বিস্কুট ও বিভিন্ন ফল।

পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রায় সাহেববাজার, সিক্কাটুলি, তাঁতীবাজার, শাঁখারীবাজার, মৌলভীবাজার, বেগমবাজার, উর্দু রোড, চকবাজার, কাপ্তানবাজার, মোঘলটুলিসহ পুরান ঢাকার ব্যবসায়ীরা ‘শুভ বাংলা নববর্ষ’, 'শুভ হালখাতা' লেখা ব্যানার ঝুলিয়ে রেখেছেন তাদের দোকানের সামনে। অনেক ব্যবসায়ী তাদের প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন রঙের বাতি, ফুল, শোলা দিয়ে সাজিয়েছেন।

এ বিষয়ে কথা হয় তাঁতীবাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী অরুণ কর্মকারের সঙ্গে। তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, রোববার নতুন বছর শুরু হবে। নতুন বছরের প্রথম দিন (পয়লা বৈশাখ) দোকান খুলে গণেশ পুজা দিয়ে আগরবাতির ধোঁয়া, সোনা-রুপার পানি ও গোলাপ জল ছিটিয়ে নববর্ষ পালনের মাধ্যমে ব্যবসা শুরু করা হবে। বিভিন্ন ব্যবসায়ী-ক্রেতাদের কাছে বকেয়া টাকা পাওনা আছে তা উল্লেখ করে দাওয়াতি কার্ড পাঠানো হয়েছে। তারা এসে বকেয়া টাকা পরিশোধ করবেন।  তাদেরকে (ক্রেতা) মিষ্টি, দই, চিরা, বাকরখানি রুটিসহ বিভিন্ন মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়াব।

মৌলভীবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী জনতা এন্টারপ্রাইজের মালিক আক্কাস হোসেন মোহন রাইজিংবিডিকে বলেন, পয়লা বৈশাখের দিন আমার এ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে মিলাদ পড়াব। তারপর বিভিন্ন এলাকা থেকে কাস্টমার (ক্রেতা) এসে তাদের বকেয়া টাকা দেবেন। তাদের নাম টালি খাতা থেকে কেটে দেওয়া হবে। নতুন খাতায় নাম ওঠানো হবে।

তিনি বলেন, ক্রেতাদের আপ্যায়ন করা হবে। নতুন করে টালি খাতায় নাম ওঠানো হবে। তাদের সঙ্গে ফের লেনদেন শুরু হবে। আপ্যায়নের জন্য ইতিমধ্যে কয়েকটি মিষ্টি ও ফলের দোকানে অর্ডার দেওয়া হয়েছে।

শাঁখারীবাজারের অমিয় গোল্ড মিউজিয়ামের প্রোপ্রাইটার শম্ভু সাহা বলেন, অনেক আগে থেকেই চলে আসা হালখাতা রীতি এখনো ধরে রেখেছি। কাস্টমারকে (ক্রেতা) মিষ্টিমুখ করানো থেকে শুরু করে হালখাতা খোলা, গণেশের পূজা করা হয়। মিষ্টি, ক্ষীর, হালিম, কোমল পানীয় থেকে শুরু করে অনেকে বিরিয়ানি/ তেহারি দিয়ে হালখাতা করে।

বংশালের নয়নস্মৃতি ভাণ্ডারের মালিক রবিন ঘোষ রাইজিংবিডিকে বলেন, পয়লা বৈশাখে পূজা সেরে নতুন টালি খাতা খোলা হবে। যাদের কাছে টাকা বকেয়া রয়েছে তাদের দাওয়াত কার্ড দেওয়া হয়েছে এবং মোবাইল ফোনে কথা হয়েছে। তারা প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও বকেয়া টাকা দিয়ে নতুন খাতায় নাম ওঠাবেন। আমরা তাদের দই-মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করাব।

এদিকে স্বর্ণের দাম খুব চড়া হওয়ায় তা সাধারণ ক্রেতাদের সাধ্যের বাইরে চলে গেছে বলা যায়। ফলে বেচাকেনা তেমন ভালো হয়নি বলে জানালেন শাঁখারীবাজারের বিথী জুয়েলার্সের মালিক অরুণ কুমার রাজবংশী। তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, এখন তো কেউ আর ৫/৭ ভরি স্বর্ণের গহনার অর্ডার দেয় না। এমনকি বিয়েসহ বিভিন্ন দাওয়াতে স্বর্ণের জিনিস উপহার দেওয়া কমে গেছে। বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান হলে গহনার অর্ডার দিচ্ছে ২/৩ ভরির। তাই আমাদের ব্যবসা এখন মন্দা যাচ্ছে। তারপরও বকেয়া টাকা আদায়ের জন্য হালখাতা করছি।

তিনি বলেন, সবাইকে দাওয়াত দিয়েছি। তারা এলে মিষ্টিমুখ করিয়ে বকেয়া টাকা তোলা হবে। হালখাতা না করলে বাকি টাকা তাদের কাছ থেকে তোলা যায় না।

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৩ এপ্রিল ২০১৯/আসাদ/রফিক

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন
       
Marcel Fridge