ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৮ মে ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

হত্যা মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন

মো. শরিফুর রহমান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৭-০৩-০৯ ৬:০১:০৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৩-০৯ ৬:০২:০৮ পিএম

শেরপুর সংবাদদাতা : শেরপুরে বিল্লাল হোসেন (১২) হত্যা মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

শেরপুরের অতিরিক্ত দায়রা জজ মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিনের আদালত আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে ছয়মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

আসামিরা হলো- ঝিনাইগাতীর গিলাগাছা গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে নূর হোসেন (১৬), শেরপুর পৌর শহরের শেরীপাড়া মহল্লার আব্দুর রশিদের ছেলে ছানুয়ার হোসেন ওরফে মান্নান (১৫) ও একই মহল্লার মৃত শাহাদতের ছেলে বিষু (১৯)। এদের মধ্যে ছানুয়ার হোসেন জামিন নেওয়ার পর পলাতক রয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, দণ্ডপ্রাপ্ত এ তিন কিশোর রেস্টুরেন্টে কাজ করার পাশাপাশি চোরদলের সদস্য ছিল। ২০১১ সালের ২৩ মে আসামি নূর হোসেন একটি মোবাইল চুরি করে তা বিক্রি করে। এ সময় নবীনগর এলাকার মকবুল হোসেনের ছেলে রেস্টুরেন্ট কর্মচারী বিল্লাল হোসেন তা দেখে ফেলে এবং টাকার ভাগ চায়। কিন্তু নূর হোসেন তাকে টাকা দিতে অস্বীকার করে। পরদিন বিল্লাল কয়েকজনের সামনে নূর হোসেনকে চোর বলে গালি দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নূর হোসেন তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মাফিক ২৪ মে রাতে নূর হোসেন তার সহযোগী ছানুয়ার ও বিষু মিলে বিল্লালকে ফুঁসলিয়ে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সিনেমা দেখায়। পরে তাকে সদর উপজেলার ভাটারাঘাট এলাকার মৃগী নদীর তীরে নিয়ে যায়। সেখানে এ তিনজন বিল্লালের পা বেঁধে গরুর ধারালো হাড় দিয়ে গলা ও পেট কেটে ফেলে। এক পর্যায়ে মৃত্যু নিশ্চিত করতে বিল্লালের মলদ্বারে লাঠি ঢুকিয়ে তার নাড়িভূড়ি বের করে আনে। পরে লাশ একটি ট্রাংকে ভরে নদীতে ফেলে দেয়। পর দিন জেলেরা মাছ ধরতে গিয়ে লাশের সন্ধান পায়। পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘাতক তিনজনকে গ্রেপ্তার করে এবং তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।

পরে সদর থানার উপপরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল মামুন বাদী হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ৩১ আগস্ট সদর থানার উপপরিদর্শক মো. মোস্তাফিজুর রহমান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলেও আসামিদের বয়স কম হওয়ায় মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হলো।



রাইজিংবিডি/শেরপুর/৯ মার্চ ২০১৭/মো. শরিফুর রহমান/বকুল

     
 

আরো খবর জানতে ক্লিক করুন : শেরপুর, ময়মনসিংহ বিভাগ