ঢাকা, শুক্রবার, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২২ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

আদিবাসী শিশুরা পেল শিক্ষা সামগ্রী

মামুন চৌধুরী : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৭-০৫-২৮ ১:৪৭:১১ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৫-২৮ ১:৪৭:১১ পিএম

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : সবুজে ঘেরা দুর্গম পাহাডের সৌন্দর্য উপভোগের মতো সময় বা মন-মানসিকতা তাদের নেই। দুবেলা দুমুঠো পেটের ভাত যোগাতেই যাদের দিন কাটে, প্রকৃতির নৈস্বর্গিক সৌন্দর্য উপভোগের অবসর তাদের কোথায়!

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার কালেঙ্গা পাহাড়ের কালিয়াবাড়ির আদিবাসী পুঞ্জিতে প্রায় ৬৩টি পরিবারের আড়াইশতাধিক লোকজন বসবাস করছে। এখানকার বাসিন্দাদের নিত্য সঙ্গী অভাব। তারা দিন এনে দিন খায়।

শত প্রতিকুলতার মধ্যেও শতাধিক শিশু স্কুলে লেখাপড়া করছে। কিন্তু তাদের শিক্ষা উপকরণের অভাব রয়েছে। এ পুঞ্জি থেকে হেঁটে দুই কিলোমিটার গিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ও পাঁচ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কালিকাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে। বনের ভেতর দিয়ে এভাবে যাওয়া অনেক কষ্টসাধ্য এসব শিশুর জন্য। কখনো প্রচণ্ড রোদ, কখনো ঝড়-বৃষ্টির সঙ্গে যুদ্ধ করে নিয়মিত স্কুলে যেতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে পুঞ্জির শিশুদের।

এসব কথা জানার পর শিশুদের সহযোগিতার উদ্যোগ নেন অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড শায়েস্তাগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক কাজী মোখলিছুর রহমান।

জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল রাইজিংবিডিডটকমের হবিগঞ্জ প্রতিনিধি মামুন চৌধুরী কালেঙ্গার আদিবাসী পুঞ্জির শিশুদের এসব সমস্যার কথা জানান অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড, শায়েস্তাগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক কাজী মোখলিছুর রহমানকে। এরপর শাখা ব্যবস্থাপক শাখার সবার মাসিক বেতনের কিছু অংশের টাকা থেকে ছাতা, কলম ও খাতা কিনে শিশুদের মাঝে বিতরণ করেন।

গতকাল শনিবার ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক কাজী মোখলিছুর রহমান, কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম, মো. জাকিরুল ইসলাম ও সাংবাদিক মো. মামুন চৌধুরী কালিয়াবাড়ি পুঞ্জিতে গিয়ে শতাধিক স্কুলগামী শিশুর হাতে ছাতা, কলম ও খাতা তুলে দেন।

পুঞ্জির হেডম্যান বিনয় দেববর্মা বলেন, ‘আমরা বেশি দূর লেখাপড়া করতে পারিনি। তবে আমাদের সন্তানেরা যেন লেখাপড়া করে অনেক বড় হতে পারে, এ কামনা করছি। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের সার্বিক সহযোগিতা চাই।’

তিনি বলেন, ছাতাসহ শিক্ষা সামগ্রী দিয়ে সহায়তা করায় স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেছে অগ্রণী ব্যাংক শায়েস্তাগঞ্জ শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এজন্য তাদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

একই সঙ্গে তিনি শিশুদের নিরাপদ শিক্ষা গ্রহণে পুঞ্জির পাশে একটি প্রাথমিক ও একটি উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপন করার দাবি করেছেন।

শাখা ব্যবস্থাপক কাজী মোখলিছুর রহমান বলেন, স্কুলগামী এসব শিশুদের মাঝে আমাদের বেতনের কিছু অংশ দিয়ে কেনা ছাতা, কলম ও খাতা দিতে পেরে অত্যন্ত ভালো লাগছে। আশা করছি সুশিক্ষা গ্রহণ করে এ শিশুরাও একদিন অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

এর আগেও সাংবাদিক মামুন চৌধুরীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে এ পুঞ্জির আবাদিবাসী শীতার্তদের মাঝে কম্বল ও শিশুদের মাঝে একাধিকবার শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেছে আর কিউ ফাউন্ডেশন ও প্রত্যয় নামে দুটি সামাজিক সংগঠন।

 

 

রাইজিংবিডি/হবিগঞ্জ/২৮ মে ২০১৭/মামুন চৌধুরী/এসএন

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন