ঢাকা, বুধবার, ২৪ আষাঢ় ১৪২৭, ০৮ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:
বজ্রপাতে নিহত ৫

কালবৈশাখী ও বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি

জাহাঙ্গীর আলম বকুল : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৪-৩০ ৭:১৩:৪৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৫-০১ ৯:৫৭:০৪ এএম

রাইজিংবিডি ডেস্ক : দেশের বিভিন্নস্থানের ওপর দিয়ে আজ সোমবার কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। একই সঙ্গে প্রায় সারা দেশে ভারি বৃষ্টি হচ্ছে। এতে উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

কালবৈশাখী ঝড়ে গাছ ও বিদ্যুতের খুটি উপড়ে গেছে। তা সড়কে পড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। একই সঙ্গে বজ্রপাতে পাঁচজন নিহত হয়েছে।

রাজশাহী : রাজশাহী অঞ্চলে তাণ্ডব চালিয়েছে কালবৈশাখী। সঙ্গে ভাবি বর্ষণ ও বজ্রপাত। ভোরের আলো ফুটতেই প্রথমে আকাশ কালো মেঘে ঢেকে কালবৈশাখীর তাণ্ডব বয়ে যায়। এ সময় বজ্রপাতে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। 

রাজশাহী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, সকাল সোয়া ৮টায় শুরু হয় কালবৈশাখী। এই ঝড় পাঁচ মিনিট স্থায়ী ছিল। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ৩০ নটিক্যাল মাইল। এরই মধ্যে শুরু হয় বজ্রসহ বৃষ্টি। মেঘের গগনফাটা গর্জনে দিনের শুরুতেই ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে মানুষ। সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত বৃষ্টি পরিমাপক যন্ত্রে (রেইন গেজ) জমা হয় ৬১ মিলিমিটার পানি। যা চলতি মৌসুমের প্রথম ভাবি বৃষ্টিপাত বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।  

পাঁচ মিনিটের কালবৈশাখীতে অনেক কিছু লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। বিশেষ করে আম ও লিচুসহ উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রাজশাহীর পবা, গোদাগাড়ী, বাঘা-চারঘাটসহ বিভিন্ন উপজেলার গ্রামাঞ্চল থেকে গাছ উপড়ে যাওয়া এবং কাঁচা ঘর-বাড়ির টিনের চালা উড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ঝড়ের সময় বজ্রপাতে পুঠিয়া উপজেলার নওপাড়া গ্রামে বেগুনের খেতে বিষ দিতে গিয়ে কৃষক ইয়াকুব আলী (৪০) নিহত হয়েছে।

রাজশাহীর ওপর দিয়ে কালবৈশাখী শুরুর পর গোটা মহানগরী বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। কালবৈশাখীর ছোবলে মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে গেছে। মহানগরীর সাহেব বাজার ছাড়াও উপশহর, বর্ণালীর মোড়, আমবাগাম, কলাবাগান, কোর্ট হড়গ্রাম ষষ্টিতলা এলাকায় পানি জমে যায়। এতে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। সকালের হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা বিপাকে পড়ে। অনেকে ভিজে পায়ে হেঁটে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছায়। কর্মস্থলমুখী মানুষকে দুর্ভোগে পড়তে হয়।  



পাবনা : পাবনার ওপর দিয়ে সকালে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে গেছে। সঙ্গে  বজ্রপাত ও অঝোর বৃষ্টি। ঈশ্বরদী উপজেলায় বৃষ্টির সময় বজ্রপাতের আঘাতে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আকাশে মেঘ বাড়তে থাকে। এরপর কালো মেঘে আকাশ ছেয়ে যায়। সকালেই যেন সন্ধ্যা নেমে আসে। হেডলাইট জ্বালিয়ে রাস্তায় গাড়ি চালাতে বাধ্য হন চালকরা। এরপর শুরু হয় কালবৈশাখী ঝড় ও অঝোর বৃষ্টি। বৃষ্টির সময় বিভিন্ন স্থানে শোনা যায় বজ্রপাতের বিকট শব্দ।

ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী হঠাৎপাড়া এলাকায় বৃষ্টির মধ্যে আম কুড়াতে গিয়ে বজ্রপাতের আঘাতে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। পাকশী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শহীদুল ইসলাম জানান, সকালে বৃষ্টির সময় পাকশী হঠাৎপাড়ার এলাকায় আম গাছের নিচে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় মুষলধারে বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত ঘটলে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়।

ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিস জানায়, জেলায় ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার।

নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও সোনারগাঁও উপজেলায় বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন- হাসেম মোল্লা (১৭), রফিকুল ইসলাম (৩৩) ও ওবায়দুল হক (২৬)।

রূপগঞ্জ উপজেলার ভোলাব এলাকায় বজ্রপাতে দুইজন নিহত হয়। নিহত হাসেম মোল্লা ওই এলাকার কামাল মোল্লার ছেলে ও রফিকুল ইসলাম একই এলাকার নুরুল হকের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ভোলাব তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাব্বির আহাম্মেদ জানান, দুপুর পৌনে ১টার দিকে প্রচণ্ড ঝড় শুরু হয়। এ সময় বাড়ি থেকে বের হয়ে কাজের উদ্দেশে মাঠে গেলে বজ্রপাতে কামাল মোল্লা ও রফিকুল ইসলামের মৃত্যু হয়।



সোনারগাঁও উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের মুসারচর গ্রামে বজ্রপাতে যুবক ওবায়দুল নিহত হয়। নিহত ওবায়দুল মুসারচর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে কৃষি জমিতে কাজ করছিলেন ওবায়দুল। হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলে মারা যান তিনি। এ সময় তার পাশে থাকা অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবক গুরুতর আহত হন। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

জামপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হামীম শিকদার শিপলু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে কাঁচা বাড়ি-ঘর বিধ্বস্ত এবং গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

দুপুরে গোপালগঞ্জের সদর, টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যায় কালবৈশাখী ঝড়। মাত্র ১৫ মিনিটের ঝড়ে জেলা শহরসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের বহু ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। উপড়ে গেছে গাছ ও বিদ্যুতের খুটি।

ঝড়ে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ধান চিটা হয়ে যাওয়ার আশংকা করছেন কৃষকরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সমীর কুমার গোস্বামী জানান, ঝড়ের কারণে উঠতি পাকা বোরো ধানসহ ফসলের ক্ষতি হয়েছে।  জমির ৮০ ভাগ ধান পেকে গেলে ঝড় থেকে বাঁচাতে কৃষকদের ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। 




রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩০ এপ্রিল ২০১৮/বকুল