ঢাকা, রবিবার, ৭ আশ্বিন ১৪২৬, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

খুলনায় বাবা-মেয়ে হত্যা মামলার রায় ১৬ জুলাই

মুহাম্মদ নূরুজ্জামান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৭-০৪ ১০:১৯:০৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৭-০৪ ১০:১৯:০৫ পিএম
খুলনায় বাবা-মেয়ে হত্যা মামলার রায় ১৬ জুলাই

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা: খুলনায় এক্সিম ব্যাংক কর্মকর্তা পারভীন সুলতানাকে গণধর্ষণের পর বৃদ্ধ বাবা ইলিয়াস চৌধূরীসহ হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার রায়ের দিন রাখা হয়েছে আগামী ১৬ জুলাই। বৃহস্পতিবার বাদি ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক  মো. মহিদুজ্জামান রায়ের দিন ধার্য্য করেন।

রায়ে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির আশা করছেন বাদি ও বাদিপক্ষের আইনজীবীরা।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি হিসেবে আদালতের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট ফরিদ আহমেদ এবং বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার পক্ষে মামলা পরিচালনা করছেন এপিপি কাজী সাব্বির আহমেদ ও সংস্থার খুলনা জেলা সমন্বয়কারি অ্যাডভোকেট মোঃ মোমিনুল ইসলাম।

মামলার ৫ আসামি হচ্ছে- নগরীর লবণচরার বুড়ো মৌলভী’র দরগা এলাকার শেখ আব্দুল জলিলের দুই ছেলে সন্ত্রাসী-অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত পিটিল ও শরিফুল ইসলাম, একই এলাকার মৃত সেকেন্দারের ছেলে পলাশ এবং অহিদুল ইসলামের ছেলে সাঈদ ও লিটন। এর মধ্যে লিটন ও সাঈদ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। তবে, ৪ জন কারাগারে থাকলেও শরিফুল ইসলামকে দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছরেও পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি।

বাদিপক্ষে মামলা পরিচালনাকারী বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার খুলনা জেলা সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোঃ মোমিনুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার দু’পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রায়ের দিন ধার্য্য করেছেন। তিনি আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির আশা করছেন। অনুরূপ আশা করছেন মামলার বাদি রেজাউল আলম চৌধূরী বিপ্লবও। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, রায়ের দিন ধার্য্যরে মধ্য দিয়ে ন্যায় বিচারের আশা জেগেছে। তবে, পলাতক আসামি শরিফুল এখনো গ্রেফতার না হওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে দ্রুত তাকে গ্রেফতারের দাবি জানান।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে নগরীর লবনচরা থানা এলাকার হযরত বুড়ো মৌলভী (রহ.) দরগাপাড়া ৩ নং সড়কের ‘ঢাকাইয়া হাউজ’ নামক বাড়িতে দুর্বৃত্তরা ইলিয়াস চৌধূরী ও তার মেয়ে পারভীন সুলতানাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর লাশ বাথরুমের সেফটিক ট্যাংকির মধ্যে ঢুকিয়ে গুমের চেষ্টা করে। পারভীন সুলতানা এক্সিম ব্যাংক খুলনার কালিবাড়ী শাখায় ক্যাশ কর্মকর্তা ছিলেন। এ ঘটনায় নিহত ইলিয়াস চৌধূরী’র ছেলে রেজাউল আলম চৌধূরী বিপ্লব বাদি হয়ে ২০ সেপ্টেম্বর লবনচরা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলায় একই এলাকার নোয়াব আলী গাজী ওরফে নবাব এবং আইয়ূব আলী মিস্ত্রি’র ছেলে আসলাম মিস্ত্রি’র নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় ৬/৭ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। এরই মধ্যে পুলিশ বুড়ো মৌলভী (র.)’র মাজার এলাকার আবুল কালামের ছেলে মো. লিটনকে গ্রেফতার করে। সে ওই বছরের ২১ সেপ্টেম্বর খুলনা মহানগর হাকিম আয়শা আক্তার মৌসুমি’র আদালতে ঘটনার সাথে নিজের সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। আসামি লিটন আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে হত্যা ও ধর্ষণের কথা স্বীকার করায় নিহত পারভীন সুলতানার ভাই রেজাউল আলম চৌধূরী বিপ্লব বাদি হয়ে ৫ জনের বিরুদ্ধে ২২ সেপ্টেম্বর লবনচরা থানায় নতুন করে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক এ হত্যাকা-ের সাড়ে ৬ মাসের মাথায় ২০১৬ সালের ৯ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই মোঃ কাজী বাবুল খুলনা’র মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এছাড়া ধর্ষণের মামলায় একই বছরের ২৪ মার্চ আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।


রাইজিংবিডি/৪ জুলাই ২০১৯/খুলনা/মুহাম্মদ নূরুজ্জামান/শাহনেওয়াজ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন