ঢাকা     শুক্রবার   ১৯ এপ্রিল ২০২৪ ||  বৈশাখ ৬ ১৪৩১

রিকশাচালক রফিকুলের স্বপ্নীল পদযাত্রা

বাদল সাহা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৪:৫৯, ২০ জুলাই ২০১৯   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
রিকশাচালক রফিকুলের স্বপ্নীল পদযাত্রা

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: বঙ্গবন্ধু প্রেমী রফিকুল ইসলাম পায়ে হেঁটে সুদুর রংপুর থেকে এখন গোপালগঞ্জে। বঙ্গবন্ধুর ত্যাগ ও স্বাধীনতা অর্জনের কথা নতুন প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দিতেই তার এ পদযাত্রা।

হেঁটে হেঁটে ১৯টি উপজেলায় একেঁছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও রোপণ করেছেন পরিবেশ বান্ধব কৃষ্ণচূড়া গাছ।

রংপুর শহরের তাজহাট বাবুপাড়া এলাকায় বাবা মোহাম্মদ আলী, স্ত্রী রশিদা বেগম, দুই মেয়ে ও তিন ছেলেকে তার সংসার ও বসবাস। পরিবারের ভার ছেলেদের হাতে দিয়ে স্বপ্নীল এই পদযাত্রায় ঘর থেকে বের হয়েছেন তিনি।

৫৯ বছর বয়সী রফিকুল ইসলাম পেশায় রিকশাচালক। তিনি বলেন, ‘১৯৬৮ সালে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলাম। আমাকে ওরা ফেলে দিতে চেয়েছিল ট্রেন থেকে। এরপর কোন রকমে বেঁচে ফিরি। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শোনার পর থেকেই আমি জাতির পিতার ভক্ত। মা-বাবার একমাত্র সন্তান হওয়ায় স্বাধীনতা যুদ্ধে যেতে পারিনি, এর আক্ষেপ আমাকে সবসময় তাড়া করে। আমি রিকশা চালানোর পাশাপাশি প্রেস শ্রমিক হিসেবে কাজ করতাম। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবনের দেয়ালে বঙ্গবন্ধুর ছবি অংকন করে আসছি।’

রংপুর জেলা প্রশাসকের অনুমতিপত্র নিয়ে গত ১৩ জুন নিজ এলাকা রংপুরের তাজহাট বাবুপাড়া বটতলা থেকে তিনি পদযাত্রা শুরু করেন।

 

এরপর তিনি রংপুরের মিঠাপুকুর, পীরগঞ্জ, গাইবান্ধার পলাশবাড়ী, গোবিন্দগঞ্জ, বগুড়া, শেরপুর, সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া, শাহাজাদপুর, পাবনার বেড়া, সুজানগর থেকে নদী পার হয়ে রাজবাড়ীর পাংশা, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, নগরকান্দা থেকে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর, কাশিয়ানী হয়ে শুক্রবার গোপালগঞ্জ শহরে পৌঁছেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান, জাতির পিতার ছবি অংকন করেন ও কৃষ্ণচূড়া গাছ রোপণ করেন।

তিনি গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ২য় তলায় বঙ্গবন্ধুর ছবি এঁকেছেন। এরপর তিনি গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া, মাদারীপুরের রাজৈর, ভাঙ্গা, শিবচর হয়ে নদী পার হয়ে লৌহজং, সিরাদিখান, ঢাকার কেরানীগঞ্জ হয়ে ৪ আগস্ট গণভবনে পৌঁছবেন। বঙ্গবন্ধুর ছবি অংকন ও কৃষ্ণচূড়ার চারা রোপণের মাধ্যমে এ পদযাত্রা শেষ করবেন বলে জানান তিনি।

গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, ‘রফিকুল ইসলাম পায়ে হেঁটে হেঁটে বিভিন্ন জেলা উপজেলায় গিয়ে বঙ্গবন্ধুর ছবি আঁকছেন এটা শুনে আমার খুব ভাল লেগেছে। আমাদের শিশু মনে বঙ্গবন্ধুকে আঁকা দরকার। তার যে প্রজ্ঞা, দেশের প্রতি ভালবাস তাতে অনুপ্রাণিত হয়ে সোনার বাংলা গড়ার জন্য আমাদের সকলকে বঙ্গবন্ধুকে মনে রাখা দরকার।’

 

রাইজিংবিডি/গোপালগঞ্জ/২০ জুলাই ২০১৯/বাদল সাহা/টিপু

রাইজিংবিডি.কম

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়