ঢাকা, শুক্রবার, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০৫ জুন ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

বোরো ধান সংগ্রহে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সংশয়

নজরুল মৃধা : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৮-২৭ ১১:২৩:৫০ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৮-২৭ ১১:২৩:৫০ এএম

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর: রংপুরে সরকারের বোরো ধান সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে এ মাসের মধ্যে আরো ১০ হাজার মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করতে হবে।

রংপুর বিভাগে বোরো উৎপাদন হয়েছে ৩০ লাখ মেট্রিক টনের বেশি। এই বিভাগে ৬২ হাজার ৪৯১ মেটিকটন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও সোমবার পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে ৫২ হাজার মেট্রিক টনের কিছু বেশি। এদিকে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে খাদ্য বিভাগকে তাগাদা দেয়া হয়েছে মন্ত্রণালয় থেকে।

খাদ্য বিভাগ বলছে, সরকারের বেঁধে দেয়া লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব। অথচ হাতে আছে মাত্র কয়েকদিন। এদিকে কৃষককে বোরো ধানের ন্যায্যমূল্য দেয়ার লক্ষে সরকার চাষিদের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয় করলেও বাজারে ধানের মৃল্যবৃদ্ধির ক্ষেত্রে খুব একটা প্রভাব পড়েনি। আগে ধানের যে দাম ছিল এখনো প্রায় সেই দাম রয়েছে বাজারে।

খাদ্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি কেজি সিদ্ধ চালের ৩৬ ও আতপ চালের ৩৫ ও ধানের ২৬ টাকা। গত ২৫ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে এ অভিযান। ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান চলবে আগামি ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।

ইতোমধ্যে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম জোরদার করার জন্য কয়েক দফা তাগিদ দিয়ে খাদ্য অধিদপ্তর থেকে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এদিকে বর্তমানে বাজারে প্রতিমন ধান বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০  টাকা। অর্থাৎ প্রতি কেজি ধান বিক্রি হচ্ছে ১৬ থেকে ১৭ টাকা। এই  বিভাগে ৮ লাখ হেক্টরের বেশি জমিতে বোরো ধান উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৩০ লাখ মেট্রিক টনের বেশি। এর মধ্যে সরকার এই বিভাগে কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করার কথা ২৬ হাজার মেট্রিক টন। সরকারের সংগ্রহ বাদ দিলে কৃষকের কাছে থাকছে ২৭ লাখ মেট্রিক টনের ওপর ধান। এই ধান কৃষকরা বাজারে গিয়ে বিক্রির চেষ্টা করছেন। কিন্তু বাজারে ধানের ন্যায্য দাম পাচ্ছেননা। ফলে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহের নীতিমালা মাঠ পর্যায়ে কোন কাজে আসছে না।

সূত্রমতে অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ নীতিমালা, ২০১৭ এর ৮ (খ) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো উপজেলায় সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সম্ভাবনা না থাকলে সংশ্লিষ্ট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, জেলা সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটির সভাপতিকে অবহিত রেখে অন্যান্য উপজেলার ক্রয়কেন্দ্রে লক্ষ্যমাত্রা সমন্বয় করবেন। আবার জেলায় যে পরিমাণ ক্রয়ের সম্ভাবনা নেই অথবা আরও যে পরিমাণ ক্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে তা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, জেলা সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটির সভাপতিকে অবহিত করে আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের নিকট সমর্পণ বা চাহিদা প্রদান করবেন। আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকরা নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে আন্তঃজেলা লক্ষ্যমাত্রা সমন্বয় করবেন। এরূপ পরিবর্তন বা সমন্বয় সর্ম্পকে সংশ্লিষ্ট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রককে এবং সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক খাদ্য অধিদফতরকে অবহিত করবেন। আন্তঃবিভাগ লক্ষ্যমাত্রা সমন্বয়ের প্রয়োজন হলে আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকদের প্রস্তাব বিবেচনা করে খাদ্য অধিদফতর সমন্বয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং সকল স্তরের সমন্বয়ের বিষয় খাদ্য অধিদপ্তর মন্ত্রণালয়কে অবহিত করবে।

তবে খাদ্য বিভাগের মতে, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার সংগ্রহ সন্তোষজনক। কোথাও কোথাও লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করে ধান কেনা হয়েছে। ফলে কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হয়েছে।

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার কৃষক আফজাল হোসেন, পীরগাছা উপজেলার কল্যাণী ইউনিয়নের বুলবুল মিয়া,রংপুর সদরের মিলন মিয়াসহ অনেক কৃষক জানান, সরকার ধান ক্রয় শুরু করেছে ঠিকই। কিন্তু তারা কখনই সরকারি গোডাউনে ধান চাল বিক্রি করতে পারেননি। এক শ্রেণির মধ্যস্বত্বভোগী মিলার সিন্ডিকেট তাদের কাছ থেকে কম দামে ধান সংগ্রহ করে তা চালে রূপান্তরিত করে সরকারি গোডাউনে বিক্রি করেন। 

কাউনিয়ার চাল ব্যবসায়ী নূর আলম জানান, সরকারি দর বেশি থাকলেও অধিকাংশ কৃষকই সরাসরি ধান সরকারি গোডাউনে বিক্রি করতে পারেননি। ফলে সরকারের সংগ্রহ শুরু করলেও বাজারের ধানের দাম বাড়েনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রংপুরসহ আশপাশ এলাকায় প্রতিমণ ধান ৪৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে মোটা চালের খুচরো বাজার দর এলাকা ভেদে ২২ থেকে ২৪ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। অথচ এ মোটা চালের সরকারি সংগ্রহ মূল্য কেজি প্রতি ৩৬ টাকা।

রংপুর বিভাগীয় খাদ্য কর্মকর্তা রাহানুল কবির সরকারের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘চাল কৃষকদের কাছ থেকে কেনা না হলেও এবার কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা হচ্ছে। ফলে কৃষকরা উপকৃত হয়েছে।’


রাইজিংবিডি/রংপুর/২৭ আগস্ট ২০১৯/নজরুল মৃধা/টিপু

       
 

আরো খবর জানতে ক্লিক করুন : রংপুর, রংপুর বিভাগ