ঢাকা, সোমবার, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬, ১৪ অক্টোবর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

অবশেষে আসল ধর্ষক গ্রেপ্তার!

উপজেলা সংবাদদাতা : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১০-১০ ৬:৩৯:১৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১০-১০ ৬:৩৯:১৯ পিএম

টাঙ্গাইলের সখীপুরে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় ১৩ দিন আগে গ্রেপ্তার হওয়া নয়ন আসল আসামি নয়। পুনরায় তদন্ত করে পুলিশ আসল নয়নকে গ্রেপ্তার করেছে।

বৃহস্পতিবার সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমির হোসেন চাঞ্চল্যকর তথ্যটি সাংবাদিকদের কাছে প্রকাশ করেন। এর আগে সোমবার রাতে দোষী নয়নকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামানের দূরদর্শিতা ও পরিশ্রমের প্রশংসা করেন ওসি।

ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে কক্সবাজার নিয়ে যায় প্রেমিক নয়ন। সেখানে হোটেলে রেখে দু’দিন ধরে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে সে।

গত মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) আসল আসামি নয়ন আদালতে ১৬৪ ধারায় তার দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। নয়ন বাসাইল উপজেলার বাঘিল গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে।

সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান জানান, প্রেমিক নয়নের ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে পালায় ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী। বেড়ানোর কথা বলে মেয়েটিকে কক্সবাজার নিয়ে যায় নয়ন। সেখানে একটি হোটেলে দুই রাত রেখে ধর্ষণ করে সে। এ ঘটনায় মেয়েটির মা বাদি হয়ে গত ২৬ সেপ্টেম্বর সখীপুর থানায় মামলা করেন। মামলা হওয়ার পরদিন এজাহারে থাকা ঠিকানা মোতাবেক প্রধান আসামি নয়নকে (মেয়ের শনাক্তের ভিত্তিতে) গ্রেপ্তার করা হয়।

আদালতের মাধ্যমে কারাগারে যাওয়ার আগে নয়ন পুলিশকে বলেন, ‘আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ। আমি ওই মেয়েকে চিনি না, এমনকি কোনোদিন দেখিওনি। আমি সিঙ্গাপুর যাওয়ার জন্য স্কিল সেন্টারে ভর্তি হয়েছি। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ওই সেন্টারে ক্লাস করেছি। আমি জীবনে কোনদিন কক্সবাজারেও যাইনি।’

গ্রেপ্তার হওয়া নয়নের মা-বাবা পুলিশকে বলেন, ‘আমার ছেলে প্রতিদিন ট্রেনিং সেন্টারে ক্লাস করতে গেছে, আবার বিকেলে ফিরে এসেছে। আপনাদের কোথাও কোনো ভুল হচ্ছে। কারণ, সখীপুর থেকে কক্সবাজার যেতে কমপক্ষে ১২ ঘণ্টা সময় লাগে। আসা-যাওয়ায় ২৪ ঘণ্টা সময় লাগলে আমার ছেলে কীভাবে কক্সবাজার গেল? বিষয়টি তদন্ত করে দেখলে প্রকৃত রহস্য খুঁজে পাওয়া যাবে।’

সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান বলেন, ‘নয়ন ও তার বাবা-মায়ের কথায় সন্দেহ হওয়ায় বিষয়টির তদন্ত শুরু করলাম। মেয়ের কাছে কক্সবাজারের ওই হোটেলের একটি ভিজিটিং কার্ড ছিল। ওই হোটেলের ব্যবস্থাপকের সঙ্গে যোগাযোগ করে দুইদিনের সিসি টিভির ফুটেজ আনা হলো। কক্সবাজারের ওই হোটেলের রেজিস্টারে থাকা আসল নয়নের ফোন নম্বরও সংগ্রহ করা হলো। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ওই ফোনের সূত্র ধরে আসল নয়নকে মামলা হওয়ার ১১দিন পর বাসাইল উপজেলার বাঘিল গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

সিসি টিভির ফুটেজে থাকা ছবির সঙ্গে সদ্য গ্রেপ্তার হওয়া নয়নের হুবহু মিল দেখে মেয়েটি আসল নয়নকেও শনাক্ত করে। গত ৮ অক্টোবর আসল নয়ন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে ধর্ষণের কথা স্বীকার করলে আদালত নয়নকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এতে প্রমাণ হয় ১৩ দিন ধরে কারাগারে থাকা ওই ‘নয়ন’ নির্দোষ।

মেয়েটি কেনো নির্দোষ নয়নকে আসামি হিসেবে শনাক্ত করল- এ প্রশ্নের উত্তরে মামলার বাদি মেয়েটির মা বলেন, ‘প্রেমিকের কথায় পালিয়ে গিয়ে চারদিন পর মেয়েটি বাড়ি ফিরে আসে। বাড়ি ফিরে মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে জানায়। ওই সময় আমাদের চাপে প্রেমিকের নাম নয়ন বলে জানায়। ‘

তিনি বলেন, ‘আমাদের বাড়ি থেকে ২০০ গজ দূরে এক নয়নের নাম বললে আমার মেয়ে সম্মতিসূচক ভাব প্রকাশ করে। পরে নয়নকে একমাত্র আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করি। মামলার একদিন পর পুলিশ নয়নকে গ্রেপ্তার করে। আমার মেয়ে থানায় গিয়ে নির্দোষ নয়নকেই শনাক্ত করে।’

মেয়েটির মা আরো বলেন, ‘গত ৭ অক্টোবর আসল নয়ন গ্রেপ্তার হয়। তখন মেয়েটি জানায়, ধর্ষক ও প্রতারক নয়নের নাম জানা ছাড়া আর কোনো তথ্যই তার জানা ছিল না। ফলে পরিবারের চাপ ও মারধরের ভয়ে ওই সময় গ্রেপ্তার হওয়া নির্দোষ নয়নকেই শনাক্ত করেছিল সে। আমার মেয়ে এখন অনুতপ্ত।’

সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমির হোসেন বলেন, ‘অল্প বয়সী মেয়েটি আসামিকে শনাক্ত করতে ভুল করায় নির্দোষ নয়ন বিনা অপরাধে ১৩ দিন ধরে কারাগারে রয়েছেন। বর্তমানে দুই নয়নই কারাগারে। তবে নির্দোষ নয়নকে প্রক্রিয়া করে ৩-৪ দিনের মধ্যেই কারাগার থেকে মুক্ত করার ব্যবস্থা হচ্ছে।’

নির্দোষ নয়নের বাবা শাহজাহান মিয়া বলেন, ‘দেশজুড়ে আমার ছেলে ধর্ষণকারী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। আমার পরিবারের সম্মানহানি হয়েছে। বিনা অপরাধে ১৩ দিন ধরে জেল খাটছে। আমি মেয়ে ও মামলার বাদি মেয়ের মায়ের শাস্তি দাবি করছি।’


সখীপুর, টাঙ্গাইল/ইকবাল গফুর/সনি

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন