ঢাকা, মঙ্গলবার, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৯ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

বিপিন চন্দ্র পালের আজ ১৬১তম জন্মবার্ষিকী

মামুন চৌধুরী : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১১-০৭ ১২:০৩:৩৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-০৭ ১২:০৩:৩৩ পিএম

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের পুরোধা কংগ্রেসীয় রাজনীতির দিকপাল, লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষক ও সমাজ সংস্কারক বিপিন চন্দ্র পালের ১৬১তম জন্মবার্ষিকী।

উনিশ শতকের আধুনিক বাংলার সাহিত্যের ক্রমবিকাশ ঘটিয়েছিলেন বাগ্মী এ নেতা।

সিপাহী বিদ্রোহের এক বছর পর ১৮৫৮ সালের ৭ নভেম্বর হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পইল গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন বিপিন চন্দ্র পাল। 

এদিন উপলক্ষে পইল বিপিন চন্দ্র পাল স্মৃতি সংসদের পক্ষ থেকে জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, বিপিন চন্দ্র পালের পিতা রামচন্দ্র ছিলেন একজন জমিদার ও জজ-কোর্টের প্রেশকার। বাবার চাকরির সুবাদে ১৮৬৬ সালে সিলেট নয়া সড়ক প্রাথমিক স্কুলে ভর্তি হন। ১৮৬৯ সালে সিলেট গভর্নমেন্ট স্কুল ভর্তি হয়ে রেকর্ড সংখ্যক মার্ক নিয়ে এন্ট্রাস পরীক্ষায় পাস করেন। কলেজ জীবন থেকেই স্বদেশ -স্বজাতির মুক্তির লক্ষ্যে নিজেকে ব্রত করেন।

কর্মজীবনে ১৮৭৯ সালে উড়িষ্যার কটক একাডেমীতে সাধারণ শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৮৮০ দশকে হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন।

এসময়ে তিনি ব্রিটিশ সরকার পরিচালিত শিক্ষা নীতিমালাকে অগ্রাহ্য করে ১৮৮০ সালের ৫ জানুয়ারি সিলেট ন্যাশনাল ইন্সটিউটকে শ্রীহট্ট জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রুপান্তর করেন। প্রকাশ করেছিলেন সিলেটের প্রথম বাংলা সংবাদপত্র ‘পরিদর্শন’।

বালগঙ্গাধর, তিলক, লালা লাজপত রায়, বিপিন চন্দ্র পালসহ নেতৃবৃন্দের সহযোগীতায় ১৮৮৫ সালে বোম্বে সম্মেলনের ভিতর দিয়ে জাতীয় কংগ্রেসের জন্ম। জাতীয় আন্দোলনের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ হয়। ব্রিটিশ বিরোধী মনোভাব ও অসাধারণ বক্তা হিসেবে অল্প সময়েই তিনি সকলের কাছে সর্ব ভারতীয় পর্যায়ের একজন নেতা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। ব্রিটিশ শাসন থেকে দেশকে মুক্ত করতে প্রত্যক্ষভাবে লড়াই সংগ্রামে যুক্ত হন।

কংগ্রেসের একাংশ মধ্যপন্থী গান্ধীজীর অহিংসবাদ দিয়ে ভারতের স্বাধীনতা লাভ সম্ভব নয় বলে তিনি মনে করতেন। ভারতের বিপ্লবী আন্দোলনের চিন্তা ও মতবাদকে জনসাধারণের মাঝে পৌঁছে দেওয়ার কারণে চরমপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন তিনি।

তার সভাতিত্বে ১৯০৪ সালে বোম্বাইতে কংগ্রেসের সম্মেলন, ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ প্রতিরোধের আন্দোলনে ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে। ১৯০৬ সালে শ্রীহট্টের সুরমা উপত্যকার প্রথম রাষ্ট্রীয় সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন। তিনি পরে বন্দেমাতরম নামে পত্রিকা প্রকাশ করেছিলেন।

তার ক্ষুরধার লেখনীতে দেশবাসীকে জাতীয়তাবাদে উদ্দীপ্ত করে জাগিয়ে তুলেন। ১৯০৮ সালে করিমগঞ্জে সুরমা উপত্যকার দ্বিতীয় সম্মেলনেও বক্তৃতা দেন। ১৯১১ সালে বোম্বাইয়ে পদার্পণ করা মাত্র তাকে রাজদ্রোহের অপরাধে জেলে নিক্ষেপ করা হয়।

বৃটিশদের চোখে তিনি ছিলেন একজন দুঃসাহসী নেতা । আর তাই তাকে দীর্ঘদিন কারাবরণ করতে হয়েছে। ১৯২১ সালের দিকে গান্ধীর সাথে মতের মিল না হওয়াতে তিনিসহ দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস, মতিলাল নেহরুসহ প্রমুখ নেতৃবর্গ মিলে স্বরাজ নামে এক নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন।

১৯৭২ সালে সাইমন কমিশন গঠন করেন। ত্রিশ দশকে শ্রীহট্টবাসীর স্বাধীনতা আন্দোলনের ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখেন।

ভারত বর্ষের স্বাধীনতার প্রশ্নে মতিলাল নেহেরু, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস, গান্ধীর সাথে ভিন্নমত পোষণ করে বিপিন চন্দ্র পাল শেষ জীবনে রাজনীতি থেকে দূরে সরে আসেন।

তরুণ বয়সেই হিন্দু ধর্মের কুসংস্কার,বাল্য বিবাহ ও বহু বিবাহের বিরোধীতাসহ নারী শিক্ষা বিস্তার ও বিধবা বিবাহের পক্ষে ছিলেন। তাই ব্রক্ষসমাজে পরিচালিত হয়ে ১৮৮১ সালে একজন বিধবা নারী (শ্রীমতী নৃত্যকালীকে) বিয়ে করেন। নারী সমাজের জাগরণে লিখেছেন শোভনা নামে উপন্যাস।

জীবনের শেষাংশে সাহিত্য সৃষ্টিতে তিনি আত্মনিয়োগ করেন। বেঙ্গল পাবলিক অপিনিয়ন, নিউ ইন্ডিয়া, স্বরাজ, হিন্দু রিভিউ, আলোচনা, ট্রিবিউন, সোনার বাংলা, ইন্ডিপেনডেন্ট, ডেমোক্রেট, ফ্রিডম ফেলোশিপসহ অনেক পত্রিকায় সম্পাদক ও সাংবাদিকতা করেছেন। লিখেছেন বহু উপন্যাস, জীবনী, আত্মজীবনী ও ইতিহাস। এগুলোর মধ্যে ১৫টি বই বাংলায় ও ইংরেজীতে ১৭টির বেশী বই উল্লেখযোগ্য। ১৯৩২ সালের ২০ মে তিনি মারা যান।


হবিগঞ্জ/মামুন চৌধুরী/জেনিস

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন