ঢাকা, রবিবার, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

সিলেট-আখাউড়ার রেলপথ ‘ঝুঁকিপূর্ণ’!

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১১-১৪ ৮:২০:২১ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-২০ ২:৩০:৫২ পিএম
ফাইল ফটো

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় শহর সিলেটের সঙ্গে সর্বপ্রথম রেল যোগাযোগ চালু হয় ১৮৯১ সালে। তবে ১৯১২ সালেই আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে পুরোদমে এ অঞ্চলে রেলসেবা শুরু করে। এসময় চালু হয় সিলেট রেলওয়ে স্টেশনও। নির্মাণ করা হয় ছোট-বড় দুই শতাধিক রেল সেতুও। এরপর শতবছর পেরিয়েছে। কিন্তু এ রেল পথের উন্নয়নের ছোঁয়া না লাগায় পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ রেলপথ ও সেতু দিয়েই বর্তমানে ট্রেন চলছে।

এর মধ্যে বেশি ‘ঝুকিপূর্ণ’ অবস্থায় পূর্বাঞ্চলীয় রেল সেকশনের সিলেট-আখাউড়ার ১৭৯ কিলোমিটার রেলপথের শত বছরের পুরনো কয়েকটি সেতু। তথ্য বলছে, এ সড়কের ১৩টি সেতু বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। পাশাপাশি রেললাইনও সংস্কার হয়নি দীর্ঘদিন ধরে। সংস্কারের অভাবে এ পথে প্রায়শই রেল লাইনচ্যুতি ঘটে। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রী সাধারণকে। ফলে নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য খ্যাত রেলপথ যাত্রায় অনীহা সৃষ্টি হচ্ছে সাধারণের; ফলে কমছে যাত্রী সংখ্যাও।

সরেজমিন দেখা যায়, সিলেট-আখাউড়া রেললাইনের অধিকাংশ স্লিপারের নাটবল্টু নেই। নেই পর্যাপ্ত পাথর। অনেক স্থানে আবার লাইন থেকে পাথর উঠে গিয়ে মাটিও বের হয়ে গেছে। স্লিপারেও নেই ক্লিপ। যেসবা ক্লিপ রয়েছে সেগুলোও নড়বড়ে। কাঠের স্লিপার পচে নাটবল্টু ছুটে ব্রিজগুলোও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অনেক সেতুতে স্লিপারগুলো বাঁশ দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে।

তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দাবি, এই রুটে ঝুঁকিপূর্ণ নয়, মেরামত প্রয়োজন ছয়টি সেতু রয়েছে। এই সেতু ছয়টি হলো- হবিগঞ্জের শাহজীবাজারে ৭৩ নম্বর রেলসেতু, লস্করপুরের ১০২ নম্বর রেলসেতু, শায়েস্তাগঞ্জের ১০৫ নম্বর রেলসেতু, বাহুবলের রশিদপুরের ১১৪ নম্বর রেলসেতু, কমলগঞ্জের ভানুগাছের ১৮৩ নম্বর রেলসেতু এবং ছাতকের ৩২ নম্বর রেলসেতু।

চলতি বছরের ২৩ জুন রেলপথের মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার বরমচাল স্টেশনের অদূরে সেতু ভেঙে ঢাকাগামী আন্তঃনগর উপবনের কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হলে ঘটনাস্থলে চার যাত্রী নিহত ও অর্ধশতাধিক আহত হয়। সিলেটের স্মরণকালের এই রেল দুর্ঘটনার পর রেলপথের সংস্কারের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। তবে এরপর থেকে এই পর্যন্ত ১৩ বার ট্রেন লাইনচ্যুতি ঘটেছে।

এ রুটে চলাচলকারী যাত্রীরা বলছেন, রক্ষণাবেক্ষণ না করায় রেললাইন এবং সেতুগুলো মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এই লাইন দিয়ে সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল করছে। এর ফলে প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটছে।

দক্ষিণ সুরমার স্থানীয় সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম মুসিক জানান, সিলেট-মোগলাবাজার রেলওয়ে স্টেশনের মধ্যবর্তী পারইরচক ও মাইজগাঁও স্থানে প্রায়ই রেল লাইনে যাত্রীবাহী ট্রেন ও মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়। এতে দুর্ভোগ পোহান যাত্রীরা।

সিলেট-ঢাকা রেলরুটে চার জোড়া আন্তঃনগর এবং সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে দুই জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে পারাবত, জয়ন্তিকা, উপবন ও কালনী ঢাকা রুটে এবং চট্টগ্রাম রুটে পাহাড়িকা ও উদয়ন চলাচল করে। এর বাইরে কিছু লোকাল ট্রেনও প্রতিদিন এই পথে চলাচল করে। তবে চাহিদার তুলনায় ট্রেনের আসন অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন যাত্রী সাধারণ।

সম্প্রতি এ রেলপথ আধুনিকায়নের পাশাপাশি রেল সেবার মানোন্নয়নে রেল মন্ত্রণালয়ে চারটি প্রস্তাবনা পাঠিয়েছে সিলেট চেম্বার অব কমার্স। তাদের প্রস্তাবনায় সিলেট-আখাউড়া রেল সড়ক সংস্কার, মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিন ও জরাজীর্ণ বগি পরিবর্তনের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।

এ বিষয়ে সিলেট চেম্বারের সভাপতি এ টি এম শোয়েব বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সিলেটের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক। সিলেট-আখাউড়া রেললাইনের বিভিন্ন স্থানে হুক, ফিশপ্লেট ও ক্লিপ খোয়া যাওয়া এবং কাঠের স্লিপার পচে নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঝুঁকি নিয়ে সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল করছে। এজন্য তারা রেল মন্ত্রণালয়ে এ প্রস্তাবনা দেন।

এ ব্যাপারে রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে লাইন সব সময়ই তদারকি করা হচ্ছে। সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার মো. আফসর উদ্দিন বলেন, ট্রেন নিয়ম মেনে লাইনে চলছে। এটি সবসময় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তদারকি করছেন। আর সংস্কার ধারাবাহিক একটি প্রক্রিয়া বলে জানান তিনি।

চলতি বছরের ২৪ জুন কুলাউড়ার বরমচালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেছিলেন, আখাউড়া-সিলেট রেলপথ প্রকল্পে ১৬ হাজার ১০৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা একনেকে অনুমোদন হয়েছে। মিটার গেজ এই রেলপথকে ডুয়েল গেজে পরিবর্তন করার লক্ষ্যে অনুমোদিত এই অর্থ ব্যয় হবে। আর এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে ২০২৫ সালের মধ্যে।

 

সিলেট/আব্দুল্লাহ আল নোমান/বকুল

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন