ঢাকা, বুধবার, ২৪ আষাঢ় ১৪২৭, ০৮ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

নকল অ্যাপসে হাজারো ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা সড়কে

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০১-০৭ ১০:৪০:৩৭ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০১-০৭ ১০:৪০:৩৭ এএম

রংপুর মহানগরীতে নকল অ্যাপস তৈরি করে একই নম্বরের হাজার হাজার ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চলাচল করছে।

এক শ্রেণির অসাধু মালিক সড়কে ব্যাটারি চালিত অটো চালিয়ে নগরীকে যাটজটের নগরে পরিণত করেছে।

ফলে নগরীর যানজট কোন ভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছেনা। ট্রাফিক বিভাগ গত এক সপ্তাহে একই নম্বর এবং একই অ্যাপস ব্যবহারকারী কমপক্ষে ১০ অটোরিকশা আটক করেছে।

নগরীতে সিটি করপোরেশন বৈধ অটোরিকশার লাইসেন্স দিয়েছে পাঁচ হাজার ২০০টি। সেখানে নগরীতে চলছে ৩০ হাজারে বেশি অটোরিকশা। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, নকল অ্যাপস কোথায় পাচ্ছেন অটোচালকরা?

কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, সিটি করপোরেশনের এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি কম্পিউটারের দোকানের সাথে আঁতাত করে নকল অ্যাপস তৈরি করে অটোচালকদের কাছে বিক্রি করছে। তবে নকল অ্যাপস ব্যবহারকারী অটোরিকশা আটক হলেও যারা নকল অ্যাপস তৈরি করে সরবরাহ করছেন তাদের এখন পর্যন্ত চিহ্নিত করতে পারেনি ট্রাফিক বিভাগ ও সিটি করপোরেশন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রংপুর নগরী এখন যানজটের নগরীতে পরিণত হয়েছে। ভয়াবহ যানজট পথচারীর জন্য সৃষ্টি করছে বাড়তি ভোগান্তি। শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে সংযোগ সড়কগুলিতে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার কারণে সকাল থেকে যানজট লেগেই থাকে। যানজটের কারণে শপিংমলে কেনাকাটা করতে আসা লোকজনও চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েন।

বিশেষ করে সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নগরীর প্রেসক্লাব মোড় থেকে সিটি বাজার পর্যন্ত এবং ফিরতি পথে সিটি বাজার থেকে প্রেসক্লাব পর্যন্ত যানবাহনের চাপে প্রায় অচল হয়ে পড়ে রাস্তা। ১২ থেকে ১৩ হাজার রিকশা আর ৩০ হাজারের বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চাপে এখন নাকাল মহানগরীর মানুষ।

ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, যানজট নিয়ন্ত্রণে তারা নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনের কাগজপত্র পরীক্ষা করছে। অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা করা হচ্ছে। সম্প্রতি ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার লাইসেন্স পরীক্ষা করতে গিয়ে ট্রাফিক বিভাগ উদঘাটন করেছে একই অ্যাপস ব্যবহার করে একই নম্বরে একাধিক অটোরিকশা রাস্তায় চলাচল করছে।

অ্যাপস পরীক্ষার সময় সঙ্গে সঙ্গে অটোমালিকের নাম, ঠিকানা নম্বর চলে আসে। ফলে খুব সহজেই ধরতে পারছেন একই নম্বরের একাধিক অটোরিকশার বিষয়টি। নকল অ্যাপসধারী অটোরিকশা আটক করে চালককে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। অপরদিকে সিটি করপোরেশনের লাইসেন্স বিভাগ দাবি করছে তারও নকল অ্যাপস ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে।

নকল লাইসেন্সধারী অটোকে আটক করে তারাও থানায় জমা দিচ্ছেন। এদিকে এই নকল অ্যাপস কারা সরবরাহ করছে তা উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ এবং সিটি করপোরেশন।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কম্পিউটার দোকানিরা সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে এমন কারো সহযেগিতায় এই নকল অ্যাপস তৈরি করে অটো চালকদের কাছে বিক্রি করছেন। কারণ বেশ কয়বছর হয় সিটি করপোরেশন থেকে নতুন কোন অটোরিকশার লাইসেন্স দেয়া হচ্ছেনা। ফলে অটোচালকদের নকল লাইসেন্সই ভরসা।

সূত্রমতে, নগরীতে সাত হাজারের বেশি নকল অ্যাপসধারী অটোরিকশা চলাচল করছে। এসব নকল অ্যাপস সরবরাহ করছে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী।

মহানগর ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন নগরীতে নকল অ্যাপস ব্যবহার করে অটোরিকশা চলাচলের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, প্রায়ই অভিযান চালিয়ে নকল অ্যাপস ( লাইসেন্স ) ব্যবহারকারী অটোরিকশা আটক করা হচ্ছে। সেগুলো থানায় জমা করা হচ্ছে। নকল অ্যাপস ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হবে তা এখনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। তবে খুব দ্রুত আটক অটোরিকশার মালিকদের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিটি করপোরেশনের লাইসেন্স শাখার প্রধান শামিম হোসেন জানান, সিটি করপোরেশন পাঁচ হাজার ২০০ অটোর লাইসেন্স দিয়েছে। এর বাইরে যারা নকল অ্যাপ ব্যবহার অথবা অন্য কোন অবৈধ উপায়ে অটো চালাচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধেও সিটি করপোরেশন অভিযান চালাচ্ছে। ওইসব অবৈধ অটো আটক করে থানায় জমা দেয়া হচ্ছে। তবে নকল অ্যাপস কারা কিভাবে তৈরি করছেন বিষয়টি জানা নেই।

 

রংপুর/নজরুল মৃধা/বুলাকী

       
 

আরো খবর জানতে ক্লিক করুন : রংপুর, রংপুর বিভাগ
ট্যাগ :