ঢাকা, বুধবার, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

শহীদ ফলকে নাম থাকলেও নেই মুক্তিযোদ্ধার তালিকায়

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০১-২৩ ২:০৭:৩৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০১-২৩ ২:০৭:৩৯ পিএম

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে জীবন দেওয়া শহীদ মনির উদ্দিনের (চুড়িওয়ালা) নাম স্মৃতি ফলকে থাকলেও, নেই মুক্তিযোদ্ধার তালিকায়।

জীবন বলিদান করা মনিরউদ্দিন চুড়িওয়ালার নাম নিজ এলাকার মানুষের হৃদয়ে স্থানও পেয়েছে শুধু পায়নি মুক্তিযোদ্ধার তালিকায়।

জানা যায়, ১৯৭১ সালের ১ এপ্রিল কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের কামারপাড়া মাঠের মধ্যে পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিবাহিনীর সশস্ত্র সম্মুখযুদ্ধ হয়। ওই যুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর তিনজন শহীদ হন ও সাত পাকিস্থানি সেনা নিহত হয়।

শহীদ তিন মুক্তিযোদ্ধারা হলেন- শহীদ সিপাহী মহিউদ্দিন, শহীদ ডা. আব্দুর রশীদ (হিলম্যান) ও শহীদ মনিরউদ্দিন (চুড়িওয়ালা)। ইতিমধ্যেই যুদ্ধস্থানে নাম ফলকও তৈরি হয়েছে। সেখানে তিনজন শহীদের নামই রয়েছে।

এরমধ্যে প্রথম দুইজন শহীদ সিপাহী মহিউদ্দিন ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ডা. আব্দুর রশীদের (হিলম্যান) নাম সরকারের মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলেও বাদ পরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মনিরউদ্দিনের নাম।

শহীদ মনিরউদ্দিন শেখ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের ভারল গ্রামের সরকারি বরিশাল খাল পাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।

শহীদ হওয়ার আগে হতদরিদ্র মনিরউদ্দিন স্ত্রী হাসিনা বেগমসহ দুই সন্তান রেখে যান। ১৯৭৩ সালে তার স্ত্রী হাসিনা বেগম মারা যান।

তবে শহীদের ফলকে তার নাম থাকা সত্ত্বেও মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় কেন মনির উদ্দিনের নাম আসেনি এই প্রশ্ন তার দুই সন্তানসহ স্থানীয়দের।

মনির উদ্দিনের ছেলে আব্দুল মজিদ জানান, কিভাবে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম ওঠে বিষয়টি আমরা জানি না। তবে আমার পিতা একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা। তার নামটা মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় না আসা খুবই দুঃখজনক।

মিরপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার নজরুল করীম জানান, মনির উদ্দিনের পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ কখনো মুক্তিযোদ্ধার জন্য আবেদন করেনি। আমরা স্মৃতিফলক তৈরির সময় স্ব-প্রণোদিত হয়ে চেষ্টা করেছি। তবে পরিবারের লোকজন এগিয়ে না আসায় সম্ভব হয়নি।


কাঞ্চন/বুলাকী

     
 
রাইজিংবিডি স্পেশাল ভিডিও