ঢাকা, রবিবার, ১৫ চৈত্র ১৪২৬, ২৯ মার্চ ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

নজর কাড়ছে গাছবাড়ি

রাজিব হাসান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৩-১২ ৮:৩০:৪১ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৩-১২ ৩:৪২:১৭ পিএম

দুই তলা ভবনের সব দেয়াল গাছ দিয়ে মোড়ানো। ছাদেও আম-কাঠালের গাছ। সামনের বিশাল আঙ্গিনায় বিভিন্ন দুর্লভ উদ্ভিদ শোভা পাচ্ছে। রাস্তার ধারে লাগানো হয়েছে বনজ বৃক্ষ। বাড়ির সেফটি ট্যাংকও গাছ দিয়ে সাজানো। কেটে-ছেঁটে নান্দনিক করে তোলা হয়েছে ফুল-ফলের গাছগুলো। বাড়িটির নাম হয়েছে গাছবাড়ি। এটি সবার নজর কাড়ছে।

এই গাছবাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার লক্ষণদিয়া গ্রামে। এটি নির্মাণ করেছেন মো. আমিনুল ইসলাম।

সম্প্রতি ওই বাড়িতে গেলে কথা হয় এর মালিক আমিনুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি গোটা বাড়ি ঘুরিয়ে দেখান। আমিনুল জানান, তিনি ব্যবসায়ী। গ্রামের নারীদের দিয়ে সুচি শিল্পের (কাপড়ে নকশা তোলা) কাজ করান। প্রথমে নিজগ্রামের নারীদের দিয়ে কাজ করাতেন। এখন পাশের গ্রামগুলোর নারীদের দিয়েও কাজ করিয়ে নেন তিনি। এসব কাজ ভালোভাবে তদারক করতে ২০১৪ সাল গ্রামের বাড়িতে একটি ভবন নির্মাণ করেন। কিন্তু গ্রামের নারীরা সেই ভবনে বসতে চান না। তারা নিজেদের বাড়িতে কাজ করে পণ‌্য দিয়ে যান। এতে তার নির্মাণ করা ভবনটি অনেকটা অকেজো হয়ে যায়। তখনই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, বাড়িতে গাছের সংগ্রহশালা তৈরি করার।

আমিনুল ইসলাম আরো জানান, গাছের সংগ্রহশালা করতে বাবার দেওয়া জমির পাশাপাশি তিনি কিছু জমি কেনেন। ১৪ বিঘা জমির ওপর এই গাছের সংগ্রহশালা তৈরি করেছেন। দেশের বিভিন্ন স্থান ও বিদেশ থেকে পছন্দের গাছ নিয়ে আসেন। বেলজিয়াম, পর্তুগাল, মালয়েশিয়া, ভারত, দুবাইসহ একাধিক দেশ থেকে তিনি গাছ এনেছেন। এখন তার সংগ্রহশালায় নানা প্রজাতির প্রায় ৫ হাজার গাছ আছে। দিন দিন গাছের সংখ্যা বাড়ছে। তিনি প্রতি মাসে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে ফেরার সময় গাছ নিয়ে আসেন। 

গাছবাড়িতে রিটা, নাগালিঙ্গম, অ‌্যামাজিন, লিলির মতো দুর্লভ ও মূল্যবান গাছ আছে। বাড়ির দেয়ালগুলো ‘ওয়াল কার্পেট’ নামের গাছ দিয়ে মোড়ানো রয়েছে।

স্ত্রী স্নিগ্ধা ইসলাম, ছেলে মায়জাবিন আমিন ও মেয়ে আনুশকা বিনতে আমিনকে নিয়ে আমিনুল ইসলামের সংসার। ব্যবসার প্রয়োজনে তিনি ঢাকায় থাকেন। তার পরিবারের সদস্যরা মাঝেমধ্যে এ বাড়িতে আসেন। বাকি সময় বাড়িটি তালাবদ্ধ থাকে।

আমিনুল ইসলাম জানান, গাছের পরিচর্যার জন্য তিন লোক নিয়োগ করেছেন। অনেক সময় তিনি নিজহাতে গাছের পরিচর্যা করেন। ছোটবেলা থেকেই তার গাছের প্রতি ভালোবাসা। ঢাকার বাসাতেও ছাদবাগান করেছেন।

গ্রামের বাড়িতে গাছের সংগ্রহশালা করতে কত খরচ হয়েছে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এর কোনো হিসাব নেই। যা আয় করি, তার একটা অংশ গাছের পেছনে ব্যয় করি।

গাছবাড়িটি দেখতে এসেছিলেন ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রকৌশলী মো. কামাল উদ্দিন মোরাদ। তিনি বলেন, এটা খুবই ভালো উদ্যোগ।   

কৃষিশ্রমিক জিন্নাহ আলম বলেন, গাছগুলো স্যারের (আমিনুল ইসলাম) জীবন। তিনি এগুলোকে সন্তানের মতো মনে করেন। গাছের পরিচর্যা করতে করতে আমিও এগুলোকে ভালোবেসে ফেলেছি।

তিনি জানান, দর্শনার্থী আসলে প্রধান ফটক খুলে দেওয়ার নির্দেশ আছে বাড়িমালিকের। দর্শনার্থীরা এসে ঘুরে ঘুরে গাছ দেখেন, ছবি তোলেন। তবে মূল ভবনটি বন্ধ থাকে।


ঝিনাইদহ/রাজিব/রফিক

     
 

আরো খবর জানতে ক্লিক করুন : ঝিনাইদহ, খুলনা বিভাগ