ঢাকা, শুক্রবার, ২০ চৈত্র ১৪২৬, ০৩ এপ্রিল ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

লকডাউন ঘোষণার পরও উদাসীন মেহেরপুরের মানুষ

মেহেরপুর সংবাদদাতা : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৩-২৬ ১০:৫৪:৪১ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৩-২৬ ১০:৫৪:৪১ এএম

করোনাভাইরাস সর্তকতায় পুরো মেহেরপুরকে লকডাউন করা হয়েছে।

বন্ধ আছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস আদালত, গণ-পরিবহন। জনসচেতনতা বাড়াতে প্রচার-প্রচারণাও চালানো হয়েছে।

কিন্তু  সচেতনতা বাড়েনি গ্রাম পর্যায়ের সাধারণ মানুষদের । সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে অনেক প্রবাসী বাড়ি ফিরেছেন। যাদের অনেকেই হোম কোয়ারেন্টাইনের নির্দেশনা মানছেন না।

শহরে বা গ্রামে প্রকাশ্যে দল বেঁধে খেলাধুলা, চায়ের দোকানে আড্ডা, বন্ধুদের জটলা, গল্প কিছুই থেমে নেই। গ্রামীণ মানুষের এমন উদাসীনতা মানুষের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সদর উপজেলার বাজিতপুর গ্রামে এক সপ্তাহ আগে দুবাই থেকে আসা বিপ্লব হোসেন বলেন, ‘আমি ১৬ মার্চ বাংলাদেশে এসেছি। এয়ারপোর্ট থেকে আমাকে দুটি ফরম দেওয়া হয়েছিল পূরণ করতে। এছাড়া, আর কোনো নিদের্শনা দেওয়া হয়নি। কীভাবে আমাকে থাকতে হবে, কেউ কিছু বলেনি। তাই ঘোরাফেরা করি, কাজ করি আর ঘরে থাকি।’

শুধু বিপ্লব হোসেন নন এমন আরো অনেকেই আছেন, যারা জানেনই না কোয়ারেন্টাইন কী বা কীভাবে তাদের থাকতে হবে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, করোনাভাইরাস সন্দেহে নতুন ৩ জনসহ ৩০৭ জনকে হোম কোয়ারেন্টানে রাখা হয়েছে। গত ২২ দিনে মেহেরপুরে ১৫৫৯ প্রবাসী বিভিন্ন দেশ থেকে মেহেরপুরে ফিরলেও সঠিক নাম ঠিকানা না পাওয়ায় তাদের খুঁজে পাওয়া এখনও সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে মেহেরপুর সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দীন জানান, স্বাস্থ্যবিভাগ ও চিকিৎসক দল প্রবাসীদের চিহ্নিত করে তাদের হোম কোয়ারাইন্টে রাখায় কাজ করে যাচ্ছে। অনেকে এটা মানছেন না। প্রবাসীরা যদি নিজেরা সচেতন ও হোম কোয়ারেন্টাইন না মানে তাহলে আরো বিপদে পড়তে হবে। তাই সকল প্রবাসী হোম কোয়ারেন্টাইন মানার জন্য অনুরোধ জানান তিনি। 

মেহেরপুর জেলা প্রশাসক আতাউল গনি জানান, করোনা সর্তকতায় গণসচেতনতা বৃদ্ধিতে সব ধরণের প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তারপরও কিছু মানুষের উদাসীনতা অসংখ্য মানুষের জীবন ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। একারণে, মানুষের প্রাণ বাঁচাতে সরকারকে সেনাবাহিনী পর্যন্ত নামাতে হচ্ছে।

তাই সকলকে এব্যাপারে সকলকে সচেতন হয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার আহবান জানান তিনি।

      

জাকির/বুলাকী