ঢাকা, সোমবার, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০১ জুন ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

‘আম্ফান’ কাঁদিয়ে গেলো কৃষকদের

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক হিলি সংবাদদাতা : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৫-২২ ৭:১৮:০৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৫-২২ ৭:১৮:০৯ পিএম

ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ কাঁদিয়ে গেলো দিনাজপুরসহ হিলির বোরো চাষিদের। জেলার অনেকে জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। করোনার এই পরিস্থিতিতে ধান তালিয়ে যাওয়ায় আরও বিপদে পড়েছেন কৃষক।

সংশ্লিষ্টরা জানান, জেলায় এখনো প্রায় ২০ শতাংশ ধান কাটা বাকি রয়েছে। বুধবার থেকে দুই দিন আম্ফানের কারণে ঝড় আর বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে ধানের ক্ষেত। রাস্তায় আর খোলায় পড়ে রয়েছে কাটা ধান। মাড়াই করা ধানও অনেকে ঘরে তুলতে পারেনি।

শুক্রবার (২২ মে) হিলির ছোট ডাঙ্গাপাড়ার কৃষক খায়রুল ইসলাম রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘এবার আমি দুই বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছি বর্গা হিসেবে। গত মঙ্গলবার এক বিঘা জমির ধান কেটে খোলায় তুলেছিলাম। বাঁকি এক বিঘা জমির ধান বুধবার সকালে কাটা শেষ, ক্ষেত থেকে তুলবো এমন সময় শুরু হলো ঝড় আর বৃষ্টি। কাটা ধান আর তুলতে পারিনি। আজ সকাল থেকে স্বামী-স্ত্রী মিলে এই জমির কাটা ধানের আঁটি পানি থেকে তুলছি। ভেজা ধান অনেক ভারি। কষ্টে করে এই ধান বাড়ি নিতে হবে।’

বিরামপুর উপজেলার কেটরা গ্রামের বোরোচাষী মাসুদ রানা বাদল রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘এবার আমি ২০ বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছি। মাত্র ৫ বিঘা জমির ধান কাটা হয়েছে। বাকি ১৫ বিঘা জমির ধান এখনো পড়ে আছে। এরই মধ্যে ‘আম্ফান’ এসে আমার সর্বনাশ করলো। ঝড়ে সব ধান পড়ে গেছে। ধান নিয়ে খুব চিন্তায় আছি। ক্ষেতে পানি না কমা পর্যন্ত ধান কাটতে পারবো না। ক্ষেতের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে এবার প্রতি বিঘায় ৫ থেকে ৬ মণ ধান নষ্ট হবে।’

হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিসার শামীমা নাজনীন রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘আম্ফানের কারণে অনেকে জমি থেকে ধান তুলতে পারেননি। তবে  ৮০ শতাংশ বরো ধান কাটা হয়েছে। বাকি ২০ শতাংশ ধান পানির নিচে। তবে দুই দিনের বৃষ্টিতে ধানের তেমন ক্ষতি হবে না বলে আশা করছি। যদি আজ থেকে আবহাওয়া ভালো হয় তাহলে কৃষকরা সহজেই ধান কাটা, মাড়াই  করতে পারবে।’

দিনাজপুর জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক তৌহিদ ইকবাল রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘এবার চলতি বোরো মৌসুমে জেলার ১৩ উপজেলায় ১ লাখ ৭১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন কৃষকরা। আম্ফানের আঘাতে বিপাকে পড়েছেন বোরো চাষিরা। তবে আশা করছি, আবহাওয়া ভালো হলে তেমন ক্ষতি হবে না।’


মোসলেম/ইভা

     
 

আরো খবর জানতে ক্লিক করুন : দিনাজপুর, রংপুর বিভাগ