ঢাকা, বুধবার, ২৩ আষাঢ় ১৪২৭, ০৮ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

মসজিদে মসজিদে ঈদের জামাত, করোনামুক্তি কামনা

নিউজ ডেস্ক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৫-২৫ ১২:০৮:৩২ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৫-২৫ ২:৫৬:৩৩ পিএম

করোনা মহামারির মধ্যে দেশের অবরুদ্ধ অবস্থায় এবার ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। এর মধ্যে সোমবার (২৫ মে) সকালে মানুষ ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। নামাজে নভেল করোনাভাইরাস থেকে বিশের মানুষের মুক্তি কামনা করা হয়।

সরকার থেকে ঈদগাহ বা খোলা ময়দানে নামাজ আদায় করতে নিষেধ করা হয়। তাই দেশের মসজিদে মসজিদে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের নামাজ আদায় করা হয়। নামাজ শেষে কোকাকুলি বা হাতে-হাত মিলিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখা যায়নি।

দেশের বিভিন্নস্থান থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা এ সংক্রান্ত খবর পাঠিয়েছেন।   

গোপালগঞ্জ:

গোপালগঞ্জে করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মসজিদে মসজিদে পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। নামাজে দেশ ও জাতির মঙ্গল এবং করোনাভাইরাস থেকে বিশ্বব্যাপীর মুক্তি কামনা করা হয়।

ঈদের নামাজ পড়ার ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি ৫টি করণীয় মেনে চলার জন্য জেলার বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করা হয়। নির্দেশনা মেনে নামাজ শেষে কাউকে কোলাকুলি করতে দেখা যায়নি।

সোমবার (২৫ মে) সকাল ৮টা থেকে জেলার বিভিন্ন মসজিদে ঈদের জামাত শুরু হয়। জেলা কোর্ট মসজিদে নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা হাফিজুর রহমান। সেখানে সকাল সাড়ে ৮টায় দ্বিতীয় ও ৯টায় তৃতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

করোনা ভাইরাসের প্রাদূর্ভাব ঠেকাতে এবার মুসল্লিরা কোলাকুলি থেকে বিরত থাকেন। কেউকে হাতে-হাত মিলিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখা যায়নি। নামাজ শুরুর আগে সামাজিক দূরত্ব এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।

ঈদ জামাত উপলক্ষে জেলায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিভিন্ন স্থানে পুলিশ, আনসারসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত ছিল।

বান্দরবান:

সকাল ৭টা ৩০মিনিটে বান্দরবান স্টেডিয়াম জামে মসজিদে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়া সকাল ৮টায় বান্দরবান কেন্দ্রীয় মসজিদ, জর্জ কোর্ট মসজিদ, বাজার মসজিদে নামাজ আদায় করেন বান্দরবান শহরের মুসল্লিরা। জেলার গ্রামের মসজিদে নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নামাজ শেষে করোনাভাইরাসের মহামারি থেকে রক্ষা পেতে এবং দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে মোনাজাতে অংশ নেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

খুলনা:

খুলনায় প্রধান ও প্রথম জামাত সকাল ৮টায় টাউন জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নামাজ শেষে মোনাজাতে করোনা থেকে মুক্তি কামনা করা হয়।

এই জামাতে ইমামতি করেন মসজিদের খতিব মাওলানা মোহাম্মদ সালেহ। একই স্থানে দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টায় এবং তৃতীয় ও শেষ জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হয়।

ঈদের প্রধান জামাতে খুলনার বিভাগীয় কমিশনার ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন, প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাসহ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশ নেন।

নামাজ শেষে মোনাজাতে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করা হয়। পাশাপাশি করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি এবং আক্রান্ত ও নিহতদের জন্য দোয়া করা হয়।

এছাড়া কোর্ট জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৩১টি ওয়ার্ডের পাঁচ শতাধিক মসজিদে পৃথকভাবে নিজেদের সময় অনুযায়ী ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুরূপভাবে জেলার প্রায় তিন হাজার মসজিদে জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

ঈদের নামাজ আদায়ের সময়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নির্দেশনা মেনে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে কাতারে দাঁড়ান মুসল্লিরা। মসজিদের অজুর স্থানে সাবান ও স্যানিটাইজার রাখা হয়। মুসুল্লিরা বাসা থেকে অজু করে জায়নামাজ নিয়ে এবং মাস্ক পরে মসজিদে আসেন। নামাজ শেষে তারা কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মিলিয়ে মুছাহাফা করেননি।

বাগেরহাট:

স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লিরা। সকাল সাড়ে ৭টায় সেখানে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

এই মসজিদে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশিদ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা নামাজ আদায় করেন।

নামাজ আদায় করতে আসা মুসল্লিদের জন্য কর্তৃপক্ষ মসজিদের প্রবেশপথে হাত ধোয়ার জন্য সাবান, হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখে। মুসল্লিরা মুখে মাক্স পরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কাতারে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে সারিবদ্ধভাবে মসজিদ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় একে অপরের সঙ্গে মুখে কুশলাদি বিনিময় করলেও যুগযুগ ধরে চলে আসা কোলাকুলি করেননি কেউ।

নামাজ শেষে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে মুক্তি এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

ঝালকাঠি:

ঝালকাঠিতে ঈদের প্রথম ও প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মসজিদে। সকাল পৌনে ৮টায় জামাত শুরু হয়।

জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী ও পৌর মেয়র লিয়াকত আলী তালুকদার জামাতে অংশ নেন। সেখানে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা।

এখানে তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। তাতে ৫ শতাধিক মানুষ অংশ নেন। নামাজ শেষে করোনা মহামারি থেকে মুক্তি এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করা করা হয়। নামাজ শেষে এবার কাউকে কোলাকুলি বা হাতে-হাত মিলিয়ে শুভেচ্ছা করতে দেখা যায়নি।

এছাড়া শহরের বিভিন্ন মসজিদে এবং গ্রামের মসজিদে ঈদের জামাতে মানুষ নামাজ আদায় করেন।


বাদল/বাসু/নুরুজ্জামান/টুটুল/অলোক/আরিফুুল/বকুল