ঢাকা, শুক্রবার, ২৬ আষাঢ় ১৪২৭, ১০ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নিজের জীবনটাই বিলিয়ে দিলেন তিনি

রেজাউল করিম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৫-২৫ ২:১০:৩৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৫-২৬ ১১:৫২:০৬ এএম

করোনা যুদ্ধে দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে নিজের জীবনটি উৎসর্গ করে দিলেন কনস্টেবল নেকবার হোসেন।

দুই সপ্তাহ আগে পুলিশ বাহিনীর হয়ে নিজেকে মানুষের সেবায় মনোনিবেশ করেছিলেন। ত্রাণ সহায়তা নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ছুটে গেছেন। এই পুলিশ সদস্যটি করোনায় আক্রান্ত হয়ে শনিবার (২৩ মে) চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে প্রাণ হারালেন।

কনস্টেবল নেকবারের বয়স ৪২। পাঁচ সন্তানের জনক। নিজের জীবন উৎসর্গকারী এই পুলিশযোদ্ধার গ্রামের বাড়ি ভোলা জেলার চরফ্যাশনে। তিনি স্ত্রী, সন্তানসহ বহু আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। পুলিশের ব্যবস্থাপনায় এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে শনিবার বিকেলেই ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (পিআর) আবু বকর সিদ্দিক জানান, নেকবার হোসেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের হালিশহর থানায় কর্মরত ছিলেন। মাত্র ২ সপ্তাহ আগে নিজের কাঁধে ত্রাণের ব্যাগ বহন করে অসহায় মানুষদের ঘরের দরজায় পৌঁছে দিয়েছেন তিনি।  সেবা করতে গিয়েই গত বৃহস্পতিবার থেকে অসুস্থতা বোধ করেন এই পুলিশ সদস্য। ২১ মে  প্রথমে তাকে চট্টগ্রাম পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে করোনার জন্য ডেডিকেটেড চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ২৩ মে শনিবার সকাল সাড়ে আটটায় করোনা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

মৃত্যুর পর তাঁর নমুনা সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। রোববার (২৪ মে) নমুনা পরীক্ষায় পজেটিভ ফলাফল পাওয়া যায় অর্থাৎ কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন কনস্টেবল নেকবার হোসেন।

নেকবার হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ পুলিশ প্রধান (আইজিপি) বেনজির আহমেদ, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রহমান।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রহমান বলেন, 'করোনা ভাইরাসের এই মহামারিকালে বেঁচে থাকার প্রতিযোগিতার দৌড়ে মানুষজন যখন ঘরবন্দি হচ্ছে, ঠিক তখনই দায়িত্বের গণ্ডি পেরিয়ে  মানবিকতার টানে, ভালোবাসার টানে অসহায় মানুষদের জন্য মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কাজ করে গেছেন কনস্টেবল নেকবার হোসেন। তিনি করোনা ভাইরাসের ভয়ে ভীত হননি, আতঙ্কিত হননি, নিজের এবং পরিবারের কথা ভাবেননি । তাঁর কিছু হলে তার পাঁচটি সন্তান কোথায় দাঁড়াবে -এ কথাটি একবারও ভাবেননি। 'কমান্ড ইজ কমান্ড' - কমান্ড হৃদয়ের, কমান্ড ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের। এই যুদ্ধে হারবার নয়। তাই  সুপ্রশিক্ষিত এই যোদ্ধা ত্রাণ বিতরণে ছুটে চলেছিলেন অসহায় মানুষদের  দ্বারে দ্বারে।নিজের অজান্তে শরীরে বহন করেছেন প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। হতদরিদ্র মানুষের সুখের আশায় বিলিয়ে দিয়েছেন সবটুকু, একেবারে জীবনটুকু।'


চট্টগ্রাম/টিপু

       
 

আরো খবর জানতে ক্লিক করুন : চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম বিভাগ