ঢাকা, শনিবার, ৯ ফাল্গুন ১৪২৬, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

নেতার যে গুণাবলি সমাজকে আলোকিত করে

গোলাম মোস্তফা মজুমদার : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১০-০৩ ১১:২৫:০৮ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১০-০৩ ২:৪৭:১৯ পিএম

সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সব সংগঠনই নেতা তৈরি করে। সংগঠনে সবার মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে নেতৃত্বের চর্চা হয়ে থাকে। সদস্যরা সৃজনশীল ও সুদূরপ্রসারী চিন্তা বাস্তবায়ন করতে দলগতভাবে কাজ করেন। মানব কল্যাণে ভালো কাজ করাই এদের মূল লক্ষ্য। সংগঠনের ভালো কাজের মাধ্যমে দেশ, সমাজ ও মানুষ উপকৃত হয়।

নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনের জন্য দীর্ঘ সময় সংগঠনের সাথে থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন ও অনেক ত্যাগ করার একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া পাড়ি দিতে হয়। সংগঠনে বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটে।

এবার জেনে নেই নেতৃত্বের গুণাবলি :

নেতা সাধারণ মানুষের তুলনায় অধিকতর বুদ্ধিমান এবং সাহসী হয়ে থাকে। তার থাকে চমৎকার উদ্ভাবনী শক্তি এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে অতি দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার ক্ষমতা। তিনি দুঃখ পান না। ভেঙে পড়েন না এবং হতাশার সাগরে হাবুডুবু খান না। মানুষের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং বিশ্বাস অর্জনের জন্য নেতার থাকে অসাধারণ এক প্রকৃতি প্রদত্ত শক্তি। নেতার কথা, কণ্ঠস্বর, বাচনভঙ্গি, মুখচ্ছবি এবং শারীরিক গঠনে এমন এক মহাজাগতিক সৌন্দর্য সন্নিবেশিত থাকে যে, মানুষ মুগ্ধ হয়ে তার পানে ধেয়ে যেতে থাকে। নেতার মানবিক গুণাবলি সমকালীন অন্যান্য মানুষ থেকে শ্রেষ্ঠতর হয়। তিনি হন, অতি উত্তম দাতা। তিনি পরোপকারী এবং সব মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। তিনি সবাইকে ভালোবাসেন। নেতার প্রতিদ্বন্দ্বী থাকে কিন্তু তিনি কাউকে শত্রু মনে করেন না। তিনি দুষ্টের দমন এবং শিষ্টের পালন করে থাকেন। তিনি সর্বদাই নিজেকে উত্তম বিচারক ভাবেন। ন্যায়বিচারের স্বার্থে তিনি অপরাধীকে শাস্তি দেন বটে, কিন্তু কাউকে অত্যাচার করেন না। তিনি মানুষকে ভালোবাসার জন্য এবং ক্ষমা করার জন্য সর্বদা উছিলা তালাশ করতে থাকেন।

নেতা অহঙ্কার করেন না- তিনি মিথ্যাও বলেন না। অতিকথন, অতিভোজন এবং মাত্রাতিরিক্ত নিদ্রা নেতার বৈশিষ্ট্য নয়। ভোগবিলাস, আলস্য, সাজসজ্জার বাড়াবাড়ি, অপব্যয় এবং বেহিসেবি চালচলন নেতা সবসময় পরিহার করে চলেন। সত্য, সুন্দর এবং সাধারণত্ব দিয়ে নেতা নিজের জন্য স্বতন্ত্র একটি স্টাইল পয়দা করে থাকেন, যা তার অনুসারীরা যুগ-যুগান্তরে বয়ে নিয়ে যায় নেতার আদর্শের ধারক-বাহক এবং পরিচয়ের সত্তা হিসেবে।

নেতা রাগান্বিত হন না- কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন না- কাউকে দায়ী করেন না এবং প্রকাশ্যে ভৎসনা করেন না। তিনি কাউকে অপমান করেন না-কারো মনে বেদনার সৃষ্টি হয় এমন কিছু করেন না এবং কাউকে অভিশাপ দেন না। নেতার প্রফুল্লতা সবসময়ই প্রকাশ্যে হয়ে থাকে, যা তার অনুসারীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে সমান তালে। তার হাঁটা-চলা, চাহনি, কথাবার্তা, অঙ্গভঙ্গি সবকিছুর মধ্যে একটা ছন্দময় গতি এবং সুর লহরীর ঝঙ্কার থাকে। ফলে নেতা না চাইলেও মানুষ সবসময় তাকে পরিবেষ্টন করে রাখে নেতৃত্বের অমিয় সুধারস লাভের আশায়।

নেতার দিব্যজ্ঞান, ভিন্নমাত্রার চিন্তাশক্তি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করার অসাধারণ বুৎপত্তি তাকে সবার মধ্যে সর্বোচ্চ আসনে বসিয়ে রাখে। সহনশীলতা, সততা, ধৈর্যশীলতা এবং কৃতজ্ঞতা নেতার চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তিনি হন শান্ত অথচ দুরন্ত। তিনি স্থির থাকেন, তবে ছুটে চলার সময় তার দুর্বার গতি সবাইকে ছাড়িয়ে যায়। পরিশ্রম করার ক্ষেত্রে তিনি অনন্য এবং যুদ্ধের ময়দানে তিনি মহাবীর। তিনি কাউকে অনুসরণ করেন না- সবাই তাকে অনুসরণ করে। তিনি পরামর্শ করেন-তবে সিদ্ধান্ত নেন একক কর্তৃত্বে। তিনি পরাজয়ের দায়ভার নিজের কাঁধে নেন এবং বিজয়ের কীর্তিগাথা ভাগ করে দেন সবার মাঝে। তিনি একাকী খানাপিনা পছন্দ করেন না। তিনি খেতে এবং খাওয়াতে পছন্দ করেন। তিনি উপহার গ্রহণের তুলনায় উপহার প্রদানকেই শ্রেষ্ঠ বলে বিবেচনা করেন। তিনি নিয়মিত ধ্যান করেন এবং নিজের নিয়তির বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখেন। তিনি মনমানসিকতায় রক্ষণশীলতা পরিহার করেন এবং অতি উত্তম মানুষজনকে সঙ্গী-সাথী বানানোর জন্য নিরন্তর চেষ্টা করতে থাকেন। তিনি পাথরের বুকে কোনো কিছু খোদাই করার পরিবর্তে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেয়ার জন্য আমৃত্যু চেষ্টা করতে থাকেন।

আপনার মধ্যে যদি উপরিউক্ত গুণাবলি থাকে তবে আপনি অবশ্যই একজন নেতা।

আপনার সফলতা কেবল আপনি নিজে অনুভব করতে পারবেন। অন্যেরা আপনার সার্থকতা দেখবে। পৃথিবীবাসীর কাছে নেতার সফলতা এবং সার্থকতা অনেকটা আপেক্ষিক। অনেক নেতা রাষ্ট্রক্ষমতা পান না। কিন্তু তাতে কী? সত্যিকার নেতা তো ক্ষমতালোভী হন না। জমিনে ক্ষমতার বিস্তার না হলেও মানুষের হৃদয়ে তিনি স্থায়ী আসন পেতে রাজত্ব করতে থাকেন চিরস্থায়ীভাবে।

লেখক : নির্বাহী পরিচালক, সেভ দ্য ফিউচার।


ঢাকা/গোলাম মোস্তফা/হাকিম মাহি