ঢাকা, সোমবার, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০১ জুন ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

করোনা প্রতিরোধক: ডুয়েটের গবেষকদের প্রাথমিক সফলতা

আশরাফুল অ্যাস্ট্রো : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৩-২৭ ১০:২৭:৩০ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৩-২৭ ১০:২৭:৩০ পিএম

পুরো পৃথিবী যখন করোনা আতঙ্কে রয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে কোভিড-১৯ এর প্রতিরোধক ওষুধ তৈরির গবেষণায় প্রাথমিক সফলতার দাবি করেছেন ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) তিন গবেষক।

তারা বলছেন, দেশীয় উদ্ভিদ ও প্রযুক্তি ব্যবহারে করোনা নিরাময়ে ওষুধ তৈরি সম্ভব। দ্রুত এ গবেষণাকে কাজে লাগাতে সরকারকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এ গবেষক দলের সদস্যরা।

তারা হলেন- যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুস সাহিদ ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল কাশেম।

চীনের উহান থেকে মরণঘাতী করোনা ভাইরাস এখন ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই। মৃত্যুর মিছিলে প্রতিনিয়তই বাড়ছে মানুষের সংখ্যা। অনেকটা জ্যামিতিক হারেই বাড়ছে সংক্রমণ। প্রতিরোধক বা প্রতিষেধক না থাকায় লকডাউনই একমাত্র সমাধান বিবেচনায় স্থবির হয়ে পড়েছে গোটা বিশ্ব।

নিরাময়ের ওষুধ আবিষ্কারে বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা চালিয়ে যাচ্ছেন গবেষণা। বসে নেই বাংলাদেশও। গাজীপুরের ডুয়েটের তিন অধ্যাপক জানালেন করোনা নিয়ে তাদের গবেষণার প্রাথমিক সাফল্যের কথা।

ডুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘এখানে কার্বোক্সিল গ্রুপ কার্বো-অক্সাইল গ্রুপ এবং এমাইনো অক্সাইল গ্রুপকে নিষ্ক্রিয় করতে পারে।’

তারা জানালেন, করোনাভাইরাসের বিভিন্ন প্রোটিনে নানাবিধ রাসায়নিক উপাদান রয়েছে। যা শ্বাসনালিসহ মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এসব উপাদানগুলো নিবিড়ভাবে পরীক্ষা আর অনুসন্ধানে তারা এ ভাইরাসের মধ্যে কার্বোক্সিল ও এমাইনো গ্রুপ পেয়েছেন।

দীর্ঘ গবেষণায় এ গ্রুপগুলো অকার্যকর করতে হাইড্রোক্সিল প্রভাব ফেলবে বলে প্রমাণ পেয়েছেন। এ অবস্থায় তারা দেশীয় ও সহজলভ্য হাইড্রোক্সিলের বিভিন্ন উৎস নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে গিয়ে আবিষ্কার করেন দেশীয় উদ্ভিদের উপাদানের মধ্যে হাইড্রোক্সিল গ্রুপ রয়েছে। পরবর্তীতে ওইসব উদ্ভিদকে প্রথমে এক্সট্র্যাক্ট করে পজেটিভ ফল পান তারা।

গবেষকদের দাবি, এসবের সাথে আরো কিছু প্রাকৃতিক উপাদানযুক্ত করেই করোনা নিরোধক ওষুধ তৈরি করা যেতে পারে। শুধু করোনা নিরোধই নয়, ভাইরাস থেকে মানবদেহকে রক্ষা করতে ইলেক্ট্রো-ইস্পান পদ্ধতি ব্যবহার করে অ্যান্টি-ভাইরাল পোশাক, গ্লাভস ও মাস্কসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপাদান তৈরিতে সহায়ক হবে।

অধ্যাপক ড. আবদুস সাহিদ বলেন, ‘কোনো ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া আমাদের তৈরি বিভিন্ন ফাইব্রাস মেড ভেদ করে প্রবেশ করতে পারবে না। এ গবেষণা শিগগিরই কাজে লাগানোসহ জনস্বাস্থ্য রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ দেবে সরকার এমনটাই প্রত্যাশা করছি।’

উল্লেখ্য, গবেষক দলটি ইতোমধ্যে তাদের গবেষণার ফলাফল আন্তর্জাতিক জার্নালে সাবমিট করেছেন এবং একই সাথে তারা গবেষণাটির বিভিন্ন দিক নিয়ে অন্যদেরও কাজ করার আহ্বান জানান।


ডুয়েট/হাকিম মাহি