ঢাকা, শুক্রবার, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০৫ জুন ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

ওদের কী হবে!

সজীবুর রহমান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৪-০১ ৪:০৬:৫৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৪-০১ ৪:০৬:৫৪ পিএম

রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা ক্যাম্পাসে গেটের সামনে দেখা যায় কয়েকটা কুকুর ঘোরাঘুরি করে। কেউ যদি একটা পাউরুটি খেতে দেয়, তাহলে সারাদিন তার পিছুপিছু ঘুরবে, লেজ নাড়াবে, আর ঘেউ ঘেউ করে তাকে কুর্নিশ জানাবে।

অনেকেই অনেক নামে ডাকে ওদের (টম, এটম, কালু ইত্যাদি) আর সম্প্রতি তিনটা কুকুরছানা যুক্ত হয়ে দলভারী করেছে। ক্যাম্পাসের দুইটি হল আর সামনে থাকা দোকানগুলোর উচ্ছিষ্ট খেয়েই বেঁচে থাকে এই প্রাণীগুলো।

করোনার জন্য আজ প্রায় ১৩ দিনের বেশি হল ক্যাম্পাস বন্ধ হয়ে গেছে, তার সঙ্গে বন্ধ হয়ে গেছে দুইটি হল, আর আশেপাশের সব দোকান ও খাবারের হোটেলগুলো। তাহলে এটম, কালু ওদের এখন কী অবস্থা? হয়তো বা না খেতে পেয়ে আশেপাশের গ্রামগুলোতে ঘুরে বেড়াচ্ছে খাবারের সন্ধানে। ওরা তো আর বোঝে না দেশে জরুরি অবস্থা এখন। করোনা আতঙ্কে সবাই এখন গৃহবন্দি।

করোনার প্রভাবে ঠিক এমনই অবস্থা রাস্তায় থাকা এসব বিড়াল, কুকুরের মতো নানা প্রাণীদের। রাস্তার লোকসমাগম না থাকায় ওদের খাওয়া-দাওয়া এখন বন্ধ প্রায়। রাস্তায় ডাস্টবিনগুলোও এখন ঢাকনাবন্দি। বাইরে লোকসমাগম না থাকায় হোটেলগুলোও বন্ধ, তাই রাস্তায় পড়ে থাকছে না উচ্ছিষ্ট খাবার, ডাস্টবিনগুলোতেও নেই ওদের জন্য পড়ে থাকা খাবারের অংশ। এক দুর্বিষহ অবস্থায় আছে এই প্রাণীগুলো, না পাচ্ছে বেঁচে থাকার জন্য খাবার, না কেউ বুঝতে পারছে তাদের কষ্টের কথা।

মানবিকতার দিক দিয়ে হলেও এদের জন্য আমাদের কিছু করা উচিৎ। কারণ এইসব প্রাণীরা আমাদের পরিবেশর জন্য খুবই উপকারি। এরা উচ্ছিষ্ট খেয়ে আমাদের পরিবেশকে পরিষ্কার রাখে। তাছাড়াও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার জন্যও এরা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তাই আসুন আমরা এইসব পশু-পাখির জীবন রক্ষার জন্য এগিয়ে আসি। আমাদের সবার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাই পারে এই কঠিন পরিস্থিতিতে প্রাণীগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে।

আমরা যদি নিজ উদ্যোগে আমাদের খাবারের উচ্ছিষ্টগুলো আশেপাশের কুকুর বিড়ালকে দেই, তাহলে তা এদের জন্য বেঁচে থাকার সহায়ক হবে। তাই আমাদের উচিৎ এসব প্রাণীদের পাশে থাকা।


যবিপ্রবি/হাকিম মাহি