ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০২ জুন ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

‘ডাক্তার করোনা’ করবে করোনা চিকিৎসা

আহমেদ ফাহিম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৪-২১ ৬:২৮:০১ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৪-২১ ৮:৪৪:৩০ পিএম

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সফটওয়্যার ‘ডাক্তার করোনা’ তৈরি করেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ফলিত গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী আহমেদ কাওছার।

বর্তমান পরিস্থিতে করোনো সংক্রমণের হার কমানো, নতুন রোগী শনাক্তকরণ ও ডাক্তারদের সহায়ক হিসেবে করোনা টেস্ট করা, করোনা টেস্ট করার প্রয়োজন আছে কিনা এসব তথ্য জানা যাবে এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে।

সফটওয়্যারটি তৈরিতে সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী এস কে ফয়সাল আহমেদ ও চুয়েটের সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী অভিষেক দাস।

সফটওয়্যারটি তৈরির বিষয়ে আহমেদ কাওছার বলেন, ‘আমাদের এই সফটওয়্যারটি তৈরির জন্য আমরা বাংলা ভয়েস রিকগনিশন, বাংলা ভাষা প্রসেসিং, বাংলা চ্যাটবট, মেশিং লার্নিং ক্লাসিফাইয়ার ও ওয়েব অ্যাপস ব্যবহার করেছি। আমরা মনে করছি, আমাদের এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে করোনার সংক্রমণ হার অনেকাংশে কমানো সম্ভব ও নতুন করোনা রোগী শনাক্ত করার ক্ষেত্রেও এটি অনেক বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।’

‘এছাড়াও ডাক্তারদের সুরক্ষার ক্ষেত্রেও অবদান রাখতে পারবে। মূলত এই সফটওয়্যারটি বর্তমান পরিস্থিতে একজন ডাক্তারের সহায়ক হিসেবে কাজ করবে’, বলেন তিনি।

কাওছার আরও জানান, ‘আমরা চীনের উহান শহরের মোট ১৩ হাজার করোনা আক্রান্ত রোগীর ডেটা বিশ্লেষণ করে এমন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সফটওয়্যার নিয়ে কাজ করেছি, যেটা সম্পূর্ণভাবে একজন ডাক্তারের মতো কাজ করতে সক্ষম হবে। আমাদের এই সফটওয়্যারটি ডাক্তারের ন্যায় করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির লক্ষণ, করোনা টেস্টের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জানাবে। এটি সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্ম লক্ষণগুলোও ধরতে পারবে এবং নিজে থেকে সেগুলো বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত দিতে পারবে।’

সফটওয়্যারটি রোগীর ইমোশন বুঝতে পারবে উল্লেখ করে আহমেদ কাওছার বলেন, ‘আমাদের এই সফটওয়্যারে ৬ ধরনের ১৬ হাজার ইমোশন ডিটেকশন ডাটা ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে এটি রোগীর ইমোশন বুঝতে পারে।’

এটি একজন রোগীর সাথে সরাসরি বাংলা ভাষায় কথা বলবে। এটি করোনা  রোগীর সাথে কবিতা, গান, গল্প বলতে পারবে এবং হোম কোয়ারেন্টাইনে বন্ধু হয়ে থাকবে। এছাড়াও সফটওয়্যারটি করোনা সম্পর্কে যেকোনো প্রশ্নের উত্তর এবং তথ্য (নম্বর,  পুলিশ লাইন, আপডেট ইনফরমেশন ইত্যাদি) দেবে। করোনা সন্দেহভাজন একজন রোগীকে ডাক্তারের মতো করে প্রশ্ন করবে এবং তার লক্ষণগুলো বিচার করে সিদ্ধান্ত জানাবে। রোগীকে জানানো সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করে আবার মেশিন লার্নিং এলগরিদমের সাহায্যে একটি ডেইলি রুটিন রোগীকে দেওয়া হবে। তাছাড়া বাসায় একা সময় না কাটিয়ে যেকোনো রোগী চাইলে এটির সাথে কথা বলতে পারবে, জোক শুনতে পারবে, করোনা চেকআপ  করতে পারবে এবং আপডেট তথ্য অনুযায়ী রোগীর  রুটিন পরিবর্তন করতে পারবে।

সফটওয়্যারটি সাধারণ মানুষের ব্যবহার উপযোগী করার বিষয়ে আহমেদ কাওছার বলেন, ‘আমাদের এই সফটওয়্যারটি সাধারণ মানুষের ব্যবহার উপযোগী করার জন্য একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে, এর জন্য বেশ মোটা অংকের টাকার প্রয়োজন, যা আমাদের পক্ষে বহন করা সম্ভব না। তাই আমরা চাই এই পরিস্থিতিতে কেউ আমাদের সাথে এগিয়ে আসুক, যাতে আমরা দেশের জন্য এগিয়ে আসতে পারি।’


নোবিপ্রবি/হাকিম মাহি

     
 

ট্যাগ :