ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ আষাঢ় ১৪২৭, ০২ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

জিপিএ-৫ পেয়েও কলেজে ভর্তি অনিশ্চিত মনিকার

আসমাউল মুত্তাকিন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৬-০৫ ৯:৪১:৪২ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৬-০৫ ১২:৪১:৩৮ পিএম

‘মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়’ অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের এই কথাটি আমরা কম-বেশি সবাই জানি। স্বপ্ন একটা শব্দ হলেও এর তাৎপর্য ও গভীরতা বিশাল। স্বপ্নের পথে কোনো কিছুই বাঁধা হতে পারে না। এমন এক স্বপ্নবাজ শিক্ষার্থী মনিকা রানী।

গাইবান্ধার সাদুল্লাহপুর উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের একটি গ্রাম হবিবুল্লাপুর। এ গ্রামের বাস করেন মনিকা রানী। দুই ভাই-বোনের মধ্যে মনিকা ছোট। অনন্ত কুমার মন্ডল তার বাবা। তিনি পেশায় একজন কৃষক। তিনি জমিতে কৃষি ফসল ফলান। তা বিক্রি করে কোনো মতে সংসার চালান। অভাবের এই সংসারে কষ্ট করে পড়াশোনা করেছে মনিকা। স্বপ্ন দেখে একদিন ডাক্তার হবে সে। আর বাবাকে সহযোগিতা করার জন্য পড়াশোনার পাশাপাশি প্রায়ই মাঠে কৃষি কাজ করে মনিকা।

মনিকা সাদুল্লাপুর বহুমুখী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৭ সালে জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এবং সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পায়। এছাড়াও সাদুল্লাপুরের হবিবুল্লাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১৪ সালে পিএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পায়। ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নে বিভোর মনিকা এক ধাপ অগ্রসর হন ২০২০ সালে ৩১ মে রোববারে। সে সাদুল্লাপুর বহুমুখী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।

তবে এসএসসিতে মনিকার জিপিএ-৫ পাওয়ার ব্যাপারে সাদুল্লাপুর বহুমুখী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রেহানা খাতুনের অনেক অবদান রয়েছে। বিদ্যালয়ে পাঠদানের পাশাপাশি মনিকাকে আলাদা করে বাসায় বিনা বেতনে পড়িয়েছেন তিনি।

মনিকা জানায়, পড়ালেখা করে ডাক্তার হতে চায় সে। কিন্তু অভাবের কারণে এখন ভালো কোনো কলেজে ভর্তি হওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

মা সাবিত্রী রাণী বলেন, ‘অভাবের কারণে ছেলেকে পড়াশোনা করাতে পারিনি। কিন্তু মনিকা ভালো ছাত্রী হওয়ার কারণে পড়াশোনার ব্যাপারে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অনেক সহযোগিতা করেছে। মেয়ে এসএসসিতে ভালো ফলাফলও করেছে। কিন্তু এখন মেয়েকে কলেজে ভর্তি করাতে অনেক টাকার প্রয়োজন। সেই টাকা জোগাড় করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আর টাকা না হলে মেয়েকে কলেজে ভর্তি করাবো কীভাবে?’

সাদুল্লাপুর বহুমুখী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনশাদ আলী বলেন, ‘মনিকা লেখাপড়ায় অত্যন্ত মেধাবী। সে যেন জীবনে অনেক বড় হয় সে দোয়া করি।’

 

ঢাকা/হাকিম মাহি