ঢাকা, সোমবার, ২৯ আষাঢ় ১৪২৭, ১৩ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সাবেক শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা

এবিএস ফরহাদ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৬-০৫ ১১:০৫:৪২ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৬-০৫ ৩:১৩:৫৫ পিএম

দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ছিল ২৮ মে। ঐতিহাসিক প্রত্নস্থান শালবন বিহার ও ময়নামতি জাদুঘরের কূল ঘেঁষে ২০০৬ সালের ২৮ মে প্রতিষ্ঠিত হয় লালমাটির ক্যাম্পাস কুবি। বহু স্বপ্ন ও প্রত্যাশা নিয়ে ১৪ বছর পেরিয়ে ১৫ বছরে পদাপর্ণ করলো বিশ্ববিদ্যালয়টি। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সাবেক শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা নিয়ে লিখেছেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবিএস ফরহাদ।

প্রমেশ চাকমা, লোকপ্রশাসন বিভাগ (৬ষ্ঠ ব্যাচ)

আমি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে আশা করব বিশ্ববিদ্যালে একটি সুন্দর আধুনিক খেলাধুলার মাঠ হোক, যেখানে সব ধরনের খেলাধুলার চর্চা থাকবে। শিক্ষায় বরাদ্ধ ও গবেষণার তহবিল বাড়ানো, পূর্ণ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতিসহ হল বাড়ানো, বাস সংকট নির্মূল করে বাস সংখ্যা বাড়ানো, ৫০ একর ক্যাম্পাসকে ৫০০ একর ক্যাম্পাসে পরিণত করা।

আফসানা আক্তার, নৃবিজ্ঞান বিভাগ (৮ম ব্যাচ)

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে জড়িয়ে আছে আমার কত শত স্মৃতি। আজ সাবেক হওয়ার পরও এই ক্যাম্পাসের প্রতি এখনও রয়েছে সেই শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা, যা শেষ হবার নয়। ছোট-বড় পাহাড়ের ভিড়ে ক্যাম্পাসটি যেন তার অন্যরকম এক রূপ প্রকাশ করে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। কালের পরিক্রমায় ধীরে ধীরে ক্যাম্পাসে হচ্ছে নানা পরিবর্তন, যাতে করে এই বিশ্ববিদ্যালয় আরও নতুন সাজে সজ্জিত হচ্ছে।

হাঁটি হাঁটি পায়ে ১৫ বছরে পদার্পণ। এই পথচলায় ছিল হাজারো প্রতিবন্ধকতা, কিন্তু তবুও থেমে যায়নি। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে ক্যাম্পাসে থাকতো নানা আয়োজন ও আনন্দমুখর এক পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হতো আমাদের ক্যাম্পাস। কিন্তু সময় হয়তো তা চায় না। করোনাভাইরাসের এই ভয়াবহতা থেকে একদিন রক্ষা পাবে এই দেশ ও জাতি, আমাদের সবার একটাই কামনা। আবার প্রাণ ফিরে পাবে আমাদের সেই চিরচেনা ক্যাম্পাস।

নুর মোহাম্মদ জিসান, বাংলা বিভাগ (৬ষ্ঠ ব্যাচ)

১৫ বছরে পদার্পণে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কেমন চাই?  জিজ্ঞাসার উত্তরে এক কথায় বলে শেষ করা যাবে না। তবুও যদি এক কথায় বলি, মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয় চাই। আমরা কেমন মানুষ হতে চাই জিজ্ঞাসা করলে বলব, মানুষের মতো মানুষ হতে চাই। ঠিক তেমনি বিশ্ববিদ্যালয় কেমন চাই, জিজ্ঞাসা করলে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশ্ববিদ্যালয় চাই’ বলব।

পূরবী দেবী, নৃবিজ্ঞান বিভাগ (৮ম ব্যাচ)

যেদিন লাল পাহাড়ঘেরা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রথম হেঁটেছিলাম, সেদিনই আমি নিজের মধ্যে একটা আলাদা জগৎ খুঁজে পেয়েছিলাম। তারপর সেই ক্লাসরুম থেকে শুরু করে ক্যাম্পাসের সর্বত্র বিচরণ। বন্ধুদের সাথে মিলেমিশে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা, গান, চা খাওয়া- সবকিছু যেন প্রাণের উচ্ছ্বাসে মুখরিত রেখেছে আমায়। অ্যাসাইনমেন্ট, মিডটার্ম, সেমিস্টার ফাইনাল প্রত্যেকটার শেষেই চলতো ক্যাফেটেরিয়ায় আড্ডা। এখন শুধু মনে হয় এই প্রাণের ক্যাম্পাস কি আমায় মনে রাখবে! তার দায়িত্বই কি শুধু বিদায় দেওয়া! এদিক থেকে তাকে খুব কঠোর মনে হয়! অথচ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি সৃষ্টির আছে তার নিজস্ব মোহে আবিষ্ট করার। এই ১৫ এর আবর্তনে এসে বলতে পারি, উচ্চশিক্ষায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় অনেক দূর এগিয়েছে।

আজ এখানকার শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অবদান রাখছে। আমরা জেনেছি, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান আছে। অদূর ভবিষ্যতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামো হবে আকৃষ্টপ্রবণ। এসবের পাশাপাশি বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য আমাদের আরও গবেষণাগার ও উদ্ভাবন বাড়াতে হবে। একইসাথে শতভাগ যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে। আশা করি একদিন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ব চিনবে লাল পাহাড়িকা এই বিশ্ববিদ্যালয়কে।

মাহামুদুল হাসান, ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগ (৮ম ব্যাচ)

ভালোবাসা আর আবেগের আরেক নাম কুমিলা বিশ্ববিদ্যালয়। হাঁটি হাঁটি পা পা করে আজ তুমি ১৫ বছরে পদার্পণ করলে। প্রায় ৫ বছরের আবেগ নিয়ে মনে মিশে আছ তুমি।

কী পাইনি? এই সবুজ আর পাহাড়ের মায়ায় ঘেরা ক্যাম্পসে! বেশি পেয়েছি। এই মায়া কেউ কোনো দিন কাটিয়ে উঠতে পারবে না। আরও অনেক কিছু চাওয়ার আছে আমার এই স্বপ্নপুরিতে। বিগত কয়েক বছরে অনেক উন্নয়ন হয়েছে, কিছু ভালো মানুষের হাত ধরে এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। আমি সাবেক শিক্ষার্থী  হিসেবে চাইব, এই প্রাণের ক্যাম্পাসের অগ্রগতির ধারা যেন ঠিক এইভাবে অব্যাহত থাকে।

 

কুবি/হাকিম মাহি