ঢাকা, মঙ্গলবার, ২ আশ্বিন ১৪২৬, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

১৯৮৭ বিশ্বকাপ : অস্ট্রেলিয়ার আধিপত্যের শুরু

মুহাম্মদ মেহেদী হাসান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৫-২১ ১০:৩৯:৩০ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৮-০৫ ৩:০৯:৪৭ পিএম
১৯৮৭ বিশ্বকাপ : অস্ট্রেলিয়ার আধিপত্যের শুরু
Walton E-plaza

মুহাম্মদ মেহেদী হাসান : দেখতে দেখতে দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করেছে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের দ্বাদশ আসর। এবার বিশ্বকাপের আয়োজনটা হচ্ছে ক্রিকেটের জন্মভূমি ইংল্যান্ডের মাঠে। এই প্রতিযোগিতাকে ঘিরে অনেক আগে থেকেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয়ে গেছে উন্মাদনা।

দশটি দলের অংশগ্রহণে হচ্ছে এবারের বিশ্বকাপ। প্রত্যেকটা দল একে অন্যের মুখোমুখি হবে। সেরা চারটি দল খেলবে সেমিফাইনালে। এরপর ফাইনাল দিয়ে শেষ হবে আসর। মাঠের ক্রিকেট উন্মাদনা ছড়ানোর আগে দেখে নেওয়া যাক ক্রিকেট বিশ্বকাপের ইতিকথা।

চতুর্থ পর্বে আজ থাকছে ১৯৮৭ সালের বিশ্বকাপের ইতিহাস।

পড়ুন প্রথম পর্ব: বিশ্ব ক্রিকেটের প্রথম রাজা ওয়েস্ট ইন্ডিজ

অবশেষে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এলো বিশ্বকাপ। বলা হয়ে থাকে ক্রিকেটীয় রেনেসাঁ যুগের সূচনা হয় ১৯৮৭ সালের এই ওয়ানডে বিশ্বকাপে দিয়ে। টানা তিনটি বিশ্বকাপ ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো এই আসর বসে ভারত ও পাকিস্তানে। তবে এবারও আয়োজক হতে চেয়েছিল সেই ইংল্যান্ডই। অন্য দেশগুলোর চাপেই শেষ পর্যন্ত সমুদ্র পার হয় বিশ্বকাপ। পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগে এর দৈর্ঘ্যেও। ৬০ ওভার থেকে ৫০ ওভারে চলে আসে ম্যাচের পরিধি। পৃষ্ঠপোষক প্রুডেন্সিয়ালের জায়গা নেয় ভারতীয় প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স। এ ছাড়াও প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ আম্পায়াররা পরিচালনা করেন ম্যাচগুলো।



তবে আগের আসরের মতোই ছিল গ্রুপপর্বে প্রত্যেকে প্রত্যেকের সঙ্গে দুবার করে মোকাবিলা করে। এবারও অংশ নেয় ৮টি দল। ২৭টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় ভারত ও পাকিস্তানের মোট ২৭টি ভেন্যুতে। দুই আয়োজক দেশকে দুই গ্রুপে রাখা হয় এবং নিজেদের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় নিজ দেশেই। গ্রুপ ‘এ’তে স্বাগতিক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতের সঙ্গে ছিল অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ে এবং ‘বি’ গ্রুপে খেলে আরেক স্বাগতিক পাকিস্তানের সঙ্গে ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও সাবেক চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রতি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল খেলে সেমিফাইনাল। এরপর ফাইনাল।

পড়ুন দ্বিতীয় পর্ব: ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাফল্যের মুকুটে আরেকটি পালক

শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে স্বাগতিক পাকিস্তানের যাত্রাটা শুভ হলেও অস্ট্রেলিয়ার কাছে হোঁচট খেয়ে শুরু করে আরেক স্বাগতিক ভারত। শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে মাত্র ১ রানে হারে তারা। অসিদের দেওয়া ২৭১ রানের লক্ষ্যে ২ উইকেট হারিয়ে ২০২ রান তুলেছিল দলটি। তবে আর ৬৭ রান যোগ করতে বাকি ৮ উইকেট হারায় ভারত। কিন্তু এরপরের পাঁচটি ম্যাচ টানা জিতে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় ঠিকই। পাঁচটি ম্যাচ জিতে তাদের সঙ্গে শেষ চারে উঠে আসে অস্ট্রেলিয়াও। রান রেটে এগিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত।

৫টি ম্যাচ জিতে ‘বি’ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়েই সেমিফাইনালে নাম লেখায় আরেক স্বাগতিক পাকিস্তানও। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে একটি ম্যাচ হারে তারা। তাতে লাভ হয়নি ক্যারিবীয়দের। সবাইকে বিস্ময় উপহার দিয়ে গ্রুপপর্ব থেকে বাদ পড়ে আগের তিনবারের ফাইনালিস্ট ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে ক্যারিবীয়দের প্রথম লড়াইয়ে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচটি ১ উইকেটে জিতে নিয়েছিল পাকিস্তান। ‘এ’ গ্রুপ থেকে সেমিফাইনালে স্বাগতিকদের সঙ্গী হয় ইংল্যান্ড।



গ্রুপপর্বে তোড়জোড় করে ম্যাচ জিতলেও সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেয় দুই স্বাগতিক দলই। তবে অস্ট্রেলিয়ার কাছে পাকিস্তানের পরাজয়টা ছিল কিছুটা বিস্ময়কর। কারণ ইমরান খানের দলটি ছিল বেশ শক্তিশালী। অসিদের দেওয়া ২৬৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১ ওভার বাকি থাকতে তারা অলআউট হয়ে যায় ২৫০ রানে। আরেক সেমিফাইনালে গ্রাহাম গুচ ও মাইক গ্যাটিংয়ের ব্যাটে চড়ে ভারতকে ২৫৫ রানের লক্ষ্য দেয় ইংল্যান্ড। তবে মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন ছাড়া আর কোনো ব্যাটসম্যান দায়িত্ব নিতে ব্যর্থ হলে ৩৫ রান দূরে থাকতেই অলআউট হয়ে যায় তারা। ফলে দুই স্বাগতিক প্রতিবেশীকে ছিটকে দিয়ে ফাইনালে চলে যায় অ্যাশেজ জুটি ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া।

পড়ুন তৃতীয় পর্ব: ক্যারিবীয় শ্রেষ্ঠত্ব গুঁড়িয়ে ভারতের ইতিহাস

কলকাতার ইডেন গার্ডেনে হয় বিশ্বকাপের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনাল। ডেভিড বুনের ৭৫ রানের ওপর ভর করে ৫ উইকেটে ২৫৩ রানের সংগ্রহ করে অস্ট্রেলিয়া। জবাবটা ভালোই দিচ্ছিল ইংল্যান্ড। গুচের ৩৫, বিল অ্যাথেইর ৫৮, অ্যালেন ল্যাম্বের ৪৫ ও মাইক গ্যাটিংয়ের ৪১ রানের ওপর ভর করে জয়ের দ্বারপ্রান্তেও চলে আসে দলটি। ৫ উইকেট হারিয়ে করে ফেলে ২১৮ রান। কিন্তু এরপর অসিদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে যায় ইংলিশদের। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপার স্বাদ পায় অস্ট্রেলিয়া।



টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক ইংল্যান্ডের গ্রাহাম গুচ। ৫৮.৮৭ গড়ে করেন ৪৭১ রান। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংসটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভিভ রিচার্ডসের। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে করেন ১৮১ রান। সর্বাধিক ২টি সেঞ্চুরি করেন অস্ট্রেলিয়ার জিওফ মার্শ। ৮ ম্যাচে ১৮টি উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টসেরা বোলার অস্ট্রেলিয়ার ক্রেইগ ম্যাকডরমেট। আসরের সেরা বোলিং ফিগারটিও তার। পাকিস্তানের বিপক্ষে মাত্র ৮৪ রানের খরচায় পান ৫ উইকেট। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক দেখে। নিউজিল্যান্ডের কেন রাদারফোর্ড, ইয়ান স্মিথ এবং ইয়ান চ্যাটফিল্ডকে আউট করে এ ইতিহাস গড়েন ভারতের চেতন শর্মা। সর্বোচ্চ ডিসমিসাল ভারতীয় উইকেটরক্ষক কিরন মোরের ১১টি।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২১ মে ২০১৯/পরাগ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন
       
Marcel Fridge