ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩ আশ্বিন ১৪২৬, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

১৯৯৯-২০১৯ বিশ্বকাপ, কতোটুকু পাল্টেছে ক্রিকেট?

ইয়াসিন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৫-২১ ৭:৫৬:২৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৫-২২ ১২:২৮:০৯ পিএম
১৯৯৯-২০১৯ বিশ্বকাপ, কতোটুকু পাল্টেছে ক্রিকেট?
Walton E-plaza

আর কিছুদিন পরেই শুরু হতে যাচ্ছে ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসর ওয়ানডে ক্রিকেট বিশ্বকাপ।  বিশ্বকাপের বারোতম আসর এবার বসবে ক্রিকেটের আতুরঘর ইংল্যান্ডে।  দীর্ঘ বিশ বছর ও চারটি আসর বিরতি দিয়ে ইংল্যান্ডে আবারো ফিরছে ওয়ানডে ক্রিকেট বিশ্বকাপ।

১৯৯৯ থেকে ২০১৯ বিশ্বকাপের মাঝের সময়টাতে কতটুকু বদলেছে ক্রিকেট? কতবার পাল্টেছে ক্রিকেটের নিয়ম-কানুন! দুই দশকে ক্রিকেটের বিভিন্ন পরিবর্তনের খবর জানাচ্ছে শেখ আল মুনিম শুভ। আজ পড়ুন প্রথম পর্ব।

*১৯৯৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের খেলাগুলো হয়েছিল একটি ডিউক বল দিয়ে (প্রতি ইনিংস)। সাথে ছিল ১৫ ওভার ফিল্ডিং সীমাবদ্ধতা এবং খেলা একদিনে শেষ না তা গড়াত নির্ধারিত ‘রিজার্ভ ডে’ তে ।  বিশ বছর পর ইংল্যান্ডে হতে যাওয়া এবারের বিশ্বকাপে প্রতি ইনিংস খেলা হবে দুটি কুকাবুরা বল দিয়ে।  সাথে রয়েছে তিন ধরনের ফিল্ডিং সীমাবদ্ধতা এবং ব্যাটসম্যানদের আম্পায়ারের সিদ্বান্ত পরিবর্তনের জন্য থাকছে চ্যালেঞ্জের সুযোগ।

কিছুটা কল্পনার সাগরে ডুব দিয়ে ভাবা যাক।

এই বিশ বছরে ক্রিকেট খেলার নিয়ম, ধরন সবকিছুতেই অনেক পরিবর্তন এসেছে।  যেমন ১৯৯৬ বিশ্বকাপের আগে নো বলে পেনাল্টি রান যোগ হত না, যা ছিল সুপারসাবের মতোই কায়দাবাজি! লাল বলে ত্রিশ ওভার বা তার বেশি সময় পর রং চলে যায় আবার রিভার্স সুইং নষ্ট হয়ে যায় শুরুতেই।  ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি এর একটা সমাধান বের করল।  ইনিংসের মধ্য ওভারের ভবিষ্যদ্বাণী আটকাতে প্রথম দশ ওভার হয়ে গেল মূল্যবান।  তারপর আসলো টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট যা পুরো মানসিকতা ও মনোভাব পরিবর্তন করে ফেলল ।  যার ফলে প্রতিটি দল ও খেলোয়াড় তাদের উপর আসা চ্যালেঞ্জের জন্য লড়েছিলেন।

* টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ফলে খেলায় টস একটি মারাত্মক প্রভাব ফেলল যার ছাপ পড়ে ওয়ানডে ক্রিকেটেও।  পঞ্চাশ ওভারের একটি ম্যাচ অনেক লম্বা সময় , টার্গেটে ব্যাটিং করার তুলনায় আগে ব্যাট করে যেকোন সময় ম্যাচের মোড় পাল্টে দিতে পারে।  হোক না তা দিবারাত্রির ম্যাচেও।

কাকতালীয় ব্যাপার হল ২০১৫ বিশ্বকাপের পরবর্তী সময় এবং ২০১৮ সালের শেষ সময়ের খেলাগুলোতে টার্গেট ম্যাচের তুলনায় প্রথমে ব্যাটিং ম্যাচ জয়ের পরিমাণ প্রায় সমান।  মজার বিষয় হল ২০০৩ ও ২০১৫ বিশ্বকাপে টার্গেটে ব্যাটিং করা ইনিংস একটু বাড়তি সুবিধা পেয়েছে , যা শেষের দিকে ভালোই হয়েছে ।  দিবারাত্রির ম্যাচগুলোতে টার্গেটে ব্যাটিং করার চেয়ে প্রথমে ব্যাট করা দল বেশিরভাগ সময় জিতেছে।

১৯৯৬-৯৮ সাল পর্যন্ত এর পরিমাণ ছিল ৬৭ % , ১৯৯৯-০২ এ তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৯% পর্যন্ত।  ২০০৩-০৬ এ ৭৮% , ২০০৭-১০ এ ৭৩%।  ২০১১-১৪ অনেকটা কমে ৬০% এ দাঁড়ায় , ২০১৫-১৮ তে হয়ে যায় ৬২%।  ২০০৩ বিশ্বকাপ থেকে ২০১৫ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দিনের খেলাগুলোতে দলগুলো ২৯.৬১% আগে ব্যাট করতে চাইতো , এবারের বিশ্বকাপের আগে পর্যন্ত দিবারাত্রির ম্যাচগুলোতে দলগুলো ৬১.৮৬% আগে ব্যাট করতে পছন্দ করত।

* ১৯৯৯ বিশ্বকাপের আগে ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া এমনসব খেলোয়াড় স্কোয়াডে নিত যাদের সামর্থ্য থাকত বাউন্ডারি মারতে।  ভারত , পাকিস্তান , দক্ষিণ আফ্রিকা , ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই ব্যাপারটা বুঝে উঠে অনেক পরে।  ১৯৯৮ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত খেলাগুলোতে ম্যাচ প্রতি সবচেয়ে বেশি বাউন্ডারি হয় ২০০৭ সালে, ছক্কা ১২টি এবং চার ৬৬টি। বলাবাহুল্য ২০০৭ সালেই প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

ম্যাচে দলের রান বৃদ্ধির মূল সহায়ক হচ্ছে ছক্কা।  ১৯৯৯ থেকে ২০০৩ বিশ্বকাপ পর্যন্ত প্রতি আটটি চারের বিপরীতে একটি ছক্কা থাকতো।  এখন একটি ছক্কা বাউন্ডারির বাইরে যায় পাঁচটি চারের বিপরীতে।  ১৯৯৯ থেকে ২০০৩ বিশ্বকাপ সময়ে ম্যাচ প্রতি চারের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় মাত্র ৩৫ থেকে ৪০টিতে । অপরদিকে ছক্কার সংখ্যা চারটি থেকে এর দ্বিগুন বা তারও বেশি হয়ে যায় ।

ছক্কা মেরে বাউন্ডারির বাইরে বল ফেলতে ক্রিকেট ইতিহাসে যে কয়জন হার্ডহিটার ব্যাটসম্যানের নামডাক রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন অলরাউন্ডার ল্যান্স ক্লুজনার।  বাউন্ডারির ব্যাপারে তিনি বলেছিলেন,‘বোলিং মেশিন থেকে একশোটি বল অনুশীলন করতে হয় ম্যাচে আমাকে একটি ছক্কা মারতে।  আমি বাসায় ফিরে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০টি বল ডেলিভারি প্র্যাকটিস করি।  আপনি টিভিতে দেখলেন ম্যাচে ক্লুজনার দুটি ছক্কা মেরেছে, কিন্তু আপনি কখনই দেখলেন না- জানলেন না যে ক্লুজনার দুদিন আগেই প্রায় ১০০০টি বল ডেলিভারি প্র্যাকটিস করেছে’।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২১ মে ২০১৯/ইয়াসিন

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন