ঢাকা, বুধবার, ২৮ কার্তিক ১৪২৬, ১৩ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

২৭ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে ফাইনালে ইংল্যান্ড

আবু হোসেন পরাগ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৭-১১ ১০:১৪:১৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৭-১২ ৭:৪৮:৩১ পিএম
জয়ের পর জো রুট ও এউইন মরগানের উল্লাস

আবু হোসেন পরাগ : ইংল্যান্ডের দারুণ বোলিং সামলে অস্ট্রেলিয়াকে লড়াই করার মতো পুঁজি এনে দিয়েছিলেন স্টিভেন স্মিথ। তবে বোলাররা গড়তে পারলেন না প্রতিদ্বন্দ্বিতাই। জেসন রয়ের ঝোড়ো ইনিংসে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের উড়িয়ে দিয়ে ইংল্যান্ড উঠে গেল ফাইনালে।

এজবাস্টনে বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ম্যাচটি ইংল্যান্ড জিতেছে ৮ উইকেটে। অস্ট্রেলিয়া আগে ব্যাট করতে নেমে ১৪ রানেই হারিয়েছিল ৩ উইকেট। সেখান থাকে তারা ২২৩ রানের পুঁজি পায় স্মিথের ৮৫ রানের দারুণ ইনিংসে। শতরানের উদ্বোধনী জুটির সুবাদে লক্ষ্যটা ইংল্যান্ড পেরিয়ে যায় ১০৭ বল হাতে রেখেই।

২৭ বছর পর ইংল্যান্ড উঠল বিশ্বকাপের ফাইনালে। যেখানে আগে থেকেই অপেক্ষা করছে নিউজিল্যান্ড। আগের দিন ভারতকে হারিয়ে কিউইরা নিশ্চিত করে টানা দ্বিতীয় ফাইনাল। আগামী রোববার লর্ডসে হবে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ। বিশ্বকাপ পেতে যাচ্ছে নতুন চ্যাম্পিয়ন, নিউজিল্যান্ড-ইংল্যান্ড কেউই যে এখনো বিশ্ব জয়ের স্বাদ পায়নি।

ইংল্যান্ড তাদের আগের তিন ফাইনালের সবশেষটি খেলেছিল ১৯৯২ সালে। এরপর তারা বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচই জিতল প্রথমবারের মতো। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া সাতবার সেমিফাইনাল খেলে হারল এই প্রথম। প্রথম পর্বে এই অস্ট্রেলিয়ার কাছেই বড় ব্যবধানে হেরেছিল ইংল্যান্ড। এবার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে ইংলিশরা নিল মধুর প্রতিশোধ।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ক্রিস ওকসকে প্রথম বলে চার মেরে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ডেভিড ওয়ার্নার। তবে পরের ওভারে জোফরা আর্চারের প্রথম বলেই গোল্ডেন ডাক মেরে ফেরেন অ্যারন ফিঞ্চ। ইন-সুইঙ্গারে এলবিডব্লিউ হওয়া ফিঞ্চ নষ্ট করেন একমাত্র রিভিউটাও।

ওয়ার্নারও টেকেননি এরপর। ওভার দ্য উইকেটে ওকসের অফ স্টাম্পের বাইরে কিছুটা বাড়তি বাউন্সে দ্বিতীয় স্লিপে জনি বেয়ারস্টোর হাতে ক্যাচ দেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। উসমান খাজার জায়গায় বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা পিটার হ্যান্ডসকম্ব ওকসের বলে প্লেড-অন হন আলগা শটে। সাত ওভারের মধ্যে তখন ১৪ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে অস্ট্রেলিয়া।

অসিরা প্রাথমিক বিপর্যয় সামলে ওঠে স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারির ব্যাটে। ক্যারির জন্য কাজটা যদিও সহজ ছিল না। আর্চারের বলে হেলমেটে আঘাত পেয়েছিলেন শুরুতেই। থুতনি কেটে বেরিয়েছিল রক্ত। ফিজিও এসে প্রথমে করে দেন ব্যান্ডেজ, পরে আবার মাথার পেছন দিয়ে পুরোটা ঢেকে দেওয়া হয় আরো মোটা ব্যান্ডেজে।

দুজনই শুরুতে খেলেছেন দেখেশুনে। এরপর বাড়িয়েছেন রান তোলার গতি। তাদের চতুর্থ উইকেট জুটি পঞ্চাশ পেরিয়ে স্পর্শ করে শতরান। এরপরই আবার জোড়া ধাক্কা। লেগ স্পিনার আদিল রশিদ পাঁচ বলের মধ্যে তুলে নেন দুই উইকেট।

লেগ স্পিনারকে মিড উইকেটের ওপর দিয়ে ছক্কায় উড়াতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ধরা পড়েন ক্যারি। ৭০ বলে ৪ চারে উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান করেন ৪৬ রান। ভাঙে ১০৩ রানের বড় জুটি। ব্যাট হাতে আরো একবার ব্যর্থ মার্কাস স্টয়নিস এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন দুই বলে ডাক মেরে।

জোড়া ধাক্কার মাঝেই স্মিথ তুলে নেন আরেকটি ফিফটি, ৭২ বলে। তাকে ভালোই সঙ্গ দিচ্ছিলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। দুই চার ও এক ছক্কায় ঝড় তোলার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু ইনিংস টেনে নিতে পারেননি। আর্চারের স্লোয়ারে কাভারে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ২৩ বলে ২২ রান করা ডানহাতি ব্যাটসম্যান।

রশিদ এরপর তুলে নিয়েছেন প্যাট কামিন্সকে। স্মিথ চালিয়ে গেছেন এরপরও। অষ্টম উইকেটে মিচেল স্টার্ককে নিয়ে গড়েন ৫১ রানের জুটি। ৪৮তম ওভারের শুরুতে জস বাটলারের সরাসরি থ্রোয়ে স্মিথের রান আউটে ভাঙে জুটি। ১১৯ বলে ৬ চারে ৮৫ রানের দারুণ ইনিংস খেলে স্মিথ ফেরার পরের বলে আউট হন স্টার্কও, ৩৬ বলে একটি করে চার ও ছক্কায় করেন ২৯ রান।

আর জেসন বেহরেনডর্ফকে বোল্ড করে এক ওভার বাকি থাকতেই অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস গুটিয়ে দেন মার্ক উড। ৬ রানের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়া হারায় শেষ ৩ উইকেট!

ওকস ৮ ওভারে ২০ রানে ও রশিদ ১০ ওভারে ৫৪ রানে নেন ৩টি করে উইকেট। আর্চার ১০ ওভারে ৩২ রানে নেন ২ উইকেট। একটি উইকেট উডের।

মাঝারি লক্ষ্য তাড়ায় ইংল্যান্ডের শুরুটা হয় দুর্দান্ত। রয় ও জনি বেয়ারস্টো শুরু করেন দেখেশুনে। বাজে বল পেলে পাঠান বাউন্ডারিতে। মিচেল স্টার্ক, জেসন বেহরেনডর্ফ প্রথম স্পেলে সুবিধা করতে পারেননি। পাওয়ার-প্লেতে ইংল্যান্ডের রান বিনা উইকেটে ৫০।

এরপর বাড়ে রান তোলার গতি। পরের পাঁচ ওভারেই আসে ৪৫ রান। জুটি ভাঙতে ১৬তম ওভারে পার্ট-টাইমার স্মিথকে আক্রমণে এনেছিলেন অ্যারন ফিঞ্চ। উল্টো স্মিথ খরচ করেন ২১ রান। তাকে টানা তিন ছক্কায় উড়ান রয়। যার শেষটি ছিল বিশাল।

বেয়ারস্টো একবার রান নিতে গিয়ে পিছলে পড়ে চোট পেয়েছিলেন গোড়ালিতে। এরপরও চালিয়ে গেছেন। ৪৩ বলে ৩৪ রান করা বেয়ারস্টোকে এলবিডব্লিউ করে ১২৪ রানের জুটি ভাঙেন স্টার্ক। এই উইকেট নিয়ে গ্লেন ম্যাকগ্রাকে (২৬) ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের এক আসরে সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়ার নতুন রেকর্ড গড়েন বাঁহাতি পেসার (২৭)।

ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে রয় এগোচ্ছিলেন সেঞ্চুরির দিকেই। কিন্তু আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনার ভুল সিদ্ধান্তে সেঞ্চুরিবঞ্চিত হন ডানহাতি ওপেনার। কামিন্সের লেগ সাইডের বাইরের শর্ট বল খেলতে গিয়ে মিস করেছিলেন রয়। কট বিহাইন্ডের আবেদনে অনেক দেরিতে হলেও আঙুল তুলে দেন ধর্মসেনা।

রয় নিতে চেয়েছিলেন রিভিউ, কিন্তু একমাত্র রিভিউটা আগেই নষ্ট করেছেন বেয়ারস্টো। আল্ট্রা-এজেও দেখা যায়, বল ব্যাট কিংবা গ্লাভসে লাগেনি! হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় ৬৫ বলে ৯ চার ও ৫ ছক্কায় ৮৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলা রয়কে।

তৃতীয় উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৭৯ রানের জুটিতে বাকি কাজটা সারেন জো রুট ও অধিনায়ক এউইন মরগান। উইনিং শটে বেহরেনডর্ফকে মিড অনের ওপর দিয়ে চার হাঁকিয়ে ৪৫ রানে অপরাজিত থাকেন অধিনায়ক। রুট অপরাজিত ছিলেন ৪৯ রানে।

২০ রানে ৩ উইকেট নেওয়ায় ম্যাচসেরা হয়েছেন এজবাস্টনের ঘরের ছেলে ওকস। তিনি যদি হয়ে থাকেন ইংল্যান্ডের জয়ের নায়ক, পার্শ্বনায়ক তাহলে রয়।  

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১১ জুলাই ২০১৯/পরাগ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন