ঢাকা, মঙ্গলবার, ২ আশ্বিন ১৪২৬, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

সিএমএইচে বধির রোগির চিকিৎসায় নতুন মাইলফলক

হাসান মাহামুদ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৫-০৯ ৭:২৬:৫৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৫-০৯ ৭:২৬:৫৪ পিএম
সিএমএইচে বধির রোগির চিকিৎসায় নতুন মাইলফলক
Walton E-plaza

সচিবালয় প্রতিবেদক : রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) বধির রোগিদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। হাসপাতালটিতে বধির রোগির শততম সফল কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট সার্জারি সম্পন্ন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বধিরতা বাংলাদেশে একটি বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সমস্যা। বিশ্বজুড়ে প্রতি দেড় হাজার জনের মধ্যে একজন শিশু বধিরতা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। সে হিসেবে বাংলাদেশে আনুমানিক ১৫ লাখ শিশু মারাত্বক ধরনের বধিরতায় ভুগছে। মাতৃত্বকালীন ইনফেকশন, হোম ডেলিভারি, নিকটতম আত্মীয়দের মধ্যে বিবাহ, টিউবারকুলাস মেনিনজাইটিস, নিওনেটাল জন্ডিস, পুষ্টিহীনতা, হরমোন ও জেনেটিক ডিসঅর্ডার বাংলাদেশে বধিরতার হারকে আরো ত্বরান্বিত করছে।

কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট একটি ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস যা মারাত্বক বা সম্পূর্ণ বধির ব্যক্তিকে সফল সার্জারির মাধ্যমে শব্দ শুনতে সহায়তা করে। সাধারণত ৮ বছরের নিচে সকল জন্মগত বধির ও বোবা এবং প্রাপ্ত বয়স্কদের মধ্যে যারা বিগত ১০ বছরের মধ্যে শ্রবনশক্তি হারিয়েছেন, তারা সবাই কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট সার্জারির মাধ্যমে শ্রবনশক্তি ফিরে পেতে পারেন।

বর্তমানে ঢাকা সিএমএইচ এ একটি বিদেশে প্রশিক্ষিত কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট টিম রয়েছে। ২০১১ সালের ১৭ নভেম্বর সর্বপ্রথম এই অত্যাধুনিক ও দূর্লভ সার্জারি ঢাকা সিএমএইচে সম্পন্ন হয়। গত ৫ মে কোনো ঝুঁকি বা জটিলতা ছাড়াই ১০০তম কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট সার্জারি ঢাকা সিএমএইচ এ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

উন্নত বিশ্বে এই সার্জারিতে ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকা খরচ হয়ে থাকে। সেনাবাহিনী প্রধানের বিশেষ নির্দেশনায় ও আগ্রহে ঢাকা সিএমএইচ এ নিজস্ব টিম দ্বারা কেবল মাত্র ডিভাইস মূল্য বাবদ আনুমানিক সাড়ে ৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়ে থাকে।

২০১৮-২০১৯ অর্থবছর থেকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে সিএমএইচে কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট কার্যক্রম চালু হয়েছে। সামরিক বাহিনীর রোগীদের পাশাপাশি সকল বেসামরিক রোগীদের জন্য এ সেবা উন্মুক্ত রয়েছে। ফলে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে শ্রবন প্রতিবন্ধীরা কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট সার্জারি মাধ্যমে শব্দহীন অন্ধকার জগত হতে শব্দময় আলোকিত জগতে প্রবেশ করবে। শ্রবন প্রতিবন্ধী শিশু ও ব্যক্তি প্রতিবন্ধকতা থেকে মুক্ত হয়ে সুদক্ষ ও সুনাগরিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সমাজ ও জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/৯ মে ২০১৯/হাসান/সাইফ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন
       
Marcel Fridge