ঢাকা, সোমবার, ৪ কার্তিক ১৪২৬, ২১ অক্টোবর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

বাজেট নিয়ে হাসান ইমামের প্রত্যাশা

রাহাত সাইফুল : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৬-১৩ ৫:৫২:০৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৬-১৪ ৮:৫৭:১৭ এএম

বিনোদন প্রতিবেদক: ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট আজ একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী। প্রস্তাবিত এই বাজেট নিয়ে দেশের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষেরও রয়েছে নানা প্রত্যাশা।

মুক্তিযোদ্ধা, অভিনেতা, আবৃত্তিকার, স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অগ্রণী ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম। তিনি এবারের বাজেট নিয়ে জনগণের উন্নতির প্রত্যাশা করেছেন। রাইজিংবিডিকে এ প্রবীণ অভিনেতা বলেন, ‘বাজেট নিয়ে আমার প্রত্যাশা একটাই তা হলো— জনগণের অবস্থার উন্নতি। আমি যেহেতু মুক্তিযুদ্ধ করেছি, আন্দোলন করেছি তাই সাধারণ মানুষের অবস্থার উন্নতির কথা আগে ভাবতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সাধারণ মানুষের উন্নয়ন বলতে শুধু অর্থনৈতিক নয়, মানসিকও। আধুনিক মনন মানসিকতা তৈরি করা। এই জায়গা থেকে চলচ্চিত্র প্রচার মাধ্যমের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই মাধ্যমটাকে সেইভাবে ব্যবহার করতে হবে। শুধু বিনোদনের জন্য ব্যবহার করে টাকা অপচয় করার মতো সামর্থ্য আমাদের নেই। সমাজ পরিবর্তনের জন্য যদি ব্যবহার করা হয়, তা হলে জনগণের অর্থ ব্যবহার করার পক্ষে। ধনী লোকদের বিনোদনের জন্য যদি টেলিভিশন ব্যবহার করা হয়। তা হলে ধনী লোকের পয়সায়-ই চলুক। সাধারণ জনগণের পয়সায় কেন চলবে?’

অর্থমন্ত্রী হিসেবে আ হ ম মুস্তফা কামালের এটি প্রথম বাজেট। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের টানা একাদশ বাজেট। এবার বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। দেশের ৪৮ বছরের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় বাজেট। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের চেয়ে আগামী বাজেট ১২ দশমিক ৬১ শতাংশ ও সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ১৮ দশমিক ২২ শতাংশ বড়। আগামী ৩০ জুন এই বাজেট পাস হবে। ১ জুলাই থেকে শুরু হবে নতুন অর্থবছর।

১৯৭১ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে হাসান ইমামকে আহ্বায়ক করে গঠিত হয় শিল্পীদের প্রতিবাদী সংগঠন বিক্ষুব্ধ শিল্পী সমাজ। যারা বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে পাকিস্তান বেতার ও টেলিভিশন অনুষ্ঠান বর্জন করেন। গণআন্দোলনের চাপে পাকিস্তান সরকার ৮ মার্চ বেতার ও টেলিভিশনের দায়িত্ব বিক্ষুব্ধ শিল্পী সমাজের হাতে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। ২৫ মার্চের পর হাসান ইমাম মুজিবনগরে চলে যান এবং মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়ে স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রের নাট্য বিভাগের প্রধানের দায়িত্বে নিযুক্ত হন। সৈয়দ হাসান ইমাম মুজিবনগর স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে সালেহ আহমেদ নামে বাংলা সংবাদ পাঠ করতেন। হাসান ইমাম ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সংবাদ পাঠ এবং নাট্য বিভাগের দায়িত্বভার বহন করেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় জহির রায়হানকে সভাপতি ও হাসান ইমামকে সাধারণ সম্পাদক করে মুজিবনগরে চলচ্চিত্র শিল্পী ও কলাকুশলী সমিতি গঠন করা হয়। যাদের উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র দলিল ‘লেট দেয়ার বি লাইট’ নির্মিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের পর বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠায় হাসান ইমাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৩ জুন ২০১৯/রাহাত/শান্ত

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন