ঢাকা, বুধবার, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২০ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

‘উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১১-০৯ ৩:৩০:৩২ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-০৯ ৬:১৮:৩৯ পিএম
ছবি : শাহিন ভূঁইয়া

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ‌্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি ওসামা তাসীর বলেছেন, গত এক দশকের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, মাথাপিছু আয় ‍বৃদ্ধি, দারিদ্রের হার ক্রমাগত হ্রাসের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

শনিবার রাজধানীতে ডিসিসিআই আয়োজিত ‘বেসরকারি খাতের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ চিত্র’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

ওসামা তাসীর বলেন, বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী পিপিপির ভিত্তিতে বাংলাদেশ পৃথিবীর ৩২তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ এবং নমিনাল হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান ৪৩তম। বর্তমানে পৃথিবীর দ্রুত অগ্রসরমান অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে একটি বাংলাদেশ, যার জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৮.১৩ শতাংশ। আমাদের অর্থনীতি কৃষিনির্ভরতা থেকে সরে এসে শিল্পনির্ভরতার দিকে এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সেবা খাতও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের বেশকিছু সাফল্য আছে, যেমন: খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে রোল মডেল হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, ৯৫ শতাংশ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা, দারিদ্র্যের হার ২১.৮ শতাংশে নামানোসহ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের সক্ষমতা অর্জন। বাংলাদেশের এ অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা স্বীকৃতি দিয়েছে। বর্তমান সরকার বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, পদ্মা বহুমুখী সেতু, মেট্রো রেল এবং মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বেশকিছু বৃহৎ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে, যা বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্য আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বেসরকারি খাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে, উল্লেখ করে ডিসিসিআইর সভাপতি বলেন, উক্ত বিষয়সমূহকে বিবেচনায় রেখে ডিসিসিআই বেসরকারি খাতের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন হিসেবে বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চালচিত্র, শক্তিমত্তা ও সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করে এবং উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, জাতীয় বাজেটে ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ঢাকা চেম্বার মনে করে, বাজেট ঘাটতি মেটাতে কর আহরণের আওতা বাড়ানোর ওপর আরো বেশি গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংকিং খাতের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো প্রয়োজন। বিদ্যমান করদাতাদের ওপর চাপ কমানোর জন্য এনবিআরকে অবশ্যই ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে নতুন নতুন করদাতাকে করের
আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

এছাড়া, গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ে বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করার জন্য এডিপি বাস্তবায়নকারী সব কর্মকর্তা/কর্মচারীকে বিশেষ প্রণোদনা দেয়া যেতে পারে। অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়াতে হবে। কারণ, জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়াতে অবকাঠামো সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এদিকে, মুদ্রানীতিতে পরিলক্ষিত হচ্ছে যে, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীদের সঞ্চয় জাতীয় সঞ্চয়পত্রের দিকে ধাবিত হওয়ার কারণে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সংকুচিত হয়েছে। এজন্য খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে করের আওতা বৃদ্ধি করা হলে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে এবং সরকারের ব্যাংক খাত থেকে ঋণ গ্রহণ প্রবণতা হ্রাস পাবে, যা বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

চলতি বছরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার ফলে খাদ্যের মূল্যস্ফীতিতে বেশ প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে আমাদের মূল্যস্ফীতি ৫.৫৪ শতাংশ। তাই বাজার পর্যবেক্ষণ বাড়ানোর পাশাপাশি পণ্যের পর্যাপ্ত যোগান নিশ্চিত করা আবশ্যক এবং একই সাথে সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় জ্বালানির যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করা খুবই জরুরি।

বেসরকারি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকার ২০২১ সালের মধ্যে সহজে ব্যবসা সূচকে ১০০তম অবস্থান নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। ২০২০ সালের রিপোর্টে সহজে ব্যবসা করার সূচকে ৮ ধাপ উন্নতি করে ১৬৮তম অবস্থান অর্জন করা উৎসাহব্যঞ্জক।

২০১৮ সালে বাংলাদেশে ৩.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ হয়েছে। গত ৬ বছর ধরে বেসরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ২২-২৩ শতাংশের মতো হচ্ছে। এক্ষেত্রে ঢাকা চেম্বার মানসম্পন্ন অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ, ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতিমালা সংস্কার ও করপোরেট করের গ্রহণযোগ্য হার নির্ধারণের আহ্বান জানাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ২০১৮-১৯ অর্থবছরে, আমাদের মোট পণ্য রপ্তানি ১০.৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪০.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। মোট রপ্তানির ৮৪ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে, যা বহুমুখী করা প্রয়োজন। তবে মূলত তৈরি পোশাকের রপ্তানি বৃদ্ধির ফলে আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি কমেছে ১৪.৮ শতাংশ। রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণে ও নতুন নতুন রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে আমাদের বিস্তৃত কৌশল অবলম্বন করতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য বিশেষ করে বন্দরসমূহে টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। অপরদিকে, শুল্কবিষয়ক প্রতিবন্ধকতা কমানোর জন্য আমাদের অর্থনৈতিক কূটনীতি আরো শক্তিশালী করতে হবে।


ঢাকা/নাসির/রফিক

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন