ঢাকা, বুধবার, ৬ ফাল্গুন ১৪২৬, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

'বেসিক ব্যাংকের টাকা বিভিন্ন দেশে পাচার'

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১২-০৮ ২:০৭:৩৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১২-০৮ ৮:৫০:৪০ পিএম
ছবি : শাহীন ভুঁইয়া

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, বেসিক ব্যাংকের দুর্নীতির টাকা মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে গেছে। তথ্য পাওয়া গেলে মামলাগুলোর চার্জশিট অনুমোদন দেয়া হবে।

রোববার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে রিপোর্টার্স এ্যাগেইনস্ট করাপশন (র‌্যাক) আয়োজিত মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘বেসিক ব্যাংকের মামলার চার্জশিট অনুমোদন চেয়ে কর্মকর্তারা প্রতিবেদন দিয়েছিল। কিন্তু টাকার শেষ গন্তব্য বের করা না যাওয়ায় অনুমোদন দেয়া হয়নি। বেসিক ব্যাংকের দুর্নীতির টাকা মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে গেছে বলে আমাদের কাছে তথ্য আছে। তা খতিয়ে দেখতে কয়েকটি দেশে এমএলআর (মিউচুয়াল লিগ্যাল অ‌্যাসিস্ট্যান্ট রিকোয়েস্ট) পাঠানো হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ওই সব দেশ থেকে তথ্য পাওয়া গেলে মামলাগুলোর চার্জশিটের অনুমোদন দেয়া হবে।’

২০০৯ সাল থেকে ২০১২ সালের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংকের গুলশান, দিলকুশা ও শান্তিনগর শাখা থেকে মোট সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা অনিয়মের মাধ্যমে ঋণ বিতরণের অভিযোগ ওঠার পর অনুসন্ধানে নামে দুদক।

ঋণপত্র যাচাই না করে জামানত ছাড়া, জাল দলিলে ভুয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দানসহ নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বিধি বহির্ভূতভাবে ঋণ অনুমোদনের অভিযোগ ওঠে ব্যাংকটির তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে।

প্রায় চার বছর অনুসন্ধান শেষে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা লোপাটের ঘটনায় ২০১৫ সালের ২১, ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর তিন দিনে টানা ৫৬টি মামলা হয়। রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন ও গুলশান থানায় এসব মামলায় আসামি করা হয় ১২০ জনকে।

এর মধ্যে ঋণ গ্রহীতা-৮২, ব্যাংকার-২৭ ও ভূমি জরীপকারী-১১। রাজধানীর গুলশান শাখায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা, শান্তিনগর শাখায় ৩৮৭ কোটি টাকা, প্রধান শাখায় প্রায় ২৪৮ কোটি টাকা এবং দিলকুশা শাখায় ১৩০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়। অভিযোগের বাকি অংশের অনুসন্ধান এখনো চলমান। এ ছাড়া বেসিক ব্যাংক সংক্রান্ত বিষয়ে আরো পৃথক চারটি মামলা করে দুদক।

দায়েরকৃত মামলাগুলোর তদন্তের দায়িত্ব পালন করছেন দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের তদন্ত টিম।


ঢাকা/এম এ রহমান/ইভা