ঢাকা, বুধবার, ২৫ চৈত্র ১৪২৬, ০৮ এপ্রিল ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

‘এক লাখ টাকা ফেরত পাবেন গ্রাহক’

হাসান মাহামুদ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৩-১১ ১০:১২:০৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৩-১৪ ৯:৪১:৫৬ পিএম

গ্রাহকের আমানত সুরক্ষা দিতে নতুন যে আইন করা হচ্ছে, তার খসড়ায় দেখা গেছে, কোনো ব্যাংক প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা অবসায়ন হলে, আগের মতোই সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা ফেরত পাবেন গ্রাহক।

‘আমানত সুরক্ষা আইন’—নামে নতুন এ আইনের প্রস্তাবনা তৈরি করে প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক আমানত বিমা আইন, ২০০০ রহিত করে নতুন আইনটির প্রস্তাব করা হয়েছে। খুব শিগগিরই আইনটি কার্যকর হবে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে ১০টি ধারা রাখা হয়েছে। আইনে ‘বিমাকৃত  আমানত’ বলতে ওই অংশকে বোঝানো হয়েছে, যার বিপরীতে যথা যথভাবে প্রিমিয়াম পরিশোধ হয়েছে। আইনে আমনত সুরক্ষা ট্রাষ্ট তহবিলের কথা বলা হয়েছে। প্রিমিয়াম প্রদানে ব্যর্থ হলে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। ‘তহবিল এর দায়’ বিষয়ক ৭(১) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসায়নের আদেশ হলে, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ওই অবসায়িত ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক আমানতকারীকে তার বিমাকৃত আমানতের সমপরিমাণ (যা সর্বাধিক ১ লাখ টাকা অথবা সরকারের পূর্ব অনুমোদনক্রমে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সময়ে সময়ে নির্ধারিত টাকার বেশি হবে না) তহবিল হতে দেবে। সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবনার ৭(২) ধারায় বলা হয়েছে, অবসায়িত ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কোনো আমানতকারীর একাধিক হিসাব থাকলে ওই হিসাবে যদি একত্রে এক লাখ টাকার বেশি স্থিতি থাকে, তবু তাকে সর্বাধিক এক লাখ টাকা কিংবা সরকারের পূর্ব অনুমোদনক্রমে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সময়ে সময়ে নির্ধারিত টাকার বেশি পরিশোধ করা হবে না। তবে এই রূপ পরিশোধ অবসায়িত ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিট সম্পদের নিট সম্পদের বিপরীতে লিকুইডেটর কর্তৃক  আমানতকারীদের দেওয়া অঙ্কের সাথে সমন্বয় করা হবে।

৭(৩) ধারায় বলা হয়েছে, ৯০ দিনের মধ্যে নির্ধারিত ছকে আমানতের তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে। ৭(৪) ধারায় বলা হয়েছে, এই সংক্রান্ত ট্রাস্টি বোর্ড আমানতকারীদের প্রাপ্য টাকা পরিশোধের ব্যবস্থা করবে।

আইন অনুসারে একজন আমানতকারীর যে পরিমাণ টাকায় জমা থাকুক না কেন, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান অপসায়িত হলে বা বন্ধ হলে আমানতকারী এক লাখ টাকাই পাবেন। অর্থাৎ লাখ টাকার ওপরে কোটি টাকা হলেও। আর ১ লাখ টাকার কম জমা থাকলে [৭(৫) ধারা অনুসারে] সরকার ঘাটতি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংক রেটে কর্জ করে তহবিলে প্রদান করবে। এছাড়া ৭(৬) ধারায় বলা হয়েছে, আমানতকারীর কাছে কোনো পাওনা থাকলে তা বাদ দিয়ে তার পাওনা নির্ধারণ করা হবে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন রাইজিংবিডিকে বলেন, আমানতকারীর সুরক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার বেশ কয়েক বছর এই বিষয়টির অনুপস্থিত ছিলো। ১৯৮৪ সালে প্রথম এ বিষয়ে একটি অধ্যাদেশ জারি হয়। পরে কয়েক দফা পরিবর্তনের পর এবার আবার সংশোধন আনা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এই উদ্যোগ সঞ্চয়কে অনুৎসাহিত করতে পারে। তবে সাধারণ আমানতকারীদের বিষয়টির পাশাপাশি বন্ধ হওয়া ব্যাংকগুলোর আমানতের বিষয়েও চিন্তা করা দরকার।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, আইনটি আগেও ছিল। এখন যেহেতু সংশোধন আনা হচ্ছে আইনে, তাই বর্তমান প্রেক্ষাপট কনসিডারেশনে আনা উচিত। যেমন—নতুন প্রস্তাবনা ক্ষুদ্র আমানতকারীদের উপকার করবে। কিন্তু একটি শ্রেণি কখনো বৃহৎ কোনো খাতকে রিপ্রেজেন্ট করে না। এর ফলে গ্রাহকদের মধ্যে অনাস্থা তৈরি হতে পারে।

প্রসঙ্গত, আমানত সুরক্ষা আইন আগেও ছিল। ১৯৮৪ সালের একটি অধ্যাদেশকে ২০০০ সালে ব্যাংক আমানত বিমা আইনে পরিণত করা হয়। পরে ২০১৭ সালে আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সংশোধিত আইনে কিছু ধারা-উপধারা সংযোজন করা হয়েছে।

আগেও কোনো আমানতকারীর এক লাখ টাকা জমা থাকলে তিনি পুরো অর্থই ফেরত পেতেন। তবে বেশি থাকলেও সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা দেওয়া হতো। নতুন প্রস্তাবনায়ও ব্যাংক প্রতিষ্ঠান অবসায়নের ক্ষেত্রে গ্রাহকের এক লাখ টাকাই ফেরত পাওয়ার কথা বলা আছে।


ঢাকা/হাসান/সাইফ