ঢাকা     শুক্রবার   ০৭ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২৩ ১৪২৭ ||  ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

জেল-জরিমানায়ও নিয়ন্ত্রণে আসছে না নিত্যপণ্যের দাম 

279 || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:০৩, ২৫ মার্চ ২০২০  

করোনার প্রাদুর্ভাবকে পুঁজি করে বাজারে নিত্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। ভোক্তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জেল-জরিমানা করার পরও পাইকারি ও খুচরাবাজারে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আসছে না। বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডি, জিগাতলা ও কলাবাগান এলাকার কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জিগাতলা বাজারে ক্রেতা হাবিবুল ইসলাম বলেন, ‘যে মিনিকেট চালের কেজি ১৫ দিন আগে ৪৮ টাকা দরে কিনেছি, সে চালই এখন ৫৬ টাকায় করে কিনতে হচ্ছে। পেঁয়াজ ৫৫ টাকা থেকে ৬০ টাকায় উঠেছে।’

ক্রেতার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে খুচরা চাল বিক্রেতা  প্রতিষ্ঠান ইসলাম ট্রেডিংয়ের মালিক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘পাইকারি বাজারে চাল বস্তা প্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেড়েছে। পাইকারি বাজারে দাম বাড়লে স্বাভাবিকভাবে খুচরা বাজারেও তার প্রভাব পড়বে।’

কয়েকজন চাল, পেঁয়াজ ও মসলা ব্যবসায়ীর সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, আড়তদাররা পণ্যের সংকট দেখিয়ে মূলত দাম বাড়িয়ে দেন। বড় ব্যবসায়ী হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করলেও তাদের কোনো সমস্যা হয় না। জরিমানার পর আবার সবকিছুর দাম বাড়িয়ে ক্ষতি পুষিয়ে নেন তারা। 

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-এর একটি সূত্র জানিয়েছে, বিশেষ পরিস্থিতিতে সব সময় র‌্যাব বাজার মনিটরিং করে। করোনার প্রাদুর্ভাব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অসাদু ব্যবসায়ীরা যেন ক্রেতাদের জিম্মি করে বাড়তি টাকা আদায় করতে না পারে, সে বিষয়েও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।  অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযানও পরিচালনা চলছে।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর থেকে বলা হচ্ছে, বাজারে পণ্যের তালিকা ও দামের তালিকা প্রতিটি দোকানে প্রদর্শন করতে ব্যবসায়ীদের বলা হয়েছে। তারা সেই নিয়ম না মানলে জরিমানা করা হচ্ছে। বাড়তি দামে কিছু বিক্রি করলে তাদের কেনার রশিদ দেখাতে বলা হচ্ছে। পাশাপাশি পাইকারি বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

এই প্রসঙ্গে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, ‘যেখানেই বাড়তি মূল্য বা সিন্ডিকেটের খবর পাচ্ছি, সেখানে অভিযান  পরিচালনা করছি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে জেল-জরিমানা করা হচ্ছে। এরপরও ব্যবসায়ী পণ্যে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।’ ক্রেতাদের স্বার্থে নিয়মিত বাজার মনিটরিং চলবে বলেও তিনি জানান।

 

ঢাকা/নূর/এনই

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়