ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ আষাঢ় ১৪২৭, ০৯ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

করোনা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করুন: অর্থমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৪-৩০ ৯:১৯:৪৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৪-৩০ ৯:১৯:৪৭ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রে অগ্রাধিকারযোগ্য বাজারে প্রবেশাধিকার এবং বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। একই সঙ্গে করোনা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সহায়তা চেয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার  (৩০ এপ্রিল) ঢাকায় নিযুক্ত  মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট আর্ল মিলারের সঙ্গে করোনা পরিস্থিতি এবং সহযোগিতা নিয়ে ফোনে আলাপচারিতায় এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।  অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য কর্মকর্তা গাজী তৌহিদুল ইসলামের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও করোনাভাইরাস আঘাত হেনেছে।  করোনার কারণে বিশ্বব্যাপী থমকে দাঁড়িয়েছে অর্থনীতি।  যা বিশ্বের সাম্প্রতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন।  এ মহামারির কারণে সব থেকে বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে এশিয়ার উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোর।  এ মুহূর্ত সবচেয়ে জরুরি মানুষের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্বল্প আয়ের মানুষের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বৃহত্তম রফতানি বাজার।  ২০১৩ সালে আমাদের জিএসপি সুবিধা স্থগিত হয়েছে এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা কাঠামো চুক্তি (টিকফা) স্বাক্ষরিত হয়, যদিও অগ্রাধিকারযোগ্য বাজারে প্রবেশের সমস্যা এখনও মীমাংসিত হয়নি। করোনার মহামারির প্রভাবে সৃষ্ট বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব কাটিয়ে উঠতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অগ্রাধিকারযোগ্য বাজারে প্রবেশাধিকার এবং বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে তিনি ধন্যবাদ জানান।  প্রকল্প সহায়তা, খাদ্য সহায়তা এবং পণ্য সহায়তা হিসাবে এ পর্যন্ত ৪.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার জন্য এবং করোনা প্রস্তুতি ও প্রতিক্রিয়াামূলক কর্মসূচিতে ৩.৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জরুরি সহায়তার জন্যও তিনি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে জরুরি সেবা কার্যক্রম ছাড়া সবকিছু বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।  এখন দেশের সিংহভাগ শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং কারখানা বন্ধ।  গণপরিবহন ও বিমান চলাচল স্থগিত।  করোনার প্রভাবে আমাদের আমদানি-রপ্তানির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে এবং স্থবিরতা নেমে এসেছে রেমিট্যান্স  প্রবাহে।  যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চালিকা শক্তি।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষ ও অর্থনীতির জন্য ১১.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন, যা জিডিপির ৩.৫ শতাংশ।  এই প্যাকেজের অর্থ ব্যয়ে জনসাধারণের ব্যয় বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষা জালকে প্রশস্ত করা এবং আর্থিক সরবরাহ বাড়ানোর ক্ষেত্রে জোর দেওয়া হয়েছে।  ক্ষতিগ্রস্ত  শিল্প, পরিষেবা খাত এবং কুটির শিল্পগুলিকে সুরক্ষার জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্যনির্বাহী মূলধনের বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করেন।

মিলার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ঘোষিত সময়োপযোগী আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। যুক্তরাষ্ট্র এই সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশের পাশে থাকবেন বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সমাজের ওপর করোনার বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা জোরদার, স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ করে স্বাস্থ্য পরিষেবা, সক্ষমতা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য সমর্থন বাড়ানোর অনুরোধ করেন। পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি প্রশস্ত করতে সমর্থন দেওয়া, উন্নয়নের ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে সক্ষম কৃষি যান্ত্রিকীকরণের অর্থায়নে সহায়তা; স্বাস্থ্য, শিক্ষা, দুর্যোগ ও মানবিক সহায়তা কর্মসূচির জন্য স্বল্প সুদে ঋণ সহায়তারও অনুরোধ করেন।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।  রাষ্ট্রদূত মিলার ইউএস এক্সিম ব্যাংকের নতুন পণ্য সম্পর্কে অবহিত করেন। এক বছরের জন্য প্রদত্ত এ সুবিধার আওতায় রয়েছে- সরাসরি ঋণ বা ঋণ গ্যারান্টি, সাপ্লাই চেইন অর্থায়ন গ্যারান্টি, কার্যনির্বাহী মূলধন গ্যারান্টি এবং প্রি-ডেলিভারি/প্রি-এক্সপোর্ঠ অর্থায়ন সুবিধা।


হাসনাত/সাইফ