ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০২ জুন ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

প্রবাসী আয়ে বিরূপ প্রভাবের আশঙ্কা

কূটনৈতিক প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৫-২০ ৮:২৯:৪১ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৫-২০ ৮:২৯:৪১ পিএম

করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দার ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় রেমিটেন্সে ২২ শতাংশ পতন হতে পারে বলে মন্তব্য করেছে জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।  সংস্থাটি বলছে, এটি বিরূপ প্রভাব ফেলবে বাংলাদেশের প্রবাসী ও রেমিট্যান্স নির্ভর জনগোষ্ঠীর ওপর।

বুধবার (২০ মে ) সংস্থাটির ঢাকা কার্যালয় থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্যমতে, প্রতি বছর প্রায় ৬ লাখ শ্রমিক বিদেশে উন্নত জীবন ও জীবিকার আশায় দেশ থেকে বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমায়।  ২০১৯ সালে বাংলাদেশে ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স আসে প্রবাসীদের মাধ্যমে।  আইওএম এবং এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান আশঙ্কা করছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় রেমিট্যান্সে অনুমেয় ২২ শতাংশ পতন বাংলাদেশের প্রবাসী ও রেমিট্যান্স নির্ভর জনগোষ্ঠীর ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে।

সংস্থাটি বলছে, আইওএম এবং বাস্তবায়নকারী সহযোগী সংস্থা বাংলাদশ রুরাল অ্যাডভান্সমেন্ট কমিটি (ব্র্যাক) ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন দেশসমূহ থেকে ফেরত আসা বিপদাপন্ন প্রবাসীদের সহায়তা প্রদানে কাজ করছে।  সংস্থাটি একই সাথে বিপদগ্রস্ত প্রবাসী, বিশেষ করে গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) দেশসমূহ থেকে ফেরত আসা প্রবাসীদের সহায়তার জন্য অতিরিক্ত অর্থায়ন নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে।  জিসিসি দেশসমূহে তেলের দাম কমে যাওয়ার পর বৃহৎ আকারে সেক্টরব্যাপী শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইউ) অর্থায়নে এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে আইওএম বিদেশে আটকে থাকা অভিবাসী এবং ইইউ দেশফেরত বিপদাপন্ন প্রবাসীদের সহায়তা দিচ্ছে।  আইওএম-এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত প্রবাসীদের জন্য একটি হটলাইন (+৮৮০৯৬১০১০২০৩০) খোলা হয়েছে।  হটলাইনে কলদাতাদের সহায়তা এবং কাউন্সেলিং সেবা প্রদান করা হচ্ছে। ওয়েবসাইটের (www.probashihelpline.com) মাধ্যমে প্রচারিত এই হটলাইনের মাধ্যমে সেবা নিচ্ছেন প্রবাসীরা।  মার্চ থেকে এই ওয়েবসাইট ও এর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং অ্যাপভিত্তিক কলের মধ্য দিয়ে এ পর্যন্ত সর্বমোট ১ লাখ ১১ হাজার ৪৭০ প্রবাসীদের কাছে পৌঁছানো গেছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন বলেন, অভিবাসীরা আমাদের জাতীয় উন্নয়নের প্রথম সারির সৈনিক।  মহামারি দ্বারা আক্রান্ত অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার। প্রবাসীদের সহায়তায় মন্ত্রণালয় অনেক উদ্যোগের সঙ্গে জড়িত।

সংস্থাটি আরো জানায়, মার্চ থেকে ইউ-এর অর্থায়নে পরিচালিত ১০টি পুনরেকত্রীকরণ সেবাকেন্দ্রের মাধ্যমে ৮০৬ জন ইউরোপীয় ইউনিয়ন দেশফেরত প্রবাসীদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।  দেশের ৬৪টি জেলা এই সেবা কেন্দ্রসমূহের আওতাভুক্ত।  বিদেশফেরত প্রবাসীদের তাৎক্ষণিক নগদ সহায়তা, দীর্ঘমেয়াদি পুনরেকত্রীকরণ সহায়তা, দক্ষতা প্রশিক্ষণ এবং মনোসামাজিক কাউন্সেলিং সহায়তা দেওয়া হবে।  এই সহযোগিতা বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংকটের মতো অভিঘাতমূলক ঘটনায় সংকটাপন্ন প্রবাসীদের মাঝে সহনশীলতা তৈরি করবে।

বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেনজি টেরিংক বলেন, করোনাভাইরাস মহামারি বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘমেয়াদে, বিশেষ করে প্রবাসীসহ সর্বোচ্চ বিপদাপন্ন জনগোষ্ঠীর ওপর এই মহামারির নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় সরকারদের সহায়তা করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রস্তুত।

আইওএম বাংলাদেশ-এর মিশন প্রধান গিওরগি গিগাওরি বলেন, বিভিন্ন দেশ বিধিনিষেধ শিথিল করলে এবং বিমানসংস্থাগুলো পুনরায় ফ্লাইট চালু করলে হাজার হাজার অভিবাসী বাংলাদেশে ফিরবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।  এদের মাঝে অনেক প্রবাসীর জন্যই এই স্বদেশফেরত সুখকর হবে না কারণ অনেকেই করোনা ও বৈশ্বিক মন্দার কারণে জীবিকা হারিয়েছেন। কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাব থেকে বৈশ্বিক শ্রমবাজার পুনরায় ঘুরে না দাঁড়ানো পর্যন্ত তাদের বিদেশে কাজে ফেরত যাওয়ার সম্ভাবনা কম। 


হাসান/সাইফ