ঢাকা, বুধবার, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৭ মে ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

বাড়িতে বসেই পড়বে শিশুরা, সহায়তা বাড়াচ্ছে ইউনিসেফ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৩-২৭ ৫:৪৯:৩৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৩-২৭ ৫:৪৯:৩৫ পিএম

করোনার কারণে দেশে দেশে স্কুল বন্ধ হয়ে বিশ্বের ৮০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে ইউনিসেফ। এজন্য শিশুদের বাড়িতে বসে লেখাপড়া অব্যাহত রাখতে সহায়তা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি। এর আওতায় স্কুলগুলোকে নিরাপদ রাখার পদক্ষেপও নেওয়া হবে।

ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি তোমো হোজুমি বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের শিশুদের ও স্কুলের কর্মচারীদের ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে স্কুলগুলোও বন্ধ করতে হয়েছে। এই নজিরবিহীন পরিস্থিতে শিশুরা যেন বাড়িতে বসেই বিকল্প শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে  পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারে সেই পদক্ষেপ নিতে হবে।’

হোজুমি আরও বলেন, ‘অন্যান্য দেশের জরুরি অবস্থার অভিজ্ঞতার থেকে দেখা যায়, শিশুরা যত বেশি সময় স্কুল থেকে দূরে থাকে, তাদের স্কুলে ফেরার সম্ভাবনা ততটাই কমে যায়। তাই এই ভাইরাস মোকাবিলায় শিশুদের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য বিকল্প পদ্ধতি তৈরি করা জরুরি হয়ে পড়েছে।’

ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে শিশুরা যেন যথাযথ সামাজিক দূরত্বে থাকে, সেজন্য টিভি, রেডিও, মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তাদের লেখাপড়া চালিয়ে যেতে সহযোগিতার লক্ষ্যে সরকারের সঙ্গে কাজ করবে ইউনিসেফ। এই উদ্যোগে শিশুদের লেখাপড়া হবে অংশগ্রহণমূলক। এতে অভিভাবককে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। পুরো বিষয়ের ওপর নজর রাখা হবে। একইসঙ্গে শিক্ষার অগ্রগতিও মূল্যায়ন করা হবে।

সরকারের তথ্য-প্রযুক্তি বিভাগের অধীনে অ্যাকসেস টু ইনফরমেশনের (এটুআই) মাধ্যমে শিশুদের লেখাপড়া অব্যাহত রাখাতে প্রাথমিকভাবে শিক্ষার ধারবাহিকতা বিষয়ক পরিকল্পনা তৈরি ও বাস্তবায়নে ইউনিসেফ ইতোমধ্যে এই সহযোগিতা শুরু করেছে ইউনিসেফ। এর আওতায় ধারণ করা ক্লাস সংসদ টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হবে। যার মাধ্যমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিশুরা ঘরে বসে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারবে।

১৪৫ দেশে ইউনিসেফ অংশীদারদের সঙ্গে নিচের কাজগুলো করবে -

১. সংকট মোকাবিলা পরিকল্পনায় কারিগরি সহযোগিতা, দ্রুত ঝুঁকি বিশ্লেষণ, তথ্য সংগ্রহ ও স্কুল পুনরায় চালুর পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

২. নিরাপদে স্কুল পরিচালনার পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নে সহায়তা দেওয়া হবে। অনুবাদ ও মুদ্রণের মতো গণযোগাযোগের কঠিন কাজগুলো করা, নিরাপদ বিদ্যালয় গাইডলাইন বিতরণ ও বাস্তবায়ন, স্কুলে হাইজিন উপকরণ ও সরঞ্জাম নিশ্চিত করা এবং রোগ প্রতিরোধ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রচারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের মনস্তাত্ত্বিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য শিক্ষক ও সেবাদানকারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

৩. শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখার জন্য অনলাইন, রেডিও ও টেলিভিশনভিত্তিক বিকল্প প্রোগ্রামের ডিজাইন করাসহ দূরবর্তী শিক্ষা কার্যক্রমে তাদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা হবে।

৪. বৈশ্বিক মহামারির বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় জ্ঞান বিনিময় ও সক্ষমতা তৈরি করা হবে। ভবিষ্যৎ মহামারি মোকাবেলা নিয়েও ধারণা দেওয়া হবে। 



ঢাকা/হাসান/এনই