ঢাকা, মঙ্গলবার, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬, ২৩ জুলাই ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

মেয়ের অভিভাবকত্ব পাওয়া জীবনের বড় অর্জন : বাঁধন

আমিনুল ইসলাম শান্ত : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০১-০১ ৮:১৩:৫১ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০২-১৭ ২:০৮:২৪ পিএম
মেয়ের অভিভাবকত্ব পাওয়া জীবনের বড় অর্জন : বাঁধন
Voice Control HD Smart LED

আমিনুল ইসলাম শান্ত : লাক্স তারকা ও ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। অভিনয় ক্যারিয়ারে অনেক দর্শকপ্রিয় নাটক-টেলিফিল্ম উপহার দিয়েছেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে গত বছরটি অনেক ঝড়ঝাপটার মধ্য দিয়ে পার করেছেন। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও অনেক প্রাপ্তি জমা পড়েছে তার ঝুলিতে। আবার নতুন বছরকে সামনে রেখে এঁকেছেন অনেক স্বপ্ন। এসব বিষয় নিয়ে রাইজিংবিডির সঙ্গে কথা বলেছেন বাঁধন। এ আলাপচারিতার বিশেষ অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।  

রাইজিংবিডি: প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি মিলিয়ে ২০১৮ সাল কেমন কাটল?
বাঁধন : আমার পুরো জীবনে অনেক পাওয়া না পাওয়াই আছে। যেমন-মেয়ের জন্মটা আমার জীবনে অনেক বড় প্রাপ্তি। অপ্রাপ্তির চেয়ে প্রাপ্তিই আমার জীবনে বেশি। প্রাপ্তির তালিকায় অনেক কিছু রয়েছে। তবে জীবনের এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ২০১৮ সালে অর্জন করেছি।

রাইজিংবিডি: ২০১৮ সালে আপনার সবচেয়ে বড় অর্জন কী?
বাঁধন : এ বছরের প্রাপ্তির কথা যদি বলেন কিংবা আমার জীবনের উল্লেখযোগ্য প্রাপ্তির কথা যদি বলেন সেক্ষেত্রে প্রধান হলো- মেয়ের অভিভাবকত্ব পাওয়া। যা ২০১৮ সালে আমি পেয়েছি। আমি মনে করি, একজন মানুষ হিসেবে, একজন নারী হিসেবে, একজন মা হিসেবে এটি আমার কাছে অনেক বড় অর্জন। এটা শুধু আমার নয়, অনেক নারী, অনেক মায়েরও প্রাপ্তি। আমার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের মায়েরাও এতে জয়ী হয়েছেন। অভিনয়ের বাইরেও আমার একটা জীবন আছে। আমি যখন বাইরে যাই তখন অনেক মায়েরাই আমাকে বলেন, ‘বাঁধন আপনাকে দেখে আমরা অনুপ্রাণিত হই। আপনি যেভাবে বাচ্চাটাকে আঁকড়ে ধরে আছেন, তা দেখে আমরা সাহস পাই।’

অনেকে ভাবতে পারেন, এই জয় একজন পুরুষের সঙ্গে একজন নারীর। একজন বাবার সঙ্গে একজন মায়ের। এই জায়গাটা পরিষ্কার করতে চাই। অভিভাবকত্ব নিয়ে আমার যে যুদ্ধ সেটা বাবা-মায়ের সঙ্গে ছিল না। একটা খারাপের সঙ্গে ভালোর যুদ্ধ ছিল। একজন সচেতন মা হিসেবে কখনো চাই না সন্তান তার বাবার আদর থেকে বঞ্চিত হোক। সে জায়গা থেকে আমার মেয়ে তার বাবার সঙ্গে নিয়মিত দেখা করেছে। এখনো দেখা করার সেই অনুমতি রয়েছে (কিন্তু গত এক বছরে সে মেয়েটির সঙ্গে একবারও দেখা করেনি। তাকে দেখা করার জন্য বলাও হয়েছে তবু সে মেয়েকে দেখতে আসেনি)। আমার মেয়ে যাতে বাবা-মায়ের ভালোবাসাটা ঠিকমতো পায় সেটা আমি সবসময় নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি। একটি শিশুর বেড়ে উঠার পেছনে তার বাবা-মা ও সমাজের একটা ভূমিকা রয়েছে। বিষয়টা এমন না যে, এটা একজনের পক্ষে সম্ভব। আমি মনে করি, বিবাহবিচ্ছেদ হলেও প্রতিটি বাবা-মায়ের উচিৎ সন্তানকে সমানভাবে ভালোবাসা। অথচ তিনি (প্রাক্তন স্বামী) তার নতুন স্ত্রীকে দিয়ে আমার সন্তানকে তার বাসায় আটকে দিয়েছিল। শুধু তাই না, মেয়েকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ারও পরিকল্পনা করেছিল। মেয়েটি বড় হলে সে নিয়ে যেতে পারত। মানে এসব কাজগুলো আরো স্বাভাবিকভাবে করা যেতো। তা না করে আমার নামে মিথ্যে চাঁদাবাজির মামলা পর্যন্ত দিয়েছিল। নানারকম হয়রানি করেছে। এজন্য আমি বলি, খারাপের সঙ্গে ভালোর একটি বিজয় হয়েছে। নারী হয়ে জয় পেয়ে একজন পুরুষকে দেখিয়ে দিলাম ব্যাপারটা কিন্তু তা নয়। এটাই আমি বার বার পরিষ্কার করতে চাচ্ছি।
 


রাইজিংবিডি: অভিনয় গুণে যশ-খ্যাতি পেয়েছেন। অভিনয়ের বাইরে এমন কোনো কাজ কী করেছেন যা মানুষের জন্য কল্যাণকর?
বাঁধন : প্রথমত বলব, আমি একজন দন্ত চিকিৎসক। যদিও আমার প্র্যাকটিস করা হয় না। কিন্তু আমি বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির একজন ইলেক্টেড মেম্বার। আমি স্বাচিপেরও মেম্বার। সমগ্র বাংলাদেশের ডেন্টিস্টদের নিয়ে গঠিত বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটি। ডেন্টিস্টদের ভোটে আমি এই সংগঠনের কমিটিতে আছি। এ সংগঠন থেকে বিভিন্ন সেবামূলক কাজ করা হয়ে থাকে। যেমন-বিভিন্ন ক্যাম্পেইন। এসব ক্যাম্পেইনে মানুষদের ফ্রি চিকিৎসা দেওয়া হয়। আমি এসবে অংশ নিই কিংবা সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। একজন ডেন্টিস্ট হিসেবে এসব আয়োজনে অংশ নিয়ে থাকি। এজন্য কোনোরকম টাকা নিই না। সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এসব কাজ করে থাকি।

মানুষের উপকার হয় এমন কাজ করার প্রবণতা বা ইচ্ছে আমার ভেতরে বদ্ধমূল। জ্ঞান হওয়ার পর আমার কথা বা কাজের দ্বারা কারো কোনো ক্ষতি হয়নি। আমি মনে করি, এটাও অনেক বড় একটি কাজ। কিছুদিন আগে আমি মরণোত্তর চক্ষু দান করেছি। আমার কর্ণিয়া যেন কোনো মেয়ে শিশুকে দান করা হয়, সে ইচ্ছের কথাও সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি। সম্প্রতি আরো একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। এটার ঘোষণা এখনো দেইনি, খুব শিগগির এ বিষয়ে ঘোষণা দিব। এ সংগঠন সমাজ সচেতনতামূলক কাজ করছে। দেশের অনেক বড় মাপের মানুষও এটার সঙ্গে যুক্ত আছেন।

আমার ব্যক্তিগত জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর আমি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রচুর ফোন কল পাই। অনেক কষ্ট করেই হয়তো তারা আমার ফোন নম্বর জোগাড় করছেন এবং আমার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। অনেক মেয়ে ফোন করে বলেন, ‘আপু আমারও এরকম অবস্থা আমি এখন কী করব?’ এ ধরনের ফোন কল আমাকে অনেক কষ্ট দেয়। কারণ এই সময়টা আমি পার করে এসেছি। আমি জানি, এই মেয়েটি এখন সমাজ, আইনজীবী, পরিবার থেকে কোন কোন সমস্যার মুখোমুখী হবেন। এজন্য মনে করছি, এই বিষয়টি নিয়ে আমার কাজ করা উচিৎ। বিশেষ করে বিবাহবিচ্ছেদের পর সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে। বাংলাদেশ ভালো না, নোংরা, এ দেশে থাকা যাবে না, কানাডা অনেক সুন্দর ইত্যাদি। এসব কথা বলে আমার মেয়ের ব্রেইন ওয়াশ করা হয়েছিল। অনেক অভিভাবকই এমনটা করে থাকেন। আসলে তারা হয়তো না বুঝে এমনটা করেন। আবার ভাবেন, ছোট মানুষ আজকে বলি একটু পরই হয়তো ভুলে যাবে। আবার অনেকে মামলার সুবিধার জন্যও করেন। আসলে এই চিন্তার পরিবর্তন দরকার। কিন্তু আইন দিয়ে এই পরিবর্তন সম্ভব হবে না। এটা চিন্তার পরিবর্তনের মাধ্যমে করতে হবে। চলতি বছর এই বিষয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
 


রাইজিংবিডি: ব্যক্তিগত জীবনে ২০১৯ সালে আপনার বিশেষ কোনো লক্ষ্য আছে কী, যা আপনি পূরণ করতে চান?
বাঁধন : একজন নারী হিসেবে বেড়ে উঠেছি। একজন সফল নারী হতে চেয়েছি। সমাজে সফল নারীর একটা ট্যাবু প্রচলিত আছে, যেটা খুবই ভয়ঙ্কর। একজন মানুষ হিসেবে যেই শিক্ষাটা আমাদের অনেক পিছিয়ে দেয়। আসলে আমি একজন ভালো মানুষ হতে চাই। ভালো মানুষ হওয়ার যে প্রক্রিয়াটা শুরু করেছি সেটা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চালিয়ে যেতে চাই।

রাইজিংবিডি: আর অভিনয় ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে….
বাঁধন : গত ৬-৭ মাস অনেক কাজের প্রস্তাব এসেছে কিন্তু করিনি। কারণ আমি আসলে ভালো কিছু কাজ করতে চাই। ২০১৯ সালে আমার ইচ্ছে- ভালো কিছু কাজ করার। আশা করছি, আমি করতে পারব ইনশাআল্লাহ। আমি প্রচুর কাজ করেছি কিন্তু উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো কাজ আসলে আমার নাই। যদি জিজ্ঞেস করেন, আপনার পছন্দের কাজ কি? তবে আমি একটা কাজের কথাও বলতে পারব না। কারণ এখন আমার কাজগুলো যখন দেখি- তখন মনে হয় আরো অনেক ভালো করা দরকার ছিল। আরো অনেক যত্ন নিয়ে কাজগুলো করা দরকার ছিল। চাইলে আরো ভালো করে চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে পারতাম। এ জায়গায় অনেক অপ্রাপ্তি রয়েছে। ২০১৯ সালে ভালো কাজ করার টার্গেট আছে।

রাইজিংবিডি: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
বাঁধন: আপনাকেও ধন্যবাদ।





রাইজিংবিডি/ঢাকা/১ জানুয়ারি ২০১৯/শান্ত/ফিরোজ

Walton AC
ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন
       

Walton AC
Marcel Fridge