ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৯ মে ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

এই সংকট সহসাই কাটবে না: সজল

আমিনুল ইসলাম শান্ত : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৪-২০ ১২:২১:৫৯ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৫-০৩ ৬:০৩:৫০ পিএম

দর্শকপ্রিয় অভিনেতা আব্দুন নূর সজল। বছর জুড়ে নানা ব্যস্ততা থাকলেও সব ব্যস্ততা যেন ছুটি নিয়েছে। মহামারি করোনা প্রকোপে থেমে গেছে সব কাজ। শুধু সজল নন, গোটা বিশ্বই আজ স্থবির হয়ে পড়েছে। এই ভাইরাস সংক্রমণ রোধে ঢাকা নগরী লকডাউন করা হয়েছে। অন্যদের মতো ঘরবন্দি জীবন কাটাচ্ছেন এই অভিনেতাও। এ পরিস্থিতিতে নানা বিষয় নিয়ে সজলের সঙ্গে কথা বলেছেন রাইজিংবিডির সহ-সম্পাদক আমিনুল ইসলাম শান্ত।

রাইজিংবিডি: এই দুর্যোগে কেমন আছেন?

সজল: জীবন বরাবরই যুদ্ধ। ঘরের জীবনও যুদ্ধের, বাইরের জীবন যুদ্ধের। এই পরিস্থিতিতে যার যার জায়গা থেকে সুস্থভাবে বেঁচে আছি এজন্য সবারই আলহামদুলিল্লাহ বলা উচিত। এই মুহূর্তে মাথার উপরে ছাদ, খাবারদাবারের ব্যবস্থা আছে—এটাই বড় পাওয়া। এটা যদি ঠিকঠাকমতো থাকে তবে স্রষ্টার কাছে সবারই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত।

রাইজিংবিডি: কীভাবে সময় পার করছেন?

সজল: গত ১৬ মার্চ থেকে ঘরবন্দি। দিনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৮-১০ ঘণ্টা তো ঘুমিয়েই কাটে। বাকি থাকে ১৪ ঘণ্টা। এই সময়টা কীভাবে কাটাবো তার একটা শিডিউল তৈরি করেছি। এতে করে সময়টা খারাপ কাটে না। বিরক্ত না হয়ে নিজেকে ঠিক রাখতে হবে, পরিবারের জন্য কিছু করতে হবে। আমিও সেটাই করছি। বাসার কাজ ভাগ করে নিয়েছি, রান্নাবান্নাও করছি। 

রাইজিংবিডি: আপনি কী কী রান্না করতে পারেন?

সজল: আমি রান্নাবান্নাটা তেমন পারি না। তবে ইউটিউব ঘেটে ঘেটে কিছু রান্না শিখেছি। খুব বেশি শেখা হয়নি। যেমন: শবেবরাতে সুজির হালুয়া তৈরি করেছিলাম। খেতে মোটামুটি হয়েছিল। আর প্রতিদিন আলু ভর্তা বানাতে বানাতে এটা এখন ভালো পারি। আলু-ডিম একসঙ্গে ভর্তা করার ফরম্যাট জানা ছিল না। এটাও শিখেছি। আসলে আমরা বাঙালি এবং বাঙালি খাবারই খুব তৃপ্তি নিয়ে খাচ্ছি। অনেক আয়েশি খাবার খাচ্ছি তা নয়। লকডাউনের আগেই মা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন—ঘরে খাবার মজুদ করবেন না। খুব সিম্পল খাবারই খাচ্ছি।

রাইজিংবিডি: এমন সময় করোনার প্রকোপ বাড়ে, যখন বৈশাখ ও দুই ঈদের কাজ নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত থাকেন। এখন সব কাজ বন্ধ। আপনার হাতে কতগুলো কাজ ছিল?

সজল: খুব কাজ হাতে নিয়েছিলাম সেটা বলব না। কারণ এখন এত বেশি কাজ করি না। ঈদের কিছু কাজ হাতে ছিল। সে অনুযায়ী সময়ও লক করা ছিল। আরো কিছু বিজ্ঞাপনের কাজ ছিল, এছাড়া আর কিছু শো ছিল। সর্বশেষ গত ১৫ মার্চ কাজ করেছি। এটি ২৬ মার্চের একটি নাটকের শুটিং ছিল। ২৬ মার্চের আরো একটি কাজের ডেট দেওয়া ছিল কিন্তু করা সম্ভব হয়নি।

রাইজিংবিডি: ঘরে বসেই গানের ভিডিওর কাজ করলেন…

সজল: বর্তমান সময়টা কঠিন। সবাই এক প্রকার ভয় পাচ্ছে, আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে সময় পার করছে। কিন্তু এখন বেশি প্রয়োজন সচেতনতা। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ছাড়া বিকল্প কোনো উপায় নেই। এজন্য ঘরে থাকা প্রয়োজন। আবার সবাই চাইলেও ঘরে বসে থাকতে পারছেন না। চিকিৎসক, প্রশাসনের লোকজন, সংবাদকর্মী, নিত্যপ্রয়োজনী জিনিসপত্রের যারা যোগান দিচ্ছেন, তারা চাইলেও ঘরে থাকতে পারছেন না। তারা সবাই আমাদের জন্য ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। এ অবস্থায় নিজেরা যদি নিজেদের দায়িত্বটা না বুঝি, তাহলে এই অবস্থা কাটিয়ে উঠা সম্ভব না। আমাদের দেশটি অনেক ঘনবসতিপূর্ণ। দেশে অনেক নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ আছেন। সচেতন নাহলে এই মানুষগুলোকে রক্ষা করা সম্ভব হবে না। এসব ভাবনা থেকে গানের ভিডিওতে কাজ করা। ঘরে বসেই এসব ভিডিওর কাজ করেছি। আরো একটি ভিডিওতে কাজ করব। এ বিষয়ে কাজ করতে যেই বলছেন, সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে যাচ্ছি। আমাদের জন্য যারা বাইরে কাজ করছেন তাদের জন্য একটি ভিডিও তৈরি করা হয়েছে। যে যার বাসায় বসে বাইরে থাকা এই মানুষগুলোকে স্যালুট জানিয়েছি। যারা এই ভালো কাজগুলো করছেন তাদের উৎসাহ দেওয়া উচিত, তাদের বুঝানো উচিত আপনারা যা করছেন তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। এজন্য ভিডিওগুলোতে কাজ করেছি।

রাইজিংবিডি: আপনি বেশ কিছু মানুষকে সহযোগিতা করেছেন। এ বিষয়ে আরো কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না?

সজল: এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। তবে এই সময়ে সবার সবার পাশে থাকা উচিত। যে যার মতো করে যতটুকু পারেন ততটুকুই করুন। এই সংকট তো সহসাই কাটবে না, এটা আরো দীর্ঘ হবে। এই সময়ে আশেপাশের মানুষদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা গেলেও যথেষ্ঠ। আর এটা দানের পর্যায়ে পড়ে না। নিজের পরিবারের পাঁচজনের দায়িত্ব যদি আমার হয়ে থাকে, তবে দেশের মানুষের প্রতি দায়িত্বটা তো অন্য কারো নয়। ‍নিজের দেশের মানুষের দায়িত্ব নিজেদেরই নেওয়া উচিত।

রাইজিংবিডি: করোনা দুর্যোগ আপনার মনে কী উপলদ্ধি করিয়েছে?

সজল: পরিবারের মানুষকে সময় দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, তা আমি নতুন করে উপলদ্ধি করতে পেরেছি। আর প্রকৃতির কাছ থেকে অনেক কিছু না বুঝে নিয়ে বড় হচ্ছি। আলো-বাতাস, পানি এসবের মধ্যেই তো বড় হয়ে উঠছি। কিন্তু আমরা বুঝিও না প্রকৃতির একটা অংশ ভোগ করছি। তার বদলে প্রকৃতিকে কতটুকু দিচ্ছি, সেটা ভাবি না। এই দেওয়া-নেওয়াটা সমান হওয়া উচিত। এই সময়টা হয়তো এমন হতো না, যদি নিজেরা আগে থেকেই সচেতন হতাম। এখনো ভালো মানুষ আছেন বলেই পৃথিবীটা টিকে আছে। প্রকৃতির প্রতি যদি দায়িত্বশীল থাকতাম তাহলে হয়তো এ ধরনের প্রকৃতি দেখতে হতো না। এটা আমার বিশ্বাস। যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন তার কাছেই আবার ফিরে যেতে হবে—এটা ভুলে গেলে চলবে না। যার যার ধর্ম অনুযায়ী ধর্মের চর্চাটা করা দরকার। মনে হয়, সে জায়গা থেকেও আমরা দূরে ছিলাম।

রাইজিংবিডি: এই মহামারি কেটে গেলে সমাজের কী কী পরিবর্তন হওয়া উচিত বলে মনে করেন?

সজল: আমার মনে হয়, আমাদের আরো বেশি ইতিবাচক হওয়া দরকার। আশেপাশে অনেক বেশি নেতিবাচকতা দেখি। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ফেসবুকে যে কোনো নেতিবাচক বিষয়ে অনেক লাইক কমেন্টস দেখা যায়, কিন্তু একটি ইতিবাচক বিষয়ে তা পাওয়া যায় না। এই ভাবনা থেকে বের হয়ে আসা উচিত। আমাদের চিন্তুাগুলো আরো ইতিবাচক হোক। কাউকে সহযোগিতা করলে, কেউ ছোট হয়ে যায় না। সবাই সবার পাশে থাকা, সবাইকে নিয়ে ইতিবাচক চিন্তা করা। যদিও আমরা কেউ-ই পারফেক্ট নই, পৃথিবীর কেউ-ই তা নন। সবার মধ্যে দোাষ-ত্রুটি আছে। এসব বাদ দিয়ে সবাই সবাইকে সম্মান করি, ভালোবাসি, সবার পাশে থাকি তাহলেই পৃথিবীটা সুন্দর হবে। এ পৃথিবী আবারো তার নিজস্ব রূপে ফিরে যাবে। করোনা পরবর্তী জীবনে এরকম ছোট ছোট পরিবর্তন গুলো হওয়া উচিত।

রাইজিংবিডি: এই দুঃসময়ে ভক্তদের জন্য কী বলবেন…

সজল: এই সময়ে মেডিসিন বলতে কিছু নেই। মেডিসিন একটাই, নিজে সচেতন থাকুন, সাবধানে থাকুন। কেউ বাইরে যাবেন না। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। এটা ভুলে গেলে চলবে না যে, আপনি আক্রান্ত হওয়া মানে ঘরের আরো পাঁচজন আক্রান্ত হওয়া। নিজে নিরাপদ থাকা মানে. নিজের পরিবারকে নিরাপদে রাখা। আপনার পাশের আরো পাঁচটা পরিবারকে নিরাপদে রাখা। তারা নিরাপদ মানে, একটা এলাকা নিরাপদ। এর চেয়ে বড় কোনো কিছু এখন আর নাই। সাবাই সচেতন হয়ে নিজের যত্ন নিন। এই সময়টা বেশি দীর্ঘ না, এ আঁধার কেটে যাবে। আবার সুন্দর দিন আসবে। এজন্য দরকার সচেতন সচেতন এবং সচেতন হওয়া।



ঢাকা/শান্ত