ঢাকা, সোমবার, ২৯ আষাঢ় ১৪২৭, ১৩ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

‘রোমান্টিক সিনে মাস্ক পরে নিলেই হবে!’

রাহাত সাইফুল : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৫-২৬ ৮:৫৯:১৭ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৬-০৩ ৫:৪৪:০৪ পিএম

অনন্ত জলিল। চিত্রনায়ক, প্রযোজক। তার আরেকটি বড় পরিচয় তিনি পেশাকশিল্প ব্যবসায়ী। চলচ্চিত্রে এমনিতেই মন্দা হাওয়া বইছে। মরার উপর খাঁড়ার ঘা এই করোনাকাল। একইসঙ্গে করোনাসৃষ্ট সংকট দেশের পোশাক শিল্পেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। কী ভাবছেন অনন্ত জলিল? কীভাবে কাটিয়ে ওঠা যাবে এই সংকট? লকডাউনেই কি সমাধান? রাইজিংবিডির সিনিয়র বিনোদন প্রতিবেদক রাহাত সাইফুলকে অনন্ত জলিল জানিয়েছেন তার ভাবনা।

রাহাত সাইফুল: চলচ্চিত্র নয়, দেশের পোশাক শিল্প দিয়ে শুরু করি। করোনাকালীন এই ক্ষতি কীভাবে কাটিয়ে ওঠা যাবে বলে মনে করেন?
অনন্ত জলিল: গার্মেন্টস শিল্পের যে ক্ষতি হয়ে গেছে সেটা আর কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। এটি এমন একটি শিল্প যে, তৈরি করা অর্থাৎ মেশিন ঘোরা মানেই তৈরি হওয়া। যেহেতু মেশিন ঘোরেনি তাই এই সময়ে পোশাকও তৈরি হয়নি। সুতরাং এই সময়ের ক্ষতি আর কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে না। তাছাড়া, সামনে অর্ডারও অনেক কম আসবে। ফলে এক্সপোর্ট টার্গেট পূরণ করা সম্ভব হবে না। এমনিতেই এখন বিদেশের সব অর্ডার হোল্ড করা আছে। অনেক অর্ডার বাতিল হয়ে গেছে। এ জন্যই বলছি, এ বছর পোশাক শিল্পের যে ক্ষতি হলো বা সামনে আরো হবে। আগামী তিন-চার বছরেও ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা যাবে না।

রাহাত সাইফুল: তার উপর দীর্ঘ লকডাউন; যদিও বিকল্প আমাদের হাতে নেই। লকডাউন কতটা প্রভাব ফেলছে?
অনন্ত জলিল: আমার মনে হয় না, লকডাউন আরো বাড়ালে ভালো হবে। কারণ এ দেশের মানুষ যুদ্ধ করে ছিনিয়ে আনতে জানে। তারা যে কোনো দুর্যোগে টিকে থাকার মন্ত্র জানে। মনের শক্তি দিয়ে, সতর্ক থেকে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। ইউরোপ, আমেরিকা, বিশ্বের বড় বড় দেশগুলো এরই মধ্যে লকডাউন তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কবে না-কবে করোনাভাইরাস যাবে, সেই আশায় বসে থাকলে বিরাট ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। এতো দিন লকডাউন দিয়ে রাখলে দেশের অর্থনীতিরও অনেক ক্ষতি হবে। মানুষ না খেয়ে মারা যাবে। মানুষকে অভ্যাস করতে হবে; সচেতনতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। করোনা যুদ্ধে জয়ী হতে হবে।

রাহাত সাইফুল: গার্মেন্টস মালিকদের বিরুদ্ধে শ্র‌মিকদের অনেক অভিযোগ। আপ‌নি বিষয়টিকে কীভাবে দেখেন?
অনন্ত জলিল: এটা যুগ যুগ ধরেই চলে আসছে। তারপরও মালিক-শ্রমিক একসঙ্গে কাজ করছে। এই অভিযোগের কারণে কর্মসংস্থান বন্ধ হয়নি। হবেও না। একটা প্রতিষ্ঠান দাঁড় করানো যে কতটা কঠিন, এটা যিনি করেন একমাত্র তিনিই বুঝতে পারেন। তার শ্রম-ঘাম-স্বপ্ন সেখানে লেগে থাকে। ফলে মালিক কখনও চাইবে না তার প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হোক। অন্যদিকে শ্রমিকদের একটাই চিন্তা মাস গেলে বেতন নেবে। কিন্তু মাস গেলে প্রতিষ্ঠানের কত আয় হলো একজন শ্রমিক কখনও তা ভাবার প্রয়োজন বোধ করে না। মালিকরা কর্মসংস্থান তৈরি করে না দিলে, শ্রমিকও থাকতো না, তাদের এতো অভিযোও থাকতো না। বিষয়টিকে আমি স্বামী-স্ত্রীর সমস্যার মতো মনে করি। ঘরে অশান্তি থাকবে, আবার সুখও থাকবে। সংসারে সেভাবেই মিলেমিশে থাকতে হবে। মালিক-শ্রমিকের সম্পর্ক হলো স্বামী-স্ত্রীর মতো।

রাহাত সাইফুল: বছরঘুরে আবার ঈদ এলো। ঈদের কোন স্মৃতি সবার আগে মনে পড়ে?
অনন্ত জলিল: ছোটবেলা সালামি পেতাম, এখন পাই না।

রাহাত সাইফুল: অনেকেই মনে করেন আপনি নিয়মিত প্রযোজনায় এলে চলচ্চিত্র শিল্প ঘুরে দাঁড়াতো। আপ‌নি কী মনে করেন?
অনন্ত জলিল: ভালো চলচ্চিত্র ছাড়া চলচ্চিত্র ঘুরে দাঁড়াবে না। ভালো প্রযোজক যদি ভালো সিনেমা না-বানায়, তাহলে চলচ্চিত্র ঘুরে দাঁড়াবে না। তার প্রমাণ গত পাঁচ-ছয় বছর আগেও দেখা গেছে। তখন ৪৫০টি সিনেমা হল ছিলো এখন ৫০-৬০টা সিনেমা হলে এসে ঠেকেছে। আমি মনে করি, ভালো প্রযোজকদের এগিয়ে আসা উচিত। 

রাহাত সাইফুল: আমাদের চল‌চ্চি‌ত্রের মূল সংকট কোথায়?
অনন্ত জলিল: আমাদের চলচ্চিত্রের মূল সংকট হলো কাজের চেয়ে বেশি গল্প করা। নিজেদের মধ্যে দলাদলি করা। কাজ না করে শুধু দলাদলি করা। চলচ্চিত্রে গসিপ করাই হচ্ছে মূল সংকট।

রাহাত সাইফুল: নায়ক-নায়িকা সংকটও আছে। বর্ষা ছাড়া অন্য নায়িকার সঙ্গে আপনাকে দেখা যায়নি!
অনন্ত জলিল: বর্ষাকেও তো অন্য নায়কের সঙ্গে দেখা যায়নি। তাই আমাকেও দেখা যায়নি।

রাহাত সাইফুল: করোনা অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাস। ইতোমধ্যেই এই সময়ে চলচ্চিত্রে রোমান্টিক দৃশ্যে অভিনয় করা নিয়ে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে...
অনন্ত জলিল: সমস্যা কী? (হাসতে হাসতে) রোমান্টিক সিনে মাস্ক পরে নিলেই হবে!

 

ঢাকা/তারা