ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৬ মে ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

উদ্যোক্তার খাতায় আসমা-রুমকি

ইকবাল হাসান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৪-১৩ ৫:০৭:২০ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৪-১৩ ৫:০৭:২০ পিএম
আসমা আক্তার মুক্তা ও জান্নাতুল কাউসার রুমকি

মানব সৃষ্টির গোড়ার দিকে নারীরাই পরিবারের অর্থের যোগান দিত। একটা সময় নারীদের এই রীতি পুরুষ জাতি লুফে নিলো। যুগের তালে তালে নারীরাও আবার ঘরের বাইরে গিয়ে পুরুষের পাশাপাশি কাজে অংশগ্রহণ করছে। কিছুদিন আগেও নারীকে ঘরের কাজেই শুধু নিয়োজিত থাকতে হতো, সেই নারীই আজ ঘরের বাইরে বের হয়ে তার ইচ্ছা মতো কাজ করছে। আমাদের আশেপাশে খোঁজ নিলে দেখা মিলবে এমন হাজারো নারী।

এরা শুধু ঘরের বাইরে গিয়েই কাজ করবে, কিংবা শুধু চাকরিই করবে ব্যাপারটা এরকম নয়। অন্য আর দশটা উদ্যোক্তার মতো নারীরাও উদ্যোক্তার খাতায় নাম লিখিয়েছেন। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন দু’জন নারী শিক্ষার্থীর কথা বলবো, যারা পড়ালেখার পাশাপাশি উদ্যোক্তা হয়ে কাজ করছেন। 

তারা হলেন- কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আসমা আক্তার মুক্তা এবং জান্নাতুল কাউসার রুমকি। একজন পড়ছেন নৃবিজ্ঞান বিভাগে এবং অন্যজন পরিসংখ্যানে। দু’জনে তাদের প্রতিষ্ঠান ‘শ্বেতপদ্ম’ ও ‘আয়নাঘর’ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

এদের দু’জনের কাজটাও অনেকটা একই। মেয়েদের সাজসজ্জার নানা রকম জিনিস হচ্ছে তাদের ব্যবসার পণ্য। যেমন: মালা, কানের দুল, পায়েল, খোঁপার কাঁটা, টিপ, কানের দুল, চুড়ি, কালার টিপ, ব্রেসলেট ইত্যাদি।

২০১৯ সালের এপ্রিলে পহেলা বৈশাখের আগে ‘শ্বেতপদ্ম’ নামে ফেসবুক পেজে শখের বসে অর্নামেন্টসের কাজ শুরু করেন আসমা, আর অন্যদিকে ছোটবেলা থেকে আঁকাআঁকির অভ্যাস ছিল রুমকির। ফলে, সেখান থেকেই তার মনে হয়েছে সে অর্নামেন্টস তৈরি করতে পারবে। তাই, ২০১৭ সালের ৩ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে রুমকি শুরু করেন ‘আয়নাঘর’ নামক প্রতিষ্ঠানটি।

একাডেমিক পড়ালেখার চাপ থাকা সত্ত্বেও সঠিক পরিকল্পনা আর অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে তারা এগিয়ে চলছেন। দু’জনকে তাদের ভবিষ্যৎ কর্ম পরিকল্পনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, আসমা আক্তার মুক্তা বলেন, ‘বর্তমানে অর্নামেন্টসের পাশাপাশি শাড়ি, টি-শার্ট, ড্রেস ইত্যাদি হ্যান্ড পেইন্ট করি। সামনে আরো বড় করে নিজের ডিজাইনে জামাকাপড় তৈরি করার ইচ্ছা আছে। তাছাড়া, এই কাজে যাতে আগ্রহী নারীরা যুক্ত হতে পারেন সে চেষ্টা করছি।’

অন্যদিকে জান্নাতুল কাউসার রুমকি বলেন, ‘আয়নাঘর এখন অনলাইন নির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হলেও, ভবিষ্যতে সেটিকে আউটলেট হিসেবে আনার পরিকল্পনা আছে। সেখানে মূলত কাজ করার সুযোগ পাবেন, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যিলয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা, অসহায় নারীরা।’

সময়ের চাহিদায় এখন সবাই চাকরির দিকে ছুটলেও মুক্তা, রুমকির মতো কিছু দলছুট মানুষ উদ্যোক্তা হওয়ার পথে ছুটছেন। যারা নতুন উদ্যোক্তা হওয়ার ইচ্ছা করছেন, তাদের প্রতি দু’জনের পরামর্শ হলো, আপনি কাজটা যদি শুরু করেন, তাহলে ধৈর্য সহকারে শেষ করার চেষ্টা করবেন, মাঝ পথে এসে থেমে থাকা যাবে না এবং অবশ্যই নিজ কাজের প্রতি ভালোবাসা থাকতে হবে, নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকতে হবে, সুযোগ আসলে সেটি কাজে লাগাতে হবে।

দেশে বেকার বাড়ছে ক্রমাগত। শুধু চাকরির চিন্তা করলে সবাইকে চাকরি দেওয়া যাবে না। এগিয়ে আসতে হবে তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে। আসমা-রুমকির মতো উদ্যোক্তাদের হাত ধরে আমরা নতুন বাংলাদেশ দেখতে পাব সেই প্রত্যাশা।

লেখক: শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।



কুবি/ হাকিম মাহি