ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

‘পাঠকদের সারা বছর বইয়ের সঙ্গে থাকতে হবে’

সাইফ বরকতুল্লাহ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৭-০২-০৬ ৯:১৯:০৫ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০২-০৬ ৯:৩০:২১ এএম
রাইজিংবিডির স্টলে তাশরিক-ই-হাবিব (ছবি : সাইফ রাজু)

তাশরিক-ই-হাবিব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। এর আগে ময়মনসিংহের (ত্রিশাল) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ‘বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছোটগল্পে প্রান্তজনের জীবনচিত্র’ শীর্ষক অভিসন্দর্ভের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১২ সালে এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেন। এবারের বইমেলায় তার বেশ কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে রাইজিংবিডি ডটকমের স্টলে আসেন। এ সময় কথা হয় বই, বইমেলা ও সাহিত্যের নানা বিষয় নিয়ে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাইফ বরকতুল্লাহ

রাইজিংবিডি : এবারের বইমেলায় আপনার কী কী বই এসেছে?
তাশরিক-ই-হাবিব : এবার আমার চারটি বই প্রকাশিত হয়েছে। পান্নাবিবি, বিকল্প পাখির গান, গল্পকথন ও গদ্য শিল্পবিষয়ক।

রাইজিংবিডি : আপনার লেখার বিষয়বস্তু কী?
তাশরিক-ই-হাবিব : সমকালীন নাগরিক জীবনের নানা আখ্যান লেখা তুলে আনার চেষ্টা করি। সামাজিক সম্পর্ক, লোকজ সংস্কৃতি, প্রেম- এ বিষয়গুলোই মূলত উপাদান হিসেবে চিত্রায়ন করার চেষ্টা করি।

রাইজিংবিডি : প্রতিবছরই বইমেলা হচ্ছে। একটি অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায় লেখক-প্রকাশক সম্পর্ক নিয়ে টানাপোড়নের কথা। আপনার মতামত কী?
তাশরিক-ই-হাবিব : হ্যাঁ, এরকম কথা শোনা যায়। নবীণ লেখকেরা বই বের করতে গেলে কিছুটা সমস্যায় পড়েন, এটা যেমন সত্য, তেমনি নবীনরা যদি ভালো পাণ্ডুলিপি প্রকাশকদের দেন তাহলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবে আমি বলব, দুইপক্ষের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া হলে এ সমস্যা থাকবে না।



রাইজিংবিডি : বই সম্পাদনা নিয়ে চারিদিকে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?
তাশরিক-ই-হাবিব : এক কথায় বলব, ভালো সম্পাদনা জরুরি। সে সঙ্গে লেখকেরও একটা দায়িত্ব আছে।

রাইজিংবিডি : বইমেলা এলেই বই উৎসব, প্রচুর বই প্রকাশিত হয়। কিন্তু বছরের অন্য সময়গুলোতে বই নিয়ে এত মাতামাতি হয় না। আপনার ভাবনা কী?
তাশরিক-ই-হাবিব : বাংলাদেশের মানুষের জীবনের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে বইমেলা। পাঠকেরা যদি সারা বছর বইয়ের সঙ্গে থাকেন তাহলে এ সমস্যা হবে না। এখন তো ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় বইমেলা হচ্ছে। আমি বলব, পাঠকদের বইয়ের সঙ্গে থাকতে হবে। বই পড়তে হবে।

রাইজিংবিডি : আপনি তো গল্প লিখছেন, গবেষণা করছেন, প্রবন্ধ লিখছেন। আপনার গল্পের মূল উপজীব্য কী?
তাশরিক-ই-হাবিব : সমাজের নানা বিষয় থাকে। সমাজ, বাস্তবতা, নাগরিক জীবন, মানুষের নিত্যদিনের জীবনচিত্র। নগর জীবনের দুর্বিষহ বাস্তবতার শৃঙ্খলে বিপর্যস্ত চরিত্রগুলো যে আমাদেরই পরিচিতজন, তা ক্রমশ পাঠকের উপলব্ধিতে মূর্তময় হয়। ব্যক্তি মানুষের মনোলোকের স্বরূপ উপস্থাপন করার চেষ্টা করছি।



রাইজিংবিডি : আপনার ভরদুপুরে গল্পটা ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছিল। এ বিষয়ে  যদি কিছু বলেন?
তাশরিক-ই-হাবিব : ‘ভরদুপুরে ও অন্যান্য গল্প’ এটি আমার প্রথম গল্পগ্রন্থ। মিজান পাবলিশার্স থেকে ২০১৫ সালে প্রকাশিত হয়েছে। এখানে ‘ভরদুপুরে’, ‘জুলেখার দিনকাল’, ‘গোলকধাঁধা’, ‘কবিযশোপ্রার্থী’, ‘লেনদেন’ এ পাঁচটি গল্প রয়েছে। সবগুলো গল্পই ঢাকা নগরীর প্রেক্ষাপটে লেখা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ছাত্রী হল, শিক্ষকদের আবাসিক এলাকা, শাহবাগের ফুলের দোকান, জাদুঘর, পাবলিক লাইব্রেরি, চারুকলা ইনস্টিটিউট, নিউমার্কেট, মগবাজার, হাইকোর্ট, রমনা পার্ক, পুরাতন ঢাকা, বাংলা একাডেমি প্রভৃতি স্থানের প্রাসঙ্গিক উপস্থাপনা গল্পগুলোতে রয়েছে। গল্পের চরিত্রগুলো মহানাগরিক বিচিত্র জীবন থেকে আহরিত।

রাইজিংবিডি : এবার আপনার উপন্যাস বের হলো পান্নাবিবি। পান্নাবিবি নামটা কেন দিলেন?
তাশরিক-ই-হাবিব : এই নভেলের প্রধান চরিত্র একটি বিড়াল। এর নাম পান্না। এর চোখ সবুজ। এই বিড়ালকে হাসিব পান্না নামে ডাকে। সুন্দরী শিক্ষিত স্ত্রী কেয়ার সঙ্গে তার প্রেমময় সম্পর্কে বিড়ালটি ফাটল ধরিয়ে দেয়। নীরব রাতের অন্ধকারে একটি শিশুর কান্নাকে বিড়ালের আর্তনাদ বলে ওদের মনে হয়। কেয়া কখনো কখনো টের পায়। তার পেছনে একজোড়া জ্বলন্ত চোখ সতর্কভাবে লক্ষ্য রাখছে। হাসিবই বা কেন বালিশের নিচে ধারালো ছুরি লুকিয়ে রাখে? প্যারাসাইকোলজি নিয়ে লেখা এ বইয়ে মানবমনস্তত্ত্বের রহস্যময় ভুবন ফুটে উঠেছে।

রাইজিংবিডি : লেখালেখি নিয়ে আপনার পরিকল্পনা?
তাশরিক-ই-হাবিব : বর্ণনামূলক উত্তর আধুনিকতাবাদ নিয়ে লেখার চেষ্টা করব।

রাইজিংবিডি: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
তাশরিক-ই-হাবিব : আপনাকেও। রাইজিংবিডিকে নিরন্তর  শুভেচ্ছা।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭/সাইফ/এসএন

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন