ঢাকা, সোমবার, ৪ ফাল্গুন ১৪২৬, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

বই পড়লে চুল কাটায় মূল্যছাড়!

অন্য দুনিয়া ডেস্ক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০১-১৬ ২:২২:৪৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০১-১৬ ২:২৩:২৩ পিএম

ছোট্ট একটি ঘরে আব্রাহাম লিঙ্কনের জীবনী থেকে শুরু করে রয়েছে তামিল ও ইংরেজি ভাষায় প্রায় আটশ বই।  সৃজনশীল ছাড়াও রয়েছে মননশীল বই।  আপনি হয়তো ভাবছেন এটি একটি লাইব্রেরি।  হ‌্যাঁ, লাইব্রেরি বটে, তবে এর অবস্থান একটি সেলুনের ভেতরে।

শহরের অন‌্য দশটা সেলুনের সঙ্গে পার্থক্যটা হচ্ছে, সেখানে একটি মিনি লাইব্রেরি গড়ে তোলা হয়েছে।  তাও আবার গ্রাহকদের কথা বিবেচনা করে।  গ্রাহক এই লাইব্রেরির কোনো বই ৩০ মিনিট পড়লেই মেলে চুল কাটায় ৩০ রুপি মূল্যছাড়!

লাইব্রেরি সুবিধাযুক্ত সেলুনের নাম ‘সুশীল কুমার বিউটি সেন্টার’।  ভারতের দক্ষিণ তামিলনাড়ুর পোর্ট সিটির থুটুকুড়ি এলাকায় অবস্থিত এই সেলুনের মালিক ৩৭ বছর বয়সি পন মারিয়াপ্পান।  তিনি নিজে পড়াশোনা করেছেন ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত।  তবে পড়ার আগ্রহ এখনও তার যায়নি।  বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে অনেকেরই বই পড়ার অভ্যাস কমে যাচ্ছে।  স্থানীয় মানুষের বই পড়ার অভ্যাস ফিরিয়ে আনতে সেলুনেই লাইব্রেরি গড়ে তুলেছেন তিনি।  পাশাপাশি বই পড়ায় উৎসাহিত করতে দিচ্ছেন মূল্যছাড়।

গরিব হওয়ায় ১৯৯৬ সালে স্কুল ছেড়েছেন মারিয়াপ্পান।  এরপর ১৮ বছর নানা ধরনের কাজ করেছেন।  ২০১৪ সালে পারিবারিক এই পেশায় যুক্ত হন।  প্রথমে তিনি মাত্র ১০টি বই নিয়ে সেলুনে মিনি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করেন।  এর আরেকটি কারণ ছিল গ্রাহক যেন কোয়ালিটি টাইম কাটাতে পারেন।  অপেক্ষা করে বিরক্ত হওয়ার বদলে যেন বই পড়ে সময় কাটান।  আমাদের দেশে যে কারণে অধিকাংশ সেলুনে দৈনিক পত্রিকা রাখা হয়।

পাঁচ বছর পর সেই মিনি লাইব্রেরিতে এখন বইয়ের সংখ্যা আটশ ছাড়িয়েছে।  তরুণদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে মারিয়াপ্পানের এই প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানাতে থুটুকুড়ির সাংসদ থেকে শুরু করে পাবলিক লাইব্রেরির কর্মকর্তারা তার সেলুন পরিদর্শন করেছেন।

ডেকান হেরাল্ডকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মারিয়াপ্পান বলেন, ‘সবচেয়ে দারুণ বিষয় হলো আমার দোকানে যারা আসেন, তারা মোবাইল ফোন বাসায় রেখে আসেন।  অনেক অভিভাবক সন্তানকে আমার দোকানে পাঠায় যেন বই পড়ায় কিছুটা সময় কাটাতে পারে।’

শুধু বই নয়, সেলুনের দেয়ালে বিখ্যাত ব্যক্তিদের অনুপ্রেরণামূলক উক্তিও টানানো রয়েছে। মারিয়াপ্পান জানান, কিশোর বয়সে তার বই পড়ার সুযোগ হয়নি। কারণ তাকে স্কুল ছাড়তে হয়েছিল। আর পরবর্তী সময়ে কাজের জন্য চাকরি করতে হয়েছিল।  তিনি বলেন, ‘তবে বড় হওয়ার সাথে সাথে আমি বই পড়া শুরু করি।  আমার মনে হয়, বই মানুষকে অনেক কিছু শেখায় এবং জ্ঞানের দিক দিয়ে আরো বেশি সমৃদ্ধ করে।  এ কারণেই আমি সেলুনে একটি মিনি লাইব্রেরি স্থাপন করে বই পড়ায় মনোনিবেশ করেছি।  আমি চাই গ্রাহকও পড়াশোনায় মনোযোগী হোক। ’

মারিয়াপ্পান সেলুনে একটি রেজিষ্ট্রার খাতা রেখেছেন, যেন শিক্ষার্থীরা তাদের নাম এন্ট্রি করার পাশাপাশি যে বই পড়েছে সেই বই সম্পর্কে দু’কথা লিখে রাখে।  এবং লাইব্রেরি সম্পর্কে কোনো পরামর্শ থাকলে সেটাও উল্লেখ করে।




ঢাকা/ফিরোজ/তারা